kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

প্রেমে ব্যর্থ হয়ে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল কেয়াকে!

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি   

৪ জুন, ২০২০ ১৪:৫৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রেমে ব্যর্থ হয়ে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল কেয়াকে!

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের দাদপুর গ্রামে ৩ বন্ধু মিলে ধর্ষণ করে নববধূ কেয়ার লাশ মাটিচাপা দেয় ব্যর্থ প্রেমিক মিলন ও তার সহযোগিরা। লাশ উদ্ধারের ৩ মাস পর হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করল ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যাকারী ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধী দিয়েছে। 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, কালীগঞ্জের ত্রীলোচনপুর গ্রামের সলেমান হোসেনের ছেলে মিলন হোসেন (২৬), একই গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে ইসরাফিল (২৫) ও আজগর আলীর ছেলে আজিম (২৬)।

জানা যায়, চলতি বছরের ১৩ মার্চ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার দাদপুর গ্রামের একটি রাস্তার পাশ থেকে চুলের ক্লীপ, মাথার চুল ও একটি স্যান্ডেল পাওয়া যায়। যার সূত্র ধরে ওই গ্রামের মাঠের মধ্যে থেকে কলাগাছ ও গাছের পাতার নিচে মাটিতে পুঁতে রাখা গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে লাশটি কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর গ্রামের আব্দুস সামাদের মেয়ে কেয়া খাতুনের বলে পরিচয় শনাক্ত করে নিহতের স্বজনরা। যিনি ১৭ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন।

ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মো. হাসানুজ্জামান বলেন, লাশ উদ্ধারের পর হত্যার মোটিভ উদ্ধার ও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। কেয়ার বিয়ের আগে ও পরে নানা বিষয়ে পর্যালোচনা শুরু করা হয়। এতে জানা যায়, নিহত কেয়ার সাথে ৩ বছর আগ থেকেই একই গ্রামের সলেমানের ছেলে মিলন হোসেনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবার থেকে একই উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের মাইক্রোচালক সাবজাল হোসেনের সাথে কেয়াকে বিয়ে দেয়। কেয়ার বিয়ে দেওয়ার পর মিলন হোসেন প্রেমে ব্যর্থ হয়ে এ ঘটনা ঘটাতে পারে এমন সন্দেহে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর এলাকায় ছদ্দবেশে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

কয়েকদিনের অভিযানের এক পর্যায়ে ১৬ মার্চ জীবননগরের হাসাদাহ এলাকা থেকে মিলনকে আটক করা হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রশ্নবানের একপর্যায়ে মিলন হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধী প্রদাণ করে এবং তার সাথে ইসরাফিল ও আজিম জড়িত এমন তথ্য প্রদান করে। স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্ধী দিয়েছে।

হত্যার দিনের ঘটনার বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, আসামিদের আলাদা আলাদা জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৮ টার দিকে কেয়া খাতুনকে ব্যার্থ প্রেমিক মিলন তার বাবার বাড়ি থেকে ফুসলিয়ে ডেকে নিয়ে যায়। বাড়ি থেকে ২ কিলোমিটার দূরের মাঠের মধ্যে নিয়ে গিয়ে প্রথমে মিলন তাকে ধর্ষণ করে। পরে একে একে আজিম ও ইসরাফিল তাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর মিলন বাশের লাঠি দিয়ে কেয়ার মাথায় আঘাত করে হত্যা করে। সেখানে পাশের বাড়ি থেকে একটি কোদাল এনে রাস্তার পাশে মাটিচাপা দিয়ে কলাগাছ ও কলাগাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রেখে পালিয়ে যায়। প্রেমে ব্যার্থ হয়েই মিলন অন্য সহযোগিদের নিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার এসআই কাজী আবুল খায়ের বলেন, প্রযুক্তির সহায়তায় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ছদ্মবেশ ধারণ করেন জীবননগর, ঢাকা ও কালীগঞ্জ থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করেছি। আসামিরা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে। তাদের জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে। 

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহা মাহফুজুর রহমান মিয়া বলেন, মূলত মামলাটি ছিল ক্লুলেস। ক্লুলেস মামলা তদন্ত করে প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার করা অনেক কঠিন বিষয়। কিন্তু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল খায়ের কঠোর পরিশ্রম, দায়িত্ব ও নিষ্ঠার সাথে মামলাটি তদন্ত করে প্রকৃত ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দীও দিয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা