kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

খানসামার কাজ করেও জিপিএ-৫ মাসুদ

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

৩ জুন, ২০২০ ১৪:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খানসামার কাজ করেও জিপিএ-৫ মাসুদ

মাসুদ ইসলাম। হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া তিন ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়। বাবা খাদেমুল ইসলাম পেশায় একজন রিকশাচালক। প্রায় ৩০ বছর ধরে রিকশার প্যাডেলে ঘুরিয়ে চলে তার সংসারের চাকা। বাবার মত মাসুদের জীবনও সংগ্রামে ঘেরা। সারাদিন রিকশা চালিয়ে বাবা যা আয় করতেন তা খুবই নগণ্য। অভাবের সংসারে একটু হলেও স্বচ্ছলতা আনতে পড়াশোনার পাশাপাশি সুযোগ পেলেই মাসুদ করতেন খানসামার কাজ। স্কুল বন্ধের দিনগুলোতে ছুটে যেতেন বিয়েসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের বাড়িতে।

মাসুদের পরিশ্রম ও ইচ্ছাশক্তি তাকে আজ সাফল্য এনে দিয়েছে। সার্থক হয়েছে তার সংগ্রাম। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাসুদ। ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার কাটাখালী মিছের খান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিদ্যালয়ের এ সাফল্য আসে তার। এলাকার সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে জিপিএ-৫ পাওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছে সে।

মাসুদ এখন পড়তে চায় ঢাকার সেন্ট যোসেফ কলেজে। মাসুদের এই সাফল্য আঁধার ঘরে আলোক রশ্মি ছড়ালেও অর্থাভাবে এখন প্রায় অনিশ্চিত তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন। মাসুদ স্বপ্ন দেখে বড় হয়ে সে ডাক্তার হবে, দেশের হতদরিদ্র মানুষদেরকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা দিবে। 

জিপিএ-৫ পাওয়া মাসুদ বলে, আমার বাবা-মা অনেক কষ্টে আমাকে পড়াশোনা করিয়েছে। বাবা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে রিকশা চালিয়ে সংসার ও আমাদের তিন ভাইয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতো। আমি ডাক্তার হয়ে বাবা মায়ের কষ্ট লাঘব করতে চাই। 

তিন ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে মাসুদের পিতা খাদেমুল ইসলামের কষ্টের সংসার। ২০ বছর আগে জীবিকার তাগিদে পঞ্চগড় সদর উপজেলার মালকাডাঙ্গা থেকে দোহারে আসেন তিনি। অনেক কষ্টে ধার দেনা ও কিস্তি নিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা কিনেছে খাদেমুল। যার কিস্তি এখনো বয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাকে। দারিদ্রতার সাথে তীব্র লড়াই করে জীবিকা নির্বাহ করলেও তিন সন্তানকেই করাচ্ছেন পড়াশোনা। কাটাখালী মিছের খান উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে তার মেঝ ছেলে মাসুদ এ প্লাস পেলেও বড় ছেলে নয়ন ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে পেয়েছেন এ গ্রেড। ছোট ছেলে সাগর হোসেনও পড়াশোনা করছেন একই বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণিতে।

মাসুদের বাবা খাদেমুল ইসলাম বলেন, আমি পড়ালেখা কিছুই জানি না। এককথায় নিরক্ষর, রিকশা চালিয়ে অনেক কষ্টে তিন সন্তানকে পড়াশোনা করাচ্ছি। কিন্তু আমি সবসময় চেয়েছি আমরা সন্তানেরা শিক্ষিত হোক। আমার মেঝ ছেলে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। বড় ছেলে এ গ্রেড পেয়েছে। আজ আমার পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। আমার ইচ্ছে মাসুদকে ডাক্তার বানানো। আমার সাধ আছে কিন্তু সাধ্য নেই। সরকার অথবা সমাজের বিত্তবানরা যদি আমাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে আমার এ স্বপ্ন হয়তো পূরণ হত।

কাটাখালী মিছের খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অহিদুল ইসলাম খান অনু বলেন, মাসুদ এবং নয়ন ওরা দুই ভাই আমাদের বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলো। মাসুদ জিপিএ-৫ পেয়েছে। ওর বড় ভাই ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে এ গ্রেড পেয়েছে। দারিদ্রতার সাথে লড়াই করলেও পড়াশোনায় খুব মনোযোগী ছিল ওরা। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমারা ওদেরকে সবসময় সহযোগিতা করেছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা