kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

ধর্মপাশায় স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই জমজমাট গরুর হাট

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ   

৫ জুন, ২০২০ ০৮:৩৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধর্মপাশায় স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই জমজমাট গরুর হাট

হাওরাঞ্চলের সর্ববৃহৎ গরুর হাট হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা সদর বাজার করোনাকালীন লকডাউনের কারণে দীর্ঘ ৫৩দিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই জমজমাট হয়ে উঠেছে।

দীর্ঘদিন পর ওই বাজারে গরুর হাট বসায় হাজার-হাজার গরুর পাশাপাশি মানুষজনদের ছিল উপচেপড়া ভিড়। গরু ব্যবসায়ী ছাড়াও স্থানীয় লোকজন গবাদিপশু নিয়ে ভোর থেকে এখানে চলে আসেন। সারাদিন থেমে থেকে বৃষ্টি হলেও জমে উঠেছিল গবাদিপশু বেচাকেনা। 

স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা রা মাস্ক ব্যবহার নিয়ে কারও কোনও মাথাব্যথা ছিল না। পরিবেশ দেখে অনেকে মন্তব্য করেন, মনে হচ্ছে করোনাভাইরাস বলতে কিছু আছে বলে এখানকার লোকজনের জানা নেই। আর এসব বিষয় নিয়ে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের প¶ থেকেও নেওয়া হয়নি যথাযথ ব্যবস্থা।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সুনামগঞ্জ জেলা শহরসহ সব ক’টি উপজেলাই লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এর পর থেকে উপজেলা প্রশাসন তৎপর হয়ে উঠে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষজনকে ঘর থেকে বের না হওয়াসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকলকে চলাচল করার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখানকার ১০টি ইউনিয়নে মাইকিং করা হয়। বন্ধ হয়ে যায় স্বাভাবিক যান চলাচলও। সবকিছু ঠিকঠাকমতো চললেও সরকারের পক্ষ থেকে লকডাউনকে শিথিল করা হয়। আর এই সুবাদে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে স্থানীয় এলাকার লোকজনসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ট্রাকে করে গরু নিয়ে আসা হয় হাওরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ওই গরুর হাটে।

ওই গরুর হাটে একটি গাভী কিনতে আসা পাশের বারহগাট্টা উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহীন মিয়া বলেন, একটি গাভী কেনার জন্য এই গরুর হাটে আসছিলাম। কিন্তু এখানে গবাদি পশুসহ মানুষজনদের ভীড় আর ঠেলাঠেলি দেখে করোনার ভয়ে আমার আর গাভী কেনা হলোনা ।

গরুর হাটে আসা মোহনগঞ্জ পৌর শহরের মাইলোড়া এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, লোকজনদেরকে দেখে মনে হয়েছে করোনাভাইরাস নামক কোনো ব্যাধি পৃথিবীতে নেই। মানুষজনদের ঠেলাঠেলির কারণে সামাজিক দূরত্ব মানাতো দূরের কথা কোনো বাজারে আসা খুব কম সংখ্যক লোককেই মাস্ক ব্যবহার করতে দেখেছি। তবে তাদের মধ্যেও প্রায় সবার মাস্ক মুখে না দিয়ে গলায় ঝুলিয়ে রাখতে দেখা গেছে। তিনি বলেন, ওই হাটে করোনার সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। তাই এসব বিষয়ে ওই হাটে প্রশাসনের নজরদারী বাড়ানো খুবই জরুরী ছিল বলে আমি মনে করি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনতাসির হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, মূলত আমি এখানে নতুন এসেছি। এখানকার হাট বাজারসহ অনেক কিছুই আমার জানা নেই। গরুর হাটে এতো লোকের উপস্থিতির বিষয়টি আগে কেউ আমাকে জানায়নি। মানুষজন যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করেন সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবরকম প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আগামী হাটবারে যাতে এমনটি না হয় এই বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা