kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

করোনাকালেও রংপুর বিভাগে সাত ইউএনও বদলি

অভিযুক্তদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেই

রংপুর অফিস   

৪ জুন, ২০২০ ০৭:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাকালেও রংপুর বিভাগে সাত ইউএনও বদলি

করোনাক্রান্তির মধ্যেই রংপুর বিভাগের সাত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে। ১০ দিনের ব্যবধানে তিনটি প্রজ্ঞাপনে ওই বদলি আদেশের মধ্যে তিন ইউএনও’র বদলি বাতিল এবং এক ইউএনওকে দু’বার বদলি করা হয়েছে। অথচ বিভাগের আট জেলায় একাধিক ইউএনও’র বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তাদের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের ২২ এপ্রিল ও ৩ মে রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার জনস্বার্থে তিনটি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সাতজন ইউএনওকে বদলি করেন। এর মধ্যে তিনজনের বদলির আদেশ বাতিল ও একজনকে দু’বার বদলি করেছেন। গত ৭ মে বিভাগীয় কমিশনার কে এম তারিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে রংপুরের বদরগঞ্জের ইউএনও নবীরুল ইসলামকে কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের ইউএনও রবিউল হাসানকে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে, দিনাজপুরের বিরামপুরের ইউএনও তৌহিদুর রহমানকে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে এবং কুড়িগ্রামের রাজীবপুরের ইউএনও মেহেদী হাসানকে রংপুরের বদরগঞ্জে বদলি করা হয়। ওই আদেশের ৫ দিন পর ১২ মে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ইউএনও রামকৃষ্ণ বর্মনকে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে, গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর ইউএনও মেজবাউল হোসেনকে দিনাজপুরের হাকিমপুরে এবং দিনাজপুরের হাকিমপুরের ইউএনও আব্দুর রাফিউল আলমকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বদলি করা হয়।

১৭ মে আরেক প্রজ্ঞাপনে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর ইউএনও মেজবাউল হোসেনের দিনাজপুরের হাকিমপুরের বদলির আদেশ বাতিল করে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে তাকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। সেইসাথে গোবিন্দগঞ্জের ইউএনও রামকৃষ্ণ বর্মনকে পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে এবং দিনাজপুরের হাকিমপুরের ইউএনও আব্দুর রাফিউল আলমকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় বদলির আদেশ বাতিল করা হয়। 

জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জের সরকারি ৬০টি জলমহাল ইজারা নিতে এক কোটি তিন লাখ ৯৬ হাজার ৩২০ টাকা ডাক উঠলেও ইউএনও রামকৃষ্ণ বর্মন তা ইজারা দেননি। মাত্র ১৮ লাখ ৬২ হাজার ৭৮১ টাকায় উপজেলা প্রশাসন ওই জলমহালগুলো ইজারা দেয়। এ নিয়ে গত ৭ মে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছে ইজারাবঞ্চিত মৎস্যজীবিরা লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অন্যদিকে দিনাজপুরের বীরগঞ্জের ইউএনও ইয়ামিন হোসেনের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি ও অপকর্মের ব্যাপারে ১২ জন ইউপি চেয়ারম্যান জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রংপুরের পীরগঞ্জের ইউএনও’র বিরুদ্ধেও ‘জমি আছে ঘর নেই’ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ এবং ত্রাণ বিতরণে দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনও পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বদলি হওয়া এক ইউএনও বলেন, আমাদের চাকরীটাই বদলিযোগ্য। যার অর্ডার করার অথরিটি আছে, তিনি তো অর্ডার করতেই পারেন। সাজানো কর্মস্থল ছেড়ে নতুন কর্মস্থলে হঠাৎ করে কাজ করতে কিছুটাতো সমস্যা হবেই। তবে বর্তমান করোনাকালে হয়তো অনেকেই (বিভাগীয় কমিশনার) ইউএনওদের বদলি করেননি।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কে এম তারিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে নয়, প্রশাসনিক ধারাবাহিকতায় বদলি করা হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জের ইউএনও রামকৃষ্ণ বর্মনের ব্যাপারে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ ছিল আপিলে তা নিষ্পত্তি হয়েছে। আর সেখানে মৎস্যজীবী সমিতির নিবন্ধনে ত্রুটি ছিল বলেই তারা জলমহাল ইজারা পায়নি। তবে সরকারের রাজস্ব কম হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন পেলে বোঝা যাবে কী হয়েছে। দিনাজপুরের বীরগঞ্জের ইউএনও’র বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানান বিভাগীয় কমিশনার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা