kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

অসহায় জামিলার দায়িত্ব নিলেন ওসি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

৩১ মে, ২০২০ ১৬:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অসহায় জামিলার দায়িত্ব নিলেন ওসি

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি খান মো. শাহরিয়ারের মানবিকতা ও মমতায় অসুস্থ গৃহহীন বৃদ্ধা জামিলা বেগমের ঠাঁই হল গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বৃদ্ধসেবা বৃদ্ধাশ্রমে। সেখানে তার ভরণপোষণ ও চিকিৎসাসহ সব দায়দায়িত্ব নিয়েছেন ওই মানবিক ওসি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশেষ ব্যবস্থায় তাকে বৃদ্ধাশ্রমে পৌঁছে দেওয়া হয়।

পুরনোদিনের অনেক কথাই ভুলে গেছেন জামিলা (৭০)। স্মৃতি হাতড়ে জানালেন, গাইবান্ধা সদরের  খোলাহাটি গ্রামের ব্রহ্মপুত্র সংলগ্ন এলাকায় তাদের বাড়ি। বাবার নাম ছিল আলিমউদ্দিন। মুক্তিযুদ্ধের পরপরই তার বিয়ে হয় একই এলাকার কৃষিজীবি পরিবারের বাদশা মিয়ার সাথে। চাষাবাদ করে ভালই চলছিল পরিবারটি। একে একে জন্ম নেয় এক ছেলে এক মেয়ে। কিন্তু এক সময় ভাঙ্গনে বাড়ি, ভিটা, জমিসহ সর্বস্ব হারায় পরিবারটি। রোগ শোকে অসুস্থ স্বামী আর ছেলে মেয়েকে নিয়ে বাঁধে সড়কের পাশে টিনের ছাপড়া তুলে কোন রকমে দিন কাটতো তাদের। মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। এক সময় মারা যান বাদশা। ছেলে কাজের সন্ধানে ঢাকায় গিয়ে আর মায়ের কোন খবর রাখেনি। খাদ্যাভাব, রোগে শোকে পাথর অসহায় জামিলা আশ্রয় নেন সদরের একটি মাজারে। এ ভাবেই কাটে ২৫-৩০ বছর।

পুলিশ জানায়, এবার করোনার এই দুঃসময়ে অসুস্থ এই বৃদ্ধাকে মাজার চত্বর থেকে বের করে দেওয়া হলে তিনি ২ সপ্তাহ আগে জেলা শহরের এসিল্যান্ড অফিসের সামনে পুকুরঘাটে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. শাহরিয়ার  তার খাবার ও ওষুধ পত্রের ব্যবস্থা করেন। এ ভাবে কয়েকদিন কাটার পর একদিন প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে তাকে শহরের মডার্ণ স্কুলের মাঠ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করায়। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর শনিবার বিকালে তাকে সদর থানায় নিয়ে এসে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে তাকে নারী পুলিশ সদস্যদের দিয়ে গোবিন্দগঞ্জের বৃদ্ধসেবা বৃদ্ধাশ্রমে পাঠান হয়।

ওসি শাহরিয়ার জানান, এখন থেকে বৃদ্ধাশ্রমে থাকলেও তিনি জেলা পুলিশের সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে তার সব দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেন, করোনায় মাতৃসমা এই স্বজনহীন বৃদ্ধার জন্য কিছু করতে পেরে তিনি ও তার সহযোগিরা গর্বিত।

গোবিন্দগঞ্জে যাওয়ার আগে জামিলা কালের কণ্ঠকে বলেন, ভালো মানুষদের আল্লাতালা হেফাজত করবেন। আমিও দোয়া করি, সবাই ভাল থাকুক। রবিবার ওই বৃদ্ধাশ্রমে খবর নিয়ে জানা গেছে, জামিলা বেগম ভাল আছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা