kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

৬ মাস পর সরানো হলো অবরুদ্ধের টিন

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ   

৩ জুন, ২০২০ ১৯:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৬ মাস পর সরানো হলো অবরুদ্ধের টিন

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানা সদর এলাকায় অবশেষে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবরুদ্ধ পরিবারটি মুক্তি পেয়েছে। গত প্রায় ৬ মাস ধরে ঘরের তিন পাশে টিনের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ ছিল।

উপজেলার মধ্যনগর থানা সদরের মাইজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী বিজয় সরকারের (৬০) দায়েরকৃত একটি লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান মধ্যনগর থানা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়ির তিন পাশ থেকে প্রতিপক্ষের দেওয়া টিনের বেড়াগুলোকে অপসারণ করে পরিবারটিকে মুক্ত করে দেন।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ভূমিহীন হিসেবে বিজয় সরকার ২০১৬ সালে উপজেলার মধ্যনগর থানা সদর ইউনিয়নের বৈঠাখালী মৌজার ১নং খতিয়ানের ১০৩/৩১৯ নং দাগে ০.৫৫ একর খাস ভূমি সরকারি বিধি মোতাবেক ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত নিয়ে সেই ভূমিতে বতসঘর নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। আর তার বসতঘরের পূর্ব পাশে স্থানীয় রামকৃষ্ণ মিশনের আশ্রম অবস্থিত। ওই রামকৃষ্ণ মিশনের সাধারণ সম্পাদক দাবিদার গোপেশ সরকার, মধ্যনগর থানা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দেবল কিরণ তালুকদার ও হরিপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃদুল সরকার রামকৃষ্ণ মিশনের দোহাই দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিজয় সরকারের উঠানের জায়গা দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসচ্ছিলেন। এক পর্যায়ে তারা গত প্রায় ছয় মাস আগে শ্রমিক নিয়োগ করে বিজয় সরকারের বসতঘর ঘেঁষে পূর্ব ও দক্ষিণ পাশে উচু করে টিনের বেড়া দিয়ে বিজয় সরকারের পরিবারটিকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

অভিযুক্ত গোপেশ সরকার বলেন, প্রতিষ্ঠানের লোকজন বেড়া দিয়েছে। তবে কে বা কারা দিয়েছে তা জানি না। তবে আমার জানামতে বিজয়ের বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য রামকৃষ্ণ মিশনের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে।

টিনের বেড়া দেওয়ার ব্যাপারে তিনি জড়িত কি না তা স্পষ্ট না করে অভিযুক্ত দেবল কিরণ তালুকদার বলেন, আমি আশ্রমের সদস্য, কমিটির কেউ না। আশ্রমের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে কিছুই জানি না।

বিদ্যুৎ কান্তি সরকার বলেন, আমি অন্য দশজনের মতো সালিশে উপস্থিত ছিলাম। এ ঘটনার সাথে কোনোভাবেই আমি জড়িত না।

ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনতাসির হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালের কণ্ঠকে বলেন, কারো চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা বা কাউকে অবরুদ্ধ করে রাখা খুবই অন্যায়। তাই অভিযোগের ভিত্তিত পুলিশকে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতেই বিজয় সরকারের বসতঘরের চার পাশ থেকে টিনের বেড়া অপসারন করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা