kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

ছাতকের দুটি নদীর বালু মহাল ইজারার পুনঃবিজ্ঞপ্তি স্থগিত

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৩০ মে, ২০২০ ০৯:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছাতকের দুটি নদীর বালু মহাল ইজারার পুনঃবিজ্ঞপ্তি স্থগিত

সুনামগঞ্জের ছাতকে চেলানদী-মরা চেলানদী ও দোয়ারাবাজারের খাসিয়া মারা নদীর বালু মহাল ইজারার পুনঃ বিজ্ঞপ্তির সকল কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের একটি বেঞ্চের বিচারপতি উবায়দুল হাসান শুনানি শেষে এ স্থগিতাদেশ দেন।

করোনা দুর্যোগের কারণে আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভার্চুয়াল আদালতে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

ছাতকের কাওসার ট্রেডার্সের পক্ষে কাওসার আহমেদ হাইকোর্টে রিট পিটিশন করেন। রিটের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত বিজ্ঞপ্তি স্থগিতের জন্য সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসককে আদেশ দেন।

জানা যায়, ছাতকের চেলা ও মরা চেলা বালু মহালের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের ডাকে কেউ অংশ গ্রহণ না করায় তৃতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হন মেসার্স কাওসার ট্রেডার্স।  নিয়মানুযায়ী প্রথম ও দ্বিতীয় ইজারা ডাকে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ইজারা মূল্য  না পাওয়া গেলে তৃতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজারা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু কমিটি পুনরায় ইজারা প্রদানের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রদান করে।

এদিকে ইজারা না দেওয়ায় প্রভাবশালীরা বালু মহাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। এর ফলে সরকার প্রায় কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যেখান-সেখান থেকে বালু তোলার কারণে নদী ভাঙনও বাড়ছে।

বালু মহাল ইজারার পুনঃ বিজ্ঞপ্তির ওপর স্থগিতাদেশ জারির বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, ইজারা কার্যক্রম স্থগিত রাখার বিষয়ে উচ্চ আদালতের একটি আদেশ জারি হয়েছে। আদেশের প্রেক্ষিতে আমরা সকল কার্যক্রম স্থগিত রেখেছি।

ছাতকের কাওসার ট্রেডার্সের মালিক কাওসার আহমেদ জানান, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন বালু মহাল দুটি ইজারা প্রদানের জন্য পরপর তিনবার দরপত্র প্রকাশ করে। এতে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হন তার প্রতিষ্ঠান। কিন্তু তার প্রতিষ্ঠানকে বালু মহাল ইজারা না দিয়ে গত ১৪ মে পুনঃদরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক। ফলে বাধ্য হয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা প্রদানকারী হিসেবে তিনি উচ্চ আদালতে একটি রিট করেন। রিটের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত বিজ্ঞপ্তি স্থগিতের জন্য আদেশ জারি করেন।

তিনি জানান, বৈশাখ মাসের ১ তারিখ হতে চৈত্র মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত ১ বছরের জন্য ইজারা প্রদানের কথা থাকলেও জৈষ্ঠ্য মাস চলে যাচ্ছে। তারপরও ইজারা প্রদান করা হচ্ছে না। ফলে ইজারা দাতা সরকার ও ইজারা গ্রহীতা হিসেবে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক একটি জাতীয় ও একটি আঞ্চলিক দৈনিকে গত ১৪ মে ‘বালু মহাল ইজারার জন্য উন্মুক্ত পুনঃদরপত্র বিজ্ঞপ্তি’ প্রকাশ করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা