kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরুত্ব কিছুই মানা হচ্ছে না কেরানীগঞ্জে

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি    

৪ জুন, ২০২০ ০২:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরুত্ব কিছুই মানা হচ্ছে না কেরানীগঞ্জে

জীবন ও জীবিকার তাগিদে সরকার গত ৩১ মে থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সব কিছু খুলে দিয়েছে। সারা দেশের ন্যায় কেরানীগঞ্জেও খোলা হয়েছে মার্কেট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গণপরিবহন। তবে সরকারের দেওয়া বিধিনিষেধ ও শর্ত মানা হচ্ছে না।

কেরানীগঞ্জে স্বাস্থ্যবিধি কিংবা সামাজিক দূরুত্ব কিছুই মানা হচ্ছে না। তাই এ পর্যন্ত ৫০০ ছাড়িয়েছে কেরানীগঞ্জে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। প্রতিদিনই কেরানীগঞ্জে বাড়ছে করোনা রোগী।

সরেজমিন কেরানীগঞ্জের জিনজিরা, কদমতলী, আটি বাজার, রামেরকান্দা, শুভাঢ্যাসহ বেশ কিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কে বিপুলসংখ্যক সিএনজি, অটোরিকশা চলাচল করছে। অধিকাংশের মুখেই মাস্ক নেই। রাস্তা-ঘাটে একসঙ্গে জটলা করে চলছে চলাফেরা ও আড্ডা।  সিএনজিগুলোতেও আগের মতো পাঁচজন যাত্রীই গাদাগাদি করে উঠানো হচ্ছে। রাস্তাঘাটে যানবাহনের ভিড় বেড়েছে আগের চেয়ে বেশি। কেরানীগঞ্জের কমবেশি সব এলাকাতেই এমন চিত্র। কোথাও মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরুত্ব।

কেরানীগঞ্জের অলি-গলিতেও এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। চায়ের দোকানে দোকানে ভিড় করছে মানুষ। যেন তারা নির্বাচনী আমেজে রয়েছে। পাশাপাশি অনেকেই গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে থাকছে। গলির মোড়ে মোড়ে জড়ো হয়ে আড্ডা দিচ্ছে অনেকে এদের অধিকাংশের মাস্ক ছাড়া। কেরানীগঞ্জের জনসাধারণের চিত্র দেখে বোঝা মুশকিল দেশে করোনাভাইরাস নামে ভয়াবহ সংক্রমণ ব্যধি হানা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেরানীগঞ্জে ভাসমান জনসংখ্যা বেশি হওয়ার কারনে এ চিত্র দেখা যায়। জিনজিরা পী এম পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. আবু বক্কর সিদিক বলেন, করোনাভাইরাসে কেরানীগঞ্জ ইতিমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। 

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই কেরানীগঞ্জকে করোনার হটস্পট হিসাবে ঘোষণা করেছেন। সব কিছু খুলে দেওয়ার পরে কেরানীগঞ্জবাসীর এই অসতর্কতা কেরানীগঞ্জকে আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সামনের দিনগুলোতে কেরানীগঞ্জের করোনা পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে। 

এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ বলেন, আমাদের দুই এসিল্যান্ড করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাসায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাই ডিসি অফিস থেকে একজন বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়া হয়েছে আমাদের। যারা স্বাস্থ্যবিধি মানছে না তাদেরকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

পুলিশ, সেনাবাহিনী টহল অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো যখন ম্যাজিস্ট্রেট বা পুলিশ টহল থাকে তখন সবাই যতটুকু সম্ভব স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে। কিন্তু তারা চলে গেলেই আবার আগের মতো অসচেতন হয়ে যায়। সাধারণ জনগণ চোর-পুলিশ খেলছে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি না মানাতে তারা নিজেদেরই বিপদে ফেলে দিচ্ছে।

আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সবার আগে প্রতিটি জনগণকে নিজ থেকে সচেতন হতে হবে। একমাত্র ব্যক্তি সচেতনতাই পারে আমাদের করোনার হাত থেকে রক্ষা করতে। এই সময়টা যদি জনসাধারণ স্বাস্থ্যবিধি না মানে আগামী দিনগুলো আমাদের জন্য আরো ভয়াবহ হবে। তাই সবাইকে অনুরোধ করছি ঘর থেকে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলুন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা