kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

ধুনটে হোমিও চিকিৎসার আড়ালে মাদক কারবার

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

৩০ মে, ২০২০ ০৯:২১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ধুনটে হোমিও চিকিৎসার আড়ালে মাদক কারবার

করোনাভাইরাসের মহামারি পরিস্থিতিতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনধারা থমকে গেছে। কিন্তু এমন মহাদুর্যোগেও থেমে নেই মাদক কারবারিরা।  করোনা  মোকাবেলায় পুলিশ, র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনীর করোনা ভাইরাস সুরক্ষা কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকার সুযোগ নিচ্ছেন মাদক কারবারি চক্রগুলো। মাদক কারবারিরা এই চক্রের সাথে জড়িত হয়েছেন হোমিও প্যাথিক চিকিৎসকরা।

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় আশরাফুল ইসলাম ওরফে লাল মিয়া (৫৫) নামে এক হোমিও চিকিৎসককে ২৮ বোতল রেকটিফায়েড স্পিরিটসহ গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে এসেছে এসব তথ্য। পল্লী চিকিৎসক আশরাফুল ইসলাম উপজেলার ঈশ্বরঘাট গ্রামের সৈয়দ আলীর ছেলে এবং শৈলাক হোমিও ফার্সেসির মালিক। তিনি হোমিও চিকিৎসার আড়ালে মাদকের কারবারি করেন।  

জানা গেছে, রেকটিফায়েড স্পিরিট তরল রাসায়নিক পদার্থ। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে জীবন রক্ষায় ব্যবহৃত এই উপাদানটি ভয়ংকর মাদক হিসেবেও চিহ্নিত হয়েছে। তবে প্রশাসনের উদাসীনতায় রেকটিফায়েড স্পিরিটের বিক্রি ও ব্যবহার চলছে অবাধে। এলাকার মাদক বিক্রেতা অসাধু চক্রের যোগসাজশে হোমিও চিকিৎসকদের রেকটিফায়েড স্পিরিট চলে যাচ্ছে মাদকসেবীদের হাতে।

এ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারসহ গ্রাম পর্যায়ে যত্রতত্র ভাবে গড়ে উঠেছে কমপক্ষে ২০০টি অনুমোদনহীন হোমিও প্যাথিক চিকিৎসালয়। নামধারী চিকিৎসকরা সর্বরোগের চিকিৎসা দেবার ব্যাপারে সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড লাগিয়েছেন। প্রচারপত্র বিলি করার পরও তেমন রোগী না হওয়ায় তারা মাদকসেবীদের নিকট রেকটিফায়েড স্পিরিট বিক্রি করেন। প্রতি বোতলের দাম ২০ টাকা। কিন্ত হোমিও চিকিৎসকরা একটি বোতল কমপক্ষে ২০০ টাকা বিক্রি করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদকসেবীরা জানান, করোনাভাইরাস আতঙ্কে মানুষ ঘরবন্দি। বন্ধ দোকানপাট, যানবাহন চলাচল। তাই ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাঁজাসহ অন্যান্য মাদক দ্রব্য সহজে মিলছে না। আবার দুই একজনের নিকট পাওয়া গেলে মূল্য অনেক বেশি। এ কারনে মাদকের বিকল্প হিসেবে কম দামে হোমিও চিকিৎসকদের নিকট থেকে রেকটিফায়েড স্পিরিট কিনে নেশা করেন। পুলিশের ঝামেলা ছাড়াই সহজে স্পিরিট কিনতে পাওয়া যায়।

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, রেকটিফায়েড স্পিরিট সেবনে দুজনের মৃত্যুর ঘটনা অনুসন্ধান করে বিক্রেতা হিসেবে এক হোমিও চিকিৎসকে জড়িত থাকার প্রমান মিলেছে। ফার্মেসিতে অবৈধভাবে মজুদ রাখা ২৮ বোতল স্পিরিটসহ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব গুলো হোমিও ফার্মেসিতে অভিযান চালানো হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা