kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩০ আষাঢ় ১৪২৭। ১৪ জুলাই ২০২০। ২২ জিলকদ ১৪৪১

ঘাটাইলে ৭৫ বছরের বৃদ্ধা সরবানুর করোনা জয়

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

৩ জুন, ২০২০ ১১:২০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঘাটাইলে ৭৫ বছরের বৃদ্ধা সরবানুর করোনা জয়

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা সরবানু। তিনি গত ২ জুন টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টার থেকে করোনাভাইরাস মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সাইফুর রহমান খান।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের কাউটেনগর গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের স্ত্রী সরবানু। করোনা উপসর্গ দেখা দিলে তিনি ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা প্রদান করেন। নমুনা পরীক্ষায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রেরিত ফলাফলে তার করোনা পজেটিভ আসে। পরে গত ১৪ মে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি বিশেষ টিমের তত্ত্বাবধানে তাকে তার বাড়ী থেকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে প্রেরণ করেন। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শফিকুল ইসলাম জানান, ডাক্তারদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেয়ার পর দুদফা তার নমুনা ঢাকার মহাখালী আইপিএইচ সেন্টারে পাঠানো হয়। দুদফা নমুনা পরীক্ষার ফলাফলই নেগেটিভ আসে। সেই মোতাবেক গত ২ জুন তাকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়। 

সরবানু করোনা ডেডিকেটেড ইউনিট থেকে বের হওয়ার সময় হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক, নার্সসহ সকল কর্মীরা তাকে করতালি দিয়ে স্বাগত জানিয়ে বিদায় জানান।

করোনা জয়ী সরবানু বলেন, শুনেছি করোনা আক্রান্তরা রোগে বাঁচে কম। তাই প্রথমে ভয় লেগেছে। করোনা ধরা পড়ার পর আমাকে একা থাকতে হয়েছে। এই বয়সে একা থাকা ছিল খুবই কষ্টকর। তবুও একাই লড়ে গেছি। সব সময় পরিবার, চিকিৎসকদের পাশে পেয়েছি। শুরুতে কিছুটা ভয় পেলেও কখনও মনোবল হারাইনি। ডাক্তারের পরামর্শে সব সময় গরম পানির ভাপ নিয়েছি, ঔষধ খেয়েছি এবং নিয়ম মেনে চলেছি।

তিনি আরও জানান, শরীরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগ রয়েছে। এসব নিয়েই তিনি করোনা জয় করলেন। মনোবল থাকলে যে কেউ করোনা জয় করতে পারবেন।

উপজেলার সংগ্রামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম জানান, তাঁর অসুস্থ মেয়েকে চিকিৎসার জন্য সরবানু মেয়ের সাথে ঢাকায় অবস্থান করেন। পরে মেয়েটি ময়মনসিংহের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ধারণা করা হচ্ছে মেয়েকে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে তিনি সংক্রমিত হয়েছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা