kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

আ. লীগ নেতার কাণ্ড

ধর্ষণের পর ধর্ষিতাকে ৪০ ঘণ্টা জিম্মি!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম   

৩১ মে, ২০২০ ২৩:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধর্ষণের পর ধর্ষিতাকে ৪০ ঘণ্টা জিম্মি!

কুড়িগ্রামের রাজীবপুর সদর ইউনিয়ন আ. লীগের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট রাসায়নিক সার ব্যবসায়ী মো. সিরাজদ্দৌলার (৪৮) বিরুদ্ধে দরিদ্র ঘরের এক কিশোরীকে দিনের পর দিন জোরপূর্বক ধর্ষণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষণের শিকার অসহায় মেয়েটি পাঁচ মাসের গর্ভবতী হওয়ার বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নির্যাতিত মেয়েটিকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে জিম্মি করে রাখে ধর্ষকের স্বজনরা।

দীর্ঘ ৪০ ঘণ্টা পর বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী আজ রবিবার বিকাল ৪টার দিকে পার্শ্ববর্তী দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মাখনেরচর সীমান্তের একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় মেয়েটিকে। পরে নির্যাতিত মেয়েটি রাত ৮টার দিকে থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার বড়াইডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা অভিযুক্ত সিরাজদ্দৌলা। তার প্রতিবেশি দরিদ্র পরিবারের বাবা হারা ১৮ বছর বয়সী মেয়েটি অভাবের তাড়নায় অভিযুক্ত আ. লীগ নেতার বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করত। এ সুযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তি জোরপূর্বক ও ভয় দেখিয়ে মেয়েটিকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে আসত। এক পর্যায়ে মেয়েটির পেটে সন্তান আসলে ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়। এরপরই ঘটনা ধামাচাপা দিতে নির্যাতিত মেয়েটিকে জিম্মি করা হয়।

একই গ্রামের স্কুল শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানান, অসহায় মেয়েটিকে ধর্ষণের পর ঘটনাটি ফাঁস হয়ে গেলে নির্যাতিত পরিবারকে নানা ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় দরিদ্র পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নির্যাতিত মেয়েটির বাবা অনেক আগেই মারা গেছে। মা চোখে দেখতে পারে না। একমাত্র ভাই দিনমজুরি হিসেবে কামলা দিয়ে চলে।

নির্যাতিত মেয়েটি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি তাগরে ঘরে কাপড়কাচা, ঘর মোছা ও থালাবাসন মাচাসহ সংসারের যাবতীয় কাজ করছি। ভাই (অভিযুক্ত সিরাজদ্দৌলা) তাগরে ঘরে জোর কইরা, মুখ চাপাইয়া ধইরা আমার ইজ্জত নিছে। এভাবে আরো মেলা (অনেক) দিন আমাকে নিয়া বিছানায় থাকছে। আমাকে কইছে তোকে বিয়া করমু। এ ঘটনা কাউকে যেন না বলি সেই কথাও কইয়া দিছে।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত ধর্ষক সিরাজদ্দৌলা বলেন, ‘সম্পূর্ণ বিষয়টা একটা চক্রান্ত। আমার প্রতিবেশিদের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এ কারণে প্রতিপক্ষরা মেয়েটিকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ করেছে। যেহেতু আমি সরকারি দলের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। দলের মধ্যে গ্রুপিংয়ের কারণে একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছে।’

রাজীবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মোর্শেদ তালুকদার রাত ৯টার দিকে অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ধর্ষণ মামলার প্রস্তুতি চলছে। তাছাড়া মেয়েটি যে গর্ভবতী তা শরীরের গঠন দেখেই বোঝা যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা