kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

কলেজে পড়ার সামর্থ্য নেই জিপিএ-৫ পাওয়া সজলের

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১ জুন, ২০২০ ০০:৩১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কলেজে পড়ার সামর্থ্য নেই জিপিএ-৫ পাওয়া সজলের

সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডস্থ চিটাগাং কেমিক্যাল কমপ্লেক্স (সিসিসি) উচ্চ বিদ্যালয়ের দরিদ্র মেধাবী ছাত্র সেই সজল দাশ এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। গতকাল রবিবার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হলে এ ফলাফল জানা যায়। এতে খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে দরিদ্র পরিবারটি ও তার বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে। 

এদিকে জিপিএ-৫ পেলেও আর্থিক সংকটে তার উচ্চ শিক্ষা ব্যাহত হবার শংকা প্রকাশ করেছেন সজলের মা। যা এখন তাদের আনন্দ উচ্ছ্বাসকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ডেরর বাড়বকুণ্ড সিসিসি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র সজল দাশ অত্যন্ত দরিদ্র একটি পরিবারের সন্তান। তার বাবা সন্তোষ চন্দ্র দাশ একজন অসুস্থ মানুষ। মা নন্দ রানী দাশ ধান ভাঙার শ্রমিক হিসেবে কাজ করেই চার সন্তান ও স্বামীর মুখে খাবার তুলে দেন।

চার ভাই-বোনের মধ্যে সজলই বড়। অন্যরাও পড়াশুনা করছে। তাই খরচও অনেক। এ কারণে দরিদ্র মা-বাবা সজলকে ভালোভাবে পড়াশুনা কিংবা একটু ভালো মানের খাবারও তুলে দিতে পারেন না। সবচেয়ে বড় কথা তাদের মাথা গোঁজার যে ঠাঁই সে জায়গা টুকুর মালিকও অন্য এক ব্যক্তি। সেখানে তাদের বসত ঘরটিও ছিল জরাজীর্ণ। ছিল না কোনো বৈদ্যুতিক লাইন কিংবা আলোর ব্যবস্থা। ফলে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত দিনের আলোতেই পড়াশুনা শেষ করতে হতো সজলসহ সব ভাই-বোনকে।

২০১৮ সালে সিসিসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জীব কুমার দে’র কাছ থেকে এ বিষয়ে তথ্য পেয়ে দৈনিক কালের কণ্ঠে ‘দিনের আলোতেই পড়াশুনা শেষ করতে হয় মেধাবী সজলকে’ শিরোনামে এ প্রতিবেদক সংবাদ প্রকাশ করলে বিষয়টি সবার নজরে আসে। ওইদিনই সীতাকুণ্ডের এমপি আলহাজ দিদারুল আলম সজলের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তার ঘরের অন্ধকার দূর করতে তাকে সোলার লাইট প্রদান করেন। এতে তারা দিনের পাশাপাশি রাতেও পড়াশুনার সুযোগ পায়।

একই সঙ্গে তার জরাজীর্ণ ঘর দেখে সজলের পরিবারের পাশে দাঁড়ান সীতাকুণ্ডের বিশিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠান কে.আর গ্রুপের চেয়ারম্যান শিল্পপতি মো. সেকান্দর হোসাইন টিংকু। তিনি তার পরিবারের জন্য একটি সুদৃশ্য ঘর তৈরি করে দিয়েছেন। এরপর কিছুটা সাপোর্ট পায় এ পরিবারটি। তার পর আরো মনোযোগী হয়ে পড়াশুনা করে সে। এর ফল স্বরূপ সে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে।

এ বিষয়ে ছাত্র সজল দাশ বলে, অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে পড়াশুনা করেছি আমি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকরা আমাকে সবসময় সাপোর্ট দিয়েছেন। এক সময় আমি শুধু দিনের বেলায় পড়ালেখা করতাম। রাতে পড়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর এমপি মহোদয় সোলার প্যানেল দেওয়ায় আমি রাতেও পড়াশুনা করার সুযোগ পাই। আর কে.আর গ্রুপের চেয়ারম্যান আমাদেরকে ঘর বানিয়ে দেওয়ায় পড়ালেখার মতো পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এখন উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী জানিয়ে সজল বলেন, কিন্তু আর্থিক দৈন্যতার কারণে আমার উচ্চ শিক্ষা গ্রহনণ করা হবে কিনা জানি না। এ পথ অনেক কঠিন হবে। কিন্তু এরপরও সবার সহযোগিতায় এগিয়ে যেতে চায় সে।

সজলের মা নন্দ রানী বলেন, আপনাদের সবার সার্বিক সহযোগীতা পাওয়ায় সে ভালোভাবে এসএসসি পাস করতে পেরেছে। তার উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের অনেক ইচ্ছা আছে। কিন্তু এখন কলেজে পড়াতে পারব কিনা জানি না। তাকে পড়ানোর মতো আর্থিক অবস্থা আমাদের নেই। যদি আগের মতো আপনারা সবাই সহযোগিতা করেন তবেই আমরা তাকে পড়াতে পারব।

সজলের স্কুল সিসিসি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জীব কুমার দে বলেন, সজল বরাবরই মেধাবী। কিন্তু তার জন্য বাধা হলো দারিদ্র্যতা। তবে তার পড়াশুনার প্রতি আগ্রহ দেখে আমরা সবসময় তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছি। আপনারা এবং আরো অনেকেই তাকে সহযোগিতা করেছেন। এবার সে জিপিএ-৫ পেয়েছে। সব ঠিক থাকলে এর চেয়েও ভালো ফলাফল করতে পারে সে। ভবিষ্যতে তার উচ্চ শিক্ষায় সবাইকে অতীতের মতো পাশে থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা