kalerkantho

শনিবার । ২০ আষাঢ় ১৪২৭। ৪ জুলাই ২০২০। ১২ জিলকদ  ১৪৪১

এবার নানা রঙের ইয়াবা

এস এম আজাদ   

৩ জুন, ২০২০ ০৭:৪৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবার নানা রঙের ইয়াবা

করোনাভাইরাসের মহামারিতে জনজীবন স্থবির হয়ে থাকলেও থেমে নেই মাদক কারবারিদের অপতৎপরতা। মিয়ানমার থেকে সীমান্তপথে প্রতিদিন লাখ লাখ পিস ইয়াবা ঢুকছে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে। করোনাকালে ইয়াবার সংকট দেখিয়ে কৌশলে দামও বাড়িয়ে দিয়েছে কারবারিরা। এ জন্য তারা প্রচলিত গোলাপি বা লালচে রঙের বদলে হলুদ, বাসন্তী, হালকা গোলাপি ও সাদা রঙের ইয়াবা বড়ি সরবরাহ করছে। প্রশাসনসহ সবার চোখ ফাঁকি দিতে এসব রঙের ইয়াবা ধরা পড়লে এক ধরনের উত্তেজক ওষুধ বলে দাবি করছে কারবারিরা।

করোনা সংক্রমণ রোধে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় জরুরি পণ্যবাহী ট্রাকে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে বেশির ভাগ চালান আনা হচ্ছে ঢাকায়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), র‌্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছ থেকে কালের কণ্ঠ’র তথ্যানুসন্ধানে ইয়াবা কারবারিদের এই নতুন কৌশল ধরা পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাসন্তী, হলুদসহ নতুন রঙের ইয়াবার সঙ্গে আগের ইয়াবার কোনো পার্থক্য নেই। আগের রং বেশি পরিচিত হয়ে পড়ায় সবার নজর এড়াতেই নতুন রঙের ইয়াবা সরবরাহ করা হচ্ছে। মিয়ানমার সীমান্তের কারখানা বা ল্যাব থেকে এখন নতুন রঙের ইয়াবাই বেশি আসছে। আগে এসব রঙের ইয়াবায় উপাদান বেশি দিয়ে মূল্য বেশি রাখা হতো। করোনার সময় এই রঙের ইয়াবা ব্যাপকভাবে সরবরাহ করে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ গত সোমবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে ১৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ জাকির হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-২। কাভার্ড ভ্যানের দরজার ভেতরে ঝালাই করে লুকিয়ে রায়হান নামের একজন টেকনাফ থেকে চালানটি নিয়ে আসে। গত ৩ মার্চ রিয়াদ/শিশির পরিবহনের গাজীপুর এলাকার লাইনম্যান রায়হান সরকার পিকনিকের বাসে করে আরেকটি চালান নিয়ে আসে। ওই চালানটিও কলেজ গেট এলাকায় আটকে দেয় র‌্যাব। জব্দ করা হয় ২০ হাজার পিস ইয়াবা। গত ৩০ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে কাভার্ড ভ্যানে লবণের আড়ালে নিয়ে আসা অনেকটা হলদে রঙের ৫৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ জিয়া বেপারি ও মুন্না ওরফে আলাউদ্দিন নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তারাও একই চক্রের সদস্য।

র‌্যাব-২-এর কম্পানি কমান্ডার পুলিশ সুপার (এসপি) মুহম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাদক কারবারিদের ভাষ্য মতে, হালকা গোলাপি বা বাসন্তী রঙের ইয়াবা বড়ির দাম বেশি। গোলাপি বা লালচেগুলোর দাম কিছুটা কম। এই করোনাকালে বিশেষ কৌশলে ইয়াবা এনে ওরা বেশি দামে বিক্রি করতে চাইছে।’

গত ৩০ মে রাজধানীর দয়াগঞ্জ মোড় থেকে সবুজ ও মিলি বেগম ওরফে পুতুল নামে দুজনকে প্রায় একই রঙের তিন হাজার ৭৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে ডিএনসি। ডিএনসির ঢাকা মেট্রোর উপ-পরিচালক (দক্ষিণ) মানজুরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন প্রায়ই বাসন্তী, হলুদ বা কিছুটা ধূসর রঙের ইয়াবা পাওয়া যাচ্ছে। আমরা ল্যাবে পরীক্ষা করে দেখেছি, গোলাপি বা লালচে ইয়াবার সঙ্গে এর কোনো পার্থক্য নেই। মূলত সীমান্ত থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত সবার চোখ ফাঁকি দিতে মিয়ানমারের কারখানায় এসব রঙের ইয়াবা বানানো হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে আমরা সতর্ক আছি। ইয়াবার রঙের সঙ্গে ভিন্ন কিছু গন্ধও আছে। এসব ব্যাপারে আমাদের প্রশিক্ষণ রয়েছে। ফলে কারবারিরা চোখ এড়িয়ে যেতে পারবে না।’

গত ২৮ মে খিলগাঁও এলাকায় কাভার্ড ভ্যানসহ একই ধরনের ১৮ হাজার ইয়াবার চালান জব্দ করে ডিবি পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয় দুজন কারবারিকে। ৩০ এপ্রিল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাউদকান্দি টোল প্লাজা এলাকায় রেজাউল হক (৪৫) নামের একজন চিকিৎসক ও তার গাড়ির চালক ধলু মিয়া ফরাজীকে ১৭ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে ডিবি। ঢাকার উত্তরা আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক রেজাউল করোনার সময় ইয়াবার নতুন কারবারে নামেন বলে জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, ধারাবাহিক অভিযান এবং করোনা সংকটের কারণে ইয়াবার রঙে পরিবর্তন এসেছে। ২০১৮ সালের আগস্টে র‌্যাব-৩ রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় প্রথমবারের মতো সাদা রঙের ইয়াবার একটি চালান আটক করে। পরে বেশ কয়েকটা অভিযানে এ ধরনের ইয়াবা উদ্ধার হয়। এরপর সামনে আসে হলুদ, হালকা গোলাপি ও বাসন্তী রঙের ইয়াবা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা