kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

তানোরে কৃষক নিজেই উদ্ভাবন করেছেন ৩৭ জাতের ধান

টিপু সুলতান, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি   

২ জুন, ২০২০ ১০:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তানোরে কৃষক নিজেই উদ্ভাবন করেছেন ৩৭ জাতের ধান

বরেন্দ্র অঞ্চলের পোড়ামাটির সন্তান এলাকায় ধান পাগল বলে পরিচিত নূর মোহাম্মদ। তার ধ্যানধারনা মনোযোগ সব সময় ধান নিয়ে। তানোর পৌর এলাকার গোল্ল্াপাড়া গ্রামের নামোপাড়ায়। উচ্চ শিক্ষিত না হলেও ধানের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন করে চলেছেন কৃষক নূর মোহাম্মদ। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ অক্লান্ত পরিশ্রম ও একাগ্রতার সঙ্গে গবেষণা করে উদ্ভাবন করেছেন ধানের আউশ, আমন ও বোরো ধানের বিভিন্ন সারি। উদ্ভাবিত সারিগুলোর জীবনকাল অন্যান্য জাতের তুলনায় কম, উচ্চ ফলনশীল, সরু, সুগন্ধি ও খরা সহিষ্ণু। খরা প্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চল ও বিভিন্ন কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে চাষের উপযোগী। ধান নিয়ে গবেষক করে নতুন নতুন ধানের জাত তৈরির গবেষণা করে যাচ্ছেন।

তানোর উপজেলা কৃষি নির্ভর প্রধান ফসল ধান। বোরা মৌসুমে ৩৭ প্রকারে জাতের ধান সঙ্করায়নের মাধ্যমে নতুন ধান উদ্ভাবন করেছেন তিনি। নূর মোহাম্মদ কৃষি পরিষেবা ফার্মে গবেষণা প্লটের ৩৭টি সারির মধ্যে এন.এম.কে.পি ১০৫-৫-২, এন.এম.কে.পি ১০৪-৪-৩, এন.এম.কে.পি ১০৩-৩-২-২ সুগন্ধিযুক্তসহ বিভিন্ন জাত ধান রয়েছে। 

তানোর পৌর এলাকার গোল্লাপাড়া বিলকুমারীবিল সংলগ্ন তার ধান ক্ষেত। ছোট ছোট অনেকগুলো সাইনবোর্ড সমস্ত ক্ষেতজুড়ে শোভা পাচ্ছে। কাছে গিয়ে দেখা যাবে বেগুনি, সোনালী, সবুজ, খয়েরি, সাদাগুঠিসহ নানা প্রকারের ধানে ভরপুর ক্ষেত। তবে শুরুতেই যে কেউ দেখলে ভাববেন এটি বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীদের কোন প্রর্দশনী প্লট। কিন্তু না, এটি গ্রামের প্রান্তিক কৃষক নূর মোহাম্মদের নিজস্ব ধান গবেষণার প্রদর্শনী প্লট। 

সম্প্রতি বিলকুমারীবিল সংলগ্ন তার ধান ক্ষেত আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন প্রকার ধানের জাত কাটার সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী চিফ সাইন্টিফিক অফিসার ও প্রধান ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয় ড. আমিনুল ইসলাম, ব্রি রাজশাহী ঊর্দ্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামিমুল ইসলাম, তানোর থানা অফিসার ইনচার্জ রাকিবুল হাসান, উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার রেহেনা পারভীনসহ এলাকার কৃষকবৃন্দ। 

গোল্লাপাড়া বাজার বনিক সমিতির সভাপতি সারোয়ার জাহান বলেন, এলাকার লোকজন কৃষক নূর মোহাম্মদ ধান পাগল হিসাবেই চেনেন। তার কাজকর্ম দেখে এলাকার কৃষকরা অবাক হয়ে যায়। নিজের মাটির ঘর টাকে বানিয়ে ফেলেছেন ধানের গবেষণাগার। 

কৃষক নূর মোহাম্মদ জানান, চলতি বোরো মৌসুমে তার এক একর জমিতে ৩৭ জাতের ধান সঙ্করায়ণের মাধ্যমে উদ্ভাবন করেছেন। জাতীয় বীজ বোর্ডের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শামিমুল ইসলাম জানান, নূর মোহাম্মদ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রজাতির ধান নিয়ে নিজে থেকেই কাজ করছেন। তার অনেক ধানের জাত রয়েছে। সেগুলো সরকারীভাবে স্বীকৃতির অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা যতটুকু পারি তাকে সহযোগিতা করি।

তানোর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, নূর মোহাম্মদ আজব ধরনের একজন ব্যক্তি। তার মধ্যে দেশ প্রেম রয়েছে। কিভাবে কম পানিতে কম সময়ে ধান উৎপাদন করা যায় এনিয়ে তার গবেষণা চলছে। তিনি ধানের নতুন নতুন জাত নিয়ে ভাল কিছু করুক এ প্রত্যাশা করি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা