kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

আতঙ্কে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

এবার চট্টগ্রামে কাস্টমস কর্মকর্তার করোনায় মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৩ জুন, ২০২০ ১৪:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এবার চট্টগ্রামে কাস্টমস কর্মকর্তার করোনায় মৃত্যু

নভেল করোনাভাইরাস ডিজিজ ২০১৯ (কভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের এক রাজস্ব কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন মজুমদারের মৃত্যু হয়েছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যু হয়। এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরে তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় মারা গেলেও কাস্টমস কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনা এই প্রথম। তার মৃত্যুর পর চট্টগ্রাম কাস্টমসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। জসীম উদ্দিন মজুমদারের বাড়ি ফেনির হাজারী রোডে; তার বয়স ৫৩ বছর। দেড় বছর ধরে তিনি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে কর্মরত আছেন। স্ত্রীসহ তার এক ছেলে এক মেয়ে আছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমজাদ হাজারী কালের কণ্ঠকে বলেন, আমি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার তিন দিন পর সহকর্মী জসীম উদ্দিন মজুমদার আক্রান্ত হয়। পরে ১৭ মে তাকে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় হাসপাতালে পাঠিয়ে দিই। ১৯ মে তার করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাতে সে মারা যায়। আমরা অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে শোক জানাচ্ছি।

কর্মরত অবস্থায় আক্রান্ত হয়ে এখন সুস্থের দিকে রাজস্ব কর্মকর্তা আমজাদ হাজারী বলেন, কাস্টমস কর্মকর্তারা যেহেতু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন; সে জন্য তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষার আওতায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করতে হবে। বন্দরে যেমন বিশেষ বুথ বসিয়ে নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে এমন ব্যবস্থা রাজস্ব আয়ে এককভাবে শীর্ষে থাকা চট্টগ্রাম কাস্টমসে দরকার।

জানা গেছে, এর আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর পরিবহন বিভাগের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মৃত্যু হয়। এ ছাড়া ৩০ মে পর্যন্ত কাস্টম হাউজ ও চট্টগ্রাম বন্দরের ৭০ কর্মকর্তা ও কর্মচারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে বেশির ভাগ বন্দরের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী। এ ছাড়া কভিড-১৯ এ আক্রান্তের উপসর্গ নিয়ে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন বন্দর-কাস্টমসের ৩০ জনের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী।

চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমের কর্মকর্তারা বলছেন, আমদানি-রপ্তানি পণ্য শুল্কায়নের জন্য আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা তা খালাসের জন্য বন্দরে আসেন। প্রতিদিন প্রায় ১২ হাজার সেবাগ্রহণকারী কাস্টম হাউজ ও বন্দরে আসার কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

তারা বলছেন, বিশেষ করে বন্দরের জেটি এলাকায় প্রতিদিন ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানচালক ও সহকারী, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, শিপিং এজেন্ট, ফ্রেড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টসহ বিভিন্ন সেবাগ্রহণকারীরা ভিড় করেন। ফলে এসব জায়গায় সব সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয় না। মূলত এসব কারণে এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা করোনা-আতঙ্কে ভুগছেন।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার ফখরুল আলম বলেন, সাধারণ ছুটির মধ্যেও সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি পণ্য খালাসে ২৪ ঘণ্টাই সচল ছিল চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ। প্রতিদিন প্রচুর সেবাগ্রহীতা সেবা নিতে আসার কারণে সব সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও আমরা বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ও আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সংক্রমণ কমানো গেছে। কিন্তু ইদানীং সেটা বেড়ে গেছে। এ জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পৃথকভাবে নমুনা সংগ্রহ বুথ স্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছি।

তিনি বলেন, ভিড় কমাতে কর্মকর্তাদের দুই শিফটে কাজ করানো হয়েছে। করোনা উপসর্গ দেখার সাথে সাথে সন্দেহজনক কর্মী ও সংশ্লিষ্ট গ্রুপ ও শিফটে দায়িত্বরতদের ছুটি ও হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা