kalerkantho

সোমবার । ২৯ আষাঢ় ১৪২৭। ১৩ জুলাই ২০২০। ২১ জিলকদ ১৪৪১

এ কেমন শত্রুতা! দুর্বৃত্তের আগুনে ভস্ম ২ হাজার মুরগি

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি    

১ জুন, ২০২০ ১৯:০৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এ কেমন শত্রুতা! দুর্বৃত্তের আগুনে ভস্ম ২ হাজার মুরগি

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় আলোচিত সেই বন্ধু পোলট্রি খামারে আগুন দিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত। এতে খামারের প্রায় ২ হাজার লেয়ার মুরগি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রবিবার দিবাগত রাতে উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) সাদেক কাওছার দস্তগীর ও জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

বন্ধু পোলট্রি ফার্মের মালিক দীনবন্ধু সেন ও তার ব্যবসায়ীক অংশীদার মো. শাহজাহান মিয়া অভিযোগ, রাত ১১টা পর্যন্ত তারা খামারে ছিলেন। এরপর রাত প্রায় ৩টার দিকে এক লোকের মাধ্যমে খবর পেয়ে বাড়ি থেকে খামারে এসে তারা দেখেন আগুন জ্বলছে। সাথে সাথে তারা জুড়ী থানায় খবর দেন। পুলিশ কুলাউড়া ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।

তারা জানান, খামারের আশপাশের এলাকার বাসিন্দা ও পূর্বের ঘটনায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রাধা কান্ত দাস, মঈন উদ্দিন, সাইদুল, বদরুল, আব্দুল মতিন, আহমদ আলী, হুছন আলী গংরা দীর্ঘদিন থেকে খামার বন্ধের জন্য ষড়যন্ত্র করে আসছে। গত ১ মে রাত সাড়ে দশটায় জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ মোঈদ ফারুকের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাদের লেয়ার মুরগির খামারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তখন প্রায় পাঁচশ মুরগি মারা যায়। এ ঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যান মোঈদ ফারুককে প্রধান করে আরো ১২ জনকে অভিযুক্ত করে থানায় মামলা করার এক মাস পার হলেও পুলিশ এখনো আসামিদের ধরতে পারেনি। এমন সুযোগে রাধা কান্ত দাশ ও মঈন উদ্দিন গংরা গত ২৪ মে রাতে খামারের পিছনের দিকে আগুন লাগানোর চেষ্টা করে। তারাই আজ খামারে আগুন দিয়েছে। বাইরের কেউ তো আর খামারে এসে আগুন দিবে না। 

তারা আরো জানান, খামারে ২৫৫০টি লেয়ার মুরগি ছিল। মাসখানেক থেকে মুরগি ডিম দিচ্ছে। আগুনে প্রায় দুই হাজার মুরগিসহ ৭০ হাজার টাকার মূল্যের ৩৫ বস্তা মোরগির খাদ্য, ছয়হাজার ডিম পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে খামারে মুরগির খাঁচা, মেশিনসহ যন্ত্রপাতি পুড়ে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। খামারের নিকটবর্তী গুদাম ঘরেও আগুন লাগানো হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করবেন বলে জানান খামার মালিক দীনবন্ধু সেন ও ব্যবসায়ীক অংশীদার মো. শাহজাহান মিয়া। 

অভিযুক্ত রাধা কান্ত বলেন, খামারে আগুন লাগানোর বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়ায় পুলিশের ভয়ে আমরা ঘর-বাড়িতে নেই। খামারের দুর্গন্ধের কারণে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ এমন অভিযোগ তারা বিভিন্ন দপ্তরে করে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি জানান।

জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সরদার বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাজির হয়। পরে পুলিশের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। যারা এ অমানবিক কাজ করেছে তারা পশুর চেয়ে নিকৃষ্ট কাজ করছে। প্রতিদিন অভিযান চালানোর পরো মামলার আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের ধরা যাচ্ছে না। আসামিদের মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করা হয়েছে। মোবাইল ট্রাকিংয়ের মাধ্যমে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। তাছাড়া মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) আমিনুল ইসলাম সার্বক্ষণিক এ ঘটনার খোঁজ-খবর রাখছেন। 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) সাদেক কাওছার দস্তগীর বলেন, যারা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে তাদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। তাছাড়া এই খামারে পূর্বের করা ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় জড়িত আসামিদের ধরতে পুলিশ করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সর্বাত্মাক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা