kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

করোনা : প্লাজমা প্রয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা রংপুরে

রংপুর অফিস   

৩ জুন, ২০২০ ০৯:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা : প্লাজমা প্রয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা রংপুরে

করোনা প্রতিরোধে প্লাজমা থেরাপি মেশিন নেই রংপুরে। ফলে কভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠা রোগীর রক্ত থেকে প্লাজমা নিয়ে আক্রান্ত রোগীর দেহে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, খুব দ্রুত সভা করে প্লাজমা মেশিনের চাহিদাপত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তবে সুস্থ হওয়া রোগীর অনেকেই প্লাজমা দিতে আগ্রহ নেই বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

রংপুর স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি স্থানে করোনা রোগীদের প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হচ্ছে। এতে আক্রান্ত রোগীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেন। কিন্তু রংপুরে প্লাজমা মেশিন না থাকায় ওই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন করোনা আক্রান্ত রোগীরা। যদিও ২০ বছরের নিচে এবং ৫০ বছরের উর্ধে মানুষের দেহ থেকে প্লাজমা নেওয়া যাবে না। এছাড়া গর্ভবতীসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের থেকেও রক্ত নেওয়া সম্ভব নয়।

রংপুর বিভাগের আট জেলায় এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩০০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এর মধ্যে ৫০ বছর বয়সের বেশি রোগীর সংখ্যা শতাধিক। ২০ বছরের নিচে রোগীর সংখ্যা প্রায় ২৫ জন। এছাড়া অন্যান্য রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৫০ জন। সাড়ে ৩০০ সুস্থ রোগীর প্রায় ২০০ রোগীই বিভিন্ন কারণে রক্ত দেওয়ার অনুপযোগী। বাকি যারা রয়েছে তাদের অনেকেই আবার রক্ত দিতে আগ্রহী নয়। সে কারণে রংপুরে প্লাজমা মেশিন আনা অনেকটা গুরুত্বহীন মনে করছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে করোনা আক্রান্ত রোগীর স্বজনরা মনে করছেন, রংপুরে প্লাজমা মেশিন আনা হলে অনেক রোগীই উপকৃত হবেন।

চিকিৎসকরা জানান, করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হলে তার রক্তে এক প্রকার এন্টিবডি তৈরি হয়। রক্তের হলুদাভ অংশ হচ্ছে প্লাজমা। সুস্থ হওয়া রোগীর রক্ত থেকে এই প্লাজমা সংগ্রহ করে আক্রান্ত রোগীর দেহে প্রয়োগ করলে আক্রান্ত ওই রোগীর দেহে করোনা প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। ওই রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। প্লাজমা প্রতি এক মাস অন্তর দেওয়া যায়। তবে যারা করোনা থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন তাদের প্লাজমা দেওয়ার আগ্রহ কম।

এ ব্যাপারে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. আমিন আহমেদ খান বলেন, প্লাজমা মেশিন ক্রয় একটু ব্যয় সাপেক্ষ। তবুও দ্রুত সভা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি প্লাজমা মেশিনের চাহিদা পাঠানো হবে। যদিও বয়স ও অন্যান্য কারণে সুস্থ হওয়া অনেক রোগীই প্লাজমা দেওয়ার অনুপযোগী। এছাড়া প্লাজমা দিতে অনেকেরই আগ্রহ নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা