kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর

সজলের পড়াশোনার দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসছেন দানশীল ব্যক্তিরা

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

২ জুন, ২০২০ ০৬:০৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সজলের পড়াশোনার দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসছেন দানশীল ব্যক্তিরা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডস্থ চিটাগাং কেমিক্যাল কমপ্লেক্স (সিসিসি) উচ্চ বিদ্যালয়ের দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জনকারী সজল দাশের কলেজে ভর্তিসহ পড়াশুনার দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসছেন বিভিন্ন দানশীল ব্যক্তিরা। সোমবার সজলের দারিদ্র্যতার কারণে কলেজে ভর্তি অনিশ্চিত উল্লেখ করে দৈনিক কালের কণ্ঠ অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পর অনেকেই তার দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ জানিয়েছেন প্রতিবেদককে। এতে পরিবারটি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে।

জানা যায়, সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের বাসিন্দা অত্যন্ত দরিদ্র সন্তোষ চন্দ্র দাশ ও নন্দ রানী দাশের চার ছেলে-মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে বাড়বকুণ্ডের সিসিসি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র সজল দাশ অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশুনা করেও এবার জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দরিদ্র হওয়ায় তার উচ্চ শিক্ষা ব্যাহত হতে পারে বলে আশংকা করেছেন তার মা-বাবা। এ নিয়ে সোমবার কালের কণ্ঠ অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ হলে সংবাদটি বিভিন্ন দানশীল ব্যক্তিবর্গের দৃষ্টিগোচর হয়।

ফলে তাদের মধ্যে কয়েকজন তার পড়াশুনার যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানান এ প্রতিবেদককে। যা আশার আলো জেলেছে পরিবারটিতে। সোমবার সকালে সজলের সফলতায় সন্তোষ প্রকাশ করে এ প্রতিবেদককে ফোন করেন সীতাকুণ্ডেরর খ্যাতনামা শিল্প প্রতিষ্ঠান কে আর গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সেকান্দর হোসাইন টিংকু।

তিনি বলেন, দরিদ্র এ ছেলেটি মেধার সাক্ষর রেখে জিপিএ-৫ পাওয়ায় আমার খুবই ভালো লাগছে। আমি তার দারিদ্র্যতার সংবাদ আপনার পত্রিকার মাধ্যমে সেসময় জেনে তাকে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছিলাম। আমার সে ঘর দেওয়াটা সার্থক। সে মন দিয়ে পড়াশুনা করেছে। এখনো তার উচ্চ শিক্ষা কিছুতেই ব্যাহত হতে দেব না আমি। তার কলেজে ভর্তি ফি, বই-পুস্তক ক্রয়, টিউশন ফিসহ প্রয়োজনীয় সব কিছুর ব্যবস্থা করতে চাই। শুধু ছেলেটি উচ্চ শিক্ষিত হয়ে তার দরিদ্র মা-বাবার দুঃখ দূর করুক এটাই আমার চাওয়া।

এদিকে এদিন দুপুরে সজলের পরিবারকে একটি সোলার প্যানেল প্রদান করেছেন স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব দিদারুল আলম। তিনি বলেন, আগেও আপনার পত্রিকায় সজল অন্ধকার ঘরে পড়াশুনা করছে এ সংবাদ দেখে তাকে একটি সোলার প্যানেল দিয়েছিলাম। যেহেতু তাদের বিদ্যুৎ নেই, তাদের আরো বেশি আলোর ব্যবস্থা করতে আজ আরো একটি সোলার তাকে প্রদান করেছি। তার পড়াশুনায় অন্যান্য সহযোগিতাও করবেন বলে জানান তিনি। একইভাবে এদিন তাকে ডেকে পাঠান বাড়বকুণ্ড ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ছাদাকাত উল্লাহ মিয়াজী।

তিনিও তাকে ডেকে ভালো ফলাফলের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এখন থেকে তোমার পড়াশুনার দায়িত্ব আমি নিলাম। এদিকে পত্রিকায় সংবাদ দেখে বিভিন্ন সংগঠন তার সহযোগিতায় এগিয়ে আসায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে মেধাবী সজল ও তার মা নন্দ রানী। সজল বলেন, ৯ম শ্রেণিতে পড়ার সময় আমার স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমার দুরাবস্থার কথা আপনাকে জানানোর পর আপনি পত্রিকায় তা তুলে ধরলে আমি সোলার পেয়েছি, ঘর পেয়েছি।

এখন আবার আমার উচ্চ শিক্ষা নিয়ে আশংকার কথা আপনি লেখার পর আমাদের এমপি মহোদয় আবারো সোলার দিয়েছেন। এলাকার চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে পড়াশুনার ব্যাপারে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন, যিনি আগে ঘর বানিয়ে দিয়েছেন সেই কে আর গ্রুপের চেয়ারম্যান আমাকে পড়াশুনার যাবতীয় সহযোগিতা করবেন বলেছেন। উনারা সহযোগিতা করলে আমি মনে করি আমার আর কোনো সমস্যা আর থাকবে না। 

সজলের মা নন্দ রানী বলেন, স্কুলের হেড স্যার ও আপনাদের সবাইকে কি করে কৃতজ্ঞতা জানাই আমি বুঝতে পারছি না। আপনারা সকলে না থাকলে আমার ছেলের পড়াশুনাই বন্ধ হয়ে যেত। অন্য তিন ছেলেমেয়েও পড়তে পারত না। সকলে এভাবে সহযোগিতা করে যেন সজলসহ অন্য ছেলে মেয়েগুলোর পড়া চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন সেই অনুরোধ জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা