kalerkantho

শুক্রবার। ২৬ আষাঢ় ১৪২৭। ১০ জুলাই ২০২০। ১৮ জিলকদ ১৪৪১

তালায় ধর্ষণের মামলা করে আতঙ্কিত পরিবার

তালা, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

২ জুন, ২০২০ ০৭:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তালায় ধর্ষণের মামলা করে আতঙ্কিত পরিবার

সাতক্ষীরা তালায় হতদরিদ্র পরিবারের এক কিশোরীকে (১৫) জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে লম্পট সোহাগ সরদার। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে তালা সদর ইউনিয়নের জেয়ালা গ্রামে।

মেয়েটির মা জানান, শুক্রবার সকালে কাজ করার জন্য তিনি ও তার স্বামী মাঠে যান। সে সময় তার অসুস্থ মেয়ে বাড়িতে একা ছিল। বেলা ১২টার দিকে পাশ্ববর্তী হায়দার সরদারের লম্পট ছেলে সোহাগ সরদার (২৫) ঘরে ঢুকে মেয়েকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় ধর্ষিতার পিতা বাদী হয়ে তালা থানায় একটি মামলা(মামলা নম্বর ৮) দায়ের করেছেন। থানায় মামলা করে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ধর্ষিতার পরিবার। একটি রাজনৈতিক মহল মামলা তুলে নিতে প্রতিনিয়ত তাদের হুমকি দিচ্ছে। শুধু তাই নয় মামলা তুলে না নিলে ধর্ষিতার মাকে ধর্ষণের হুমকি আসামি পক্ষরা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ধর্ষিতার পরিবার। জানা গেছে, তারা বাড়ি থেকে বের হলেই নানা ভাবে হেনস্তা করার পাশাপাশি অশ্রাব্য ভাষায় গালি-গালাজ করা হচ্ছে। মান সম্মানের ভয়ে বাড়ি হতে বের হতে পারছে না ধর্ষিতার পরিবার।

সরজমিনে পরিদর্শনে জানা যায়, গত ২৯ মে সকাল ১২টায় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে তালা উপজেলার জেয়ালা নলতা গ্রামের দিনমজুরের ওই অসুস্থ মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে লম্পট সোহাগ। সে একই গ্রামের হায়দার আলী সরদারের পুত্র। এলাকার মানুষের অভিযোগ, হায়দার আলীও ওই এলাকার চিহ্নিত লম্পট। ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে নিজ পুত্রবধূ ও ভাতিজিসহ এলাকার একাধিক নারীকে রাতের আঁধারে ধর্ষণ করার অভিযোগ রয়েছে। তার অত্যাচারে রাতের বেলায় নারীরা সম্ভ্রম হানির ভয়ে ঘর হতে বের হতে পারে না। তার লম্পটের সালিশ মিমাংশা অনেকবার করেছে এলাকার মানুষ। এ ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষ ধর্ষক ও তার পরিবারের শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ সদস্য সাংবাদিক মীর জাকির হোসেন বলেন, অসহায় হতদরিদ্র পরিবারের প্রতি যে নিষ্ঠুরতা হয়েছে তা খুবই দুঃখজনক। যে কোনো বিবেকবান মানুষের উচিত হবে এই নিষ্ঠুরতার প্রতিবাদ করা। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন ও তালা থানা অফিসার ইনচার্জ মেহেদী রাসেলের সাথে তিনি কথা বলেছেন। তারা তাঁকে আশ্বাস্ত করেছেন অপরাধী যেই হোক তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রশাসন এই মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে তালা থানা অফিসার ইনচার্জ মেহেদী রাসেল বলেন, ধর্ষিতার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি যত দ্রুত সম্ভব প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করার। চৌকস পুলিশ অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করি অতিশীঘ্রই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা