kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

এসএসসির ভালো ফলাফলে আসমানীর সামনে কালো মেঘ

নয়ন খন্দকার, কালীগঞ্জ   

৩ জুন, ২০২০ ১২:০৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এসএসসির ভালো ফলাফলে আসমানীর সামনে কালো মেঘ

পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের ‘আসমানী’ কবিতায় আসমানী ও তার পরিবারের যেসব বর্ণনা দিয়েছিলেন তার চেয়ে কোনো অংশে কম নয় ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের আসমানীর। আর এই আসমানীর গল্প ফুটে উঠেছে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর। গ্রামাঞ্চলসহ সারা কালীগঞ্জে আসমানীর গল্পই যেন শোনা যাচ্ছে। 

ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ডাউটি গ্রামের ওলিয়ার মোল্ল্যার মেয়ে ও কোলাবাজার ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী আসমানী। সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে আসমানী।

পিতা ওলিয়ার রহমান পরের জমিতে কামলা (দিনমজুর শ্রমিক) খাটেন।  বসতবাড়ির ৫ শতক জমি ছাড়া চাষযোগ্য জমি নেই ওলিয়ারের। সেখানেই ভাঙা মাটির দেয়াল ও বেড়ার একটি ঘর। এর পাশেই রয়েছে ছনের ছাউনি ও পাটকাঠি দিয়ে ঘেরা আরেকটি ঝুপড়ি ঘর। সেখানেই দুই ভাইবোন আর পিতা মাতাকে সাথে নিয়ে বসবাস আসমানীর।

প্রাইভেট পড়া তো দূরের কথা। অভাবের কারণে দু’বেলা ঠিকমত খাবারই জোটেনি আসমানীদের। শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে এ আসমানী এবার এসএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে  জিপিএ ৫ পেয়েছে। পরীক্ষার ভালো ফলাফলে সবাই যখন আনন্দ উল্লাসে মেতে রয়েছে সেখানে আসমানীর ভাল ফলাফল যেন কপালে কালো মেঘের ঘনঘটা হয়ে দেখা দিয়েছে।  

আসমানীর পিতা ওলিয়ার রহমান মোল্ল্যা জানান, আমার মেয়ে পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। সেটা কি জানিনা। তবে সবাই বলছে মেয়েতো ভালো ফল করেছে। শুনে খুব ভালো লাগছে যে, সবাই আমার মেয়ের সুনাম করছে। কিন্তু আমি তো এখন চিন্তায় আছি আগামীতে মেয়েকে কলেজে কিভাবে পড়াবো। এমন ক্ষমতা তো আমার নেই। 

তিনি আরো জানান, তার ২ মেয়ে ও এক ছেলে। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট ছেলে সাব্বির তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। ছেলে-মেয়ে স্ত্রীকে নিয়ে ছনের ঘরে তারা কোনোরকমে বসবাস করেন। এর মধ্যে কিভাবে তিনি মেয়েকে কলেজে পড়াবেন বলে চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে।

ওলিয়ার আরো জানান, অভাবের সংসারে মেয়ের লেখাপড়ার খরচ ঠিকমত যোগাতে পারিনি। টাকার অভাবে তার ভালো পোশাক ও স্কুলে যাওয়া আসার খরচ দিতে পারেনি। এখন শুনছি মেয়ে পরীক্ষায় ভালো করেছে। আগামীতে কিভাবে মেয়েকে পড়াবো তা ভাবছি।

কোলাবাজার ইউনাইটেড হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাব জোয়ার্দার জানান, আসমানী অত্যন্ত মেধাবী এবং ভদ্র। সে ক্লাসে সব সময় মনোযোগী থাকতো। সে জিপিএ-৫ অর্জন করায় বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-কর্মচারী অত্যন্ত খুশি। আমরা আসমানীকে নিয়ে গর্বিত। আগামীতে কিভাবে তার লেখাপড়া অব্যাহত রাখা যায় সে বিষয়েও আমরা পদক্ষেপ নিব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা