kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

সুরাইয়া যেন ‘আঁধার ঘরে চাঁদের আলো’

চন্দন দাস, বাঘারপাড়া (যশোর)   

৪ জুন, ২০২০ ২৩:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুরাইয়া যেন ‘আঁধার ঘরে চাঁদের আলো’

সুরাইয়া

অভাবের সংসারে তিন বেলা ঠিকমত পেটে ভাত জোটেনি। ভালো কোনো পোশাকও পড়াতে পারেননি বাবা-মা। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ভ্যানচালক বাবাকে চার সদস্যের সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবুও স্বপ্ন দেখেছে মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করার। প্রথম ধাপে তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে মেয়ে সুরাইয়া।

এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগ হয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে সুরাইয়া। এ যেন আঁধার ঘরে চাঁদের আলো। মেয়ের এ অভূতপূর্ব সাফল্যে ভ্যানচালক বাবা মনিরুল শিকদার ও মা কোহিনুর বেগমের চোখে তাই স্বস্তি আর শান্তির চিহ্ন। অভাব অনটন আর নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হলেও সুরাইয়া তার বাবা-মা’র স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। দুই ভাই-বোনের মধ্যে সুরাইয়া বড়। তার একমাত্র ছোট ভাই তানভীর রহমান তাসিন প্রথম শ্রেণীর ছাত্র।

সুরাইয়ার বাবা মনিরুল শিকদার বলেন, ‘অর্থের অভাবে আমি লেখাপড়া শিখতে পারিনি। সারা দিন ভ্যান চালিয়ে কঠিন পরিশ্রম করে চার সদস্যের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবুও মেয়ের পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ দেখে লেখাপড়া বন্ধ করিনি। কখনো ভাবিনি মেয়ে এত ভালো রেজাল্ট করবে’।

মা কোহিনুর বেগম বলেন, ‘অভাবের সংসারে কখনো কখনো না খেয়ে থাকতে হয়েছে। প্রতিবেশীর কাঁথা সেলাই করেছি মেয়ের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে। আলোর অভাবে রাতে ঠিকমত পড়তে বসতে পারেনি। ওর বাবার ভ্যানে ব্যবহৃত বাতি খাটিয়ে পড়তে বসেছে কখনো কখনো’। 

সুরাইয়া খাতুন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ঠিক এভাবে, ‘বাবা-মা অনেক কষ্ট করছে আমার জন্য। তাই তাঁদের কষ্ট দূর করতে আমি লেখাপড়া চালিয়ে যাব। এক দিন ভালো চাকরি করে বাবা-মা’র মুখে হাসি ফুটাব। সেক্ষেত্রে বেছে নেব শিক্ষকতা পেশা’। এ সময় ভালো ফলাফলের জন্য বাবা-মা’র পাশাপাশি স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ শ্রেণী শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সুরাইয়া খাতুন।

এ বিষয়ে নারিকেলবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমদাদ হোসেন বলেন, ‘সুরাইয়া মেধাবি মেয়ে। লেখাপড়ার প্রতি খুব আগ্রহ তার। মনোযোগীও ছিল। নিয়মিত স্কুলে আসত সে। আমি তার সাফল্য কামনা করি’।

জানতে চাইলে স্থানীয় নারিকেলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের আবুল সরদার বলেন, ‘সুরাইয়া আমাদের ইউনিয়নের গর্ব। অভাব অনটনের মধ্যে ভালো রেজাল্ট করেছে সে। আমি তার পরিবারের জন্য সাধ্যমত সহযোগীতা করার চেষ্টা করব’।

এদিকে ভালো রেজাল্টের আনন্দে ভাসলেও সুরাইয়ার বাবা-মা’র মুখে দেখা গেছে হতাশার চিহ্ন। মেয়েকে কলেজে ভর্তিসহ পরবর্তীতে লেখাপড়া চালিয়ে নেওয়ার খরচ কিভাবে জোগাবেন-তা নিয়েই দেখা দিয়েছে এই হতাশা। আয়ের উৎস বলতে একটি মাত্র ভ্যানগাড়ি। যা তিনি কিস্তিতে ক্রয় করেছেন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা