kalerkantho

শনিবার। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৫ ডিসেম্বর ২০২০। ১৯ রবিউস সানি ১৪৪২

সাদ এরশাদের বাসভবন ঘেরাও, রংপুর জাপায় উত্তেজনা

রংপুর অফিস   

৩ জুন, ২০২০ ১১:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাদ এরশাদের বাসভবন ঘেরাও, রংপুর জাপায় উত্তেজনা

রংপুর-৩ (সদর) আসনের এমপি সাদ এরশাদের পল্লী নিবাস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন জাপা নেতা টিপু সুলতান টিটোর সমর্থকরা। এর আগে সাদ এরশাদকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে টিটোকে আটক করে পুলিশ। 

মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে রংপুর নগরীর দর্শনা এলাকায় সাদ এরশাদের বাসভবন পল্লী নিবাসে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বাসভবনের নিচ তলার চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করা হয়। তবে রংপুর মেট্রোপলিটান পুলিশের তাজহাট থানার ওসি রোকনুজ্জামান জানান, জাপা নেতা টিটোকে আটক নয়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।

জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা জানান, রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান টিটো দলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাদ এরশাদের বাসভবনে যান। এ সময় সংসদ সদস্য ও এরশাদপুত্র সাদ এরশাদ এবং তার স্ত্রী বাসার নিচতলার বৈঠকখানায় বসেছিলেন। তখন টিটো একটি ডিও লেটারে এমপির স্বাক্ষর নিতে গেলে তার এপিএস প্রিন্স ও অপর একজন টিটোর হাত থেকে ডিও লেটার কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন। এ নিয়ে টিটোর সঙ্গে তাদের হাতাহাতিও হয়। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা এমপি সাদ এরশাদকে ধাক্কাধাক্কি করেন। 

খবর পেয়ে পুলিশ এসে টিটোকে আটক করে তাজহাট থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনা জানাজানি হলে টিটো সমর্থিত জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা পল্লী নিবাস বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় জাপা, যুবসংহতি ও ছাত্র সমাজের নেতাকর্মীরা এসে পল্লী নিবাসের সামনে রাস্তা অবরোধ করেন এবং টিটোর মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন।

রাত ১১টার দিকে টিটো সমর্থিত জাপা নেতাকর্মীরা পল্লী নিবাসের ফটকের সামনে সমাবেশ করেন। সেখানে বক্তব্য রাখেন যুব সংহতির রংপুর মহানগর শাখার সভাপতি শাহিন হোসেন জাকির, সাধারণ সম্পাদক শান্তি কাদেরিসহ কয়েকজন নেতা। তারা অভিযোগ করেন, এরশাদ মারা যাওয়ার পর সদর আসনে সাদ এরশাদকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। দলের সব নেতাকর্মীরা উপনির্বাচনে তার পক্ষে জীবন বাজি রেখে কাজ করেন। তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হন। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর সাদ এরশাদ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন না। মূল্যায়ন করেন না; বরং প্রিন্স নামে অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে এপিএস বানিয়ে তাকে দিয়ে সব কাজকর্ম করান। এজন্য টিটোর মুক্তি এবং সাদ এরশাদের এপিএস প্রিন্সকে অবাঞ্ছিত ঘোষণাসহ গ্রেপ্তারের দাবি করেন তারা।

এ বিষয়ে সিটি মেয়র ও রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে আজ বুধবার বিষযটি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেন তিনি। সাদ এরশাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এদিকে তাজহাট থানার ওসি রোকনুজ্জামান আজ বুধবার সকালে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে পল্লী নিবাস এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা