kalerkantho

বুধবার । ২৪ আষাঢ় ১৪২৭। ৮ জুলাই ২০২০। ১৬ জিলকদ  ১৪৪১

বিনা নোটিশে ৫০ দেয়ালে পৌরসভার হাতুড়ির আঘাত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

৩ জুন, ২০২০ ২১:১৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিনা নোটিশে ৫০ দেয়ালে পৌরসভার হাতুড়ির আঘাত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার মালদারপাড়ার অন্তত ৫০টি দেয়ালে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত হেনেছে পৌরসভা। একইসঙ্গে এসব দেয়াল মালিকদের নিজেদের উদ্যোগে ভেঙে ফেলতে এক সপ্তাহের সময় বেধে দেওয়া হয়েছে।

পৌরসভা সূত্র জানায়, রাস্তা প্রসস্থ করতে এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতেই এ ধরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিছু রাস্তা আগেই প্রসস্থ করা হয়েছে। আলোচনার পর বাড়ির মালিকদেরকে নোটিশও দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন পৌর কর্তৃপক্ষ।

তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, হুট করেই পৌরসভায় কর্মরতরা শ্রমিক নিয়ে এসে দেয়াল ভাঙার কাজ শুরু করেন। এতে সবার মাঝে আতঙ্ক দেখা দেয়। হাতুড়ির আঘাতে বিভিন্ন দেয়াল ছিদ্র হয়ে পড়ায় বাড়ি ও দোকান নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুধবার সকালে পৌর কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে আখাউড়া সড়ক বাজার থেকে মালদার ঢোকার পথে রাস্তার আশেপাশের ৪০টির উপরে বাড়ি ও দুইটি দোকানের দেয়ালে ভাঙচুর চালায়। সীমানা দেয়াল ও ঘরের দেয়ালের কিছু কিছু অংশ ভেঙ্গে দেন সংশ্লিষ্টরা। রাস্তা নির্মাণের স্বার্থে ভেঙে দেওয়া দেয়াল এক সপ্তাহের মধ্যে সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদেরকে বলে দেওয়া হয়।

নিমাই মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক মিঠু ঘোষ ও একটি শিল্পালয়ের মালিক নিরঞ্জন পাল জানান, পৌরসভা রাস্তা বাড়ালে তাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু কোনো ধরণের নোটিশ ছাড়াই হুট করে দেয়াল ভেঙ্গে দেওয়ায় দোকান নিয়ে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়েছেন।

সালাউদ্দিন খোকন নামে এক বাসিন্দা জানান, রাস্তার পাশেই তার বহুতল ভবন করার সময় দেড় ফুট জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন। পৌর কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে আলোচনা করলে জায়গা ও ভবন বাবদ ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়। তখন বলা হয়, পৌরসভা যদি ভেঙে তাহলে উল্টো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। বুধবার কোনো ধরণের আলোচনা কিংবা নোঠিশ ছাড়াই বাড়ির দেয়ালের কিছু অংশ হাতুড়ি দিয়ে ভেঙ্গে ফেল হয়।

অভিযানের সময় থাকা পৌরসভার উপ-সহকারি প্রকৌশলী ফয়সাল আহম্মেদ জানান, এলাকার মানুষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ওই এলাকার রাস্তাটি প্রসস্থ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ১১০ ফুট রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে। বাকিটার জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আশেপাশের লোকজন জায়গা ছাড়ছেন না বলে কাজ করা যাচ্ছে না। আমরা সবাইকে নোটিশ দিয়েছি। যদি কেউ পেয়ে না থাকে তাহলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা