kalerkantho

বুধবার । ২৪ আষাঢ় ১৪২৭। ৮ জুলাই ২০২০। ১৬ জিলকদ  ১৪৪১

করোনায় চকরিয়ায় চারজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৬

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

৩০ মে, ২০২০ ০০:২০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনায় চকরিয়ায় চারজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৬

কক্সবাজারের চকরিয়ায় করোনা আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পর্যন্ত মারা গেছেন সত্তর বছরের এক নারীসহ চারজন। তার মধ্যে শুক্রবার সন্ধ্যায় মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিস্টান হাসপাতালে মারা গেছেন ৬৫ বছর বয়সী এক ব্যবসায়ী এবং সকালে জেলা সদর হাসপাতালে মারা যান সত্তরোর্ধ এক নারী। এনিয়ে আজ একদিনেই দুইজন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। 

এর আগে গত ২১ মে একজন এবং ২৫ মে আরো একজন মারা যান করোনায়। মারা যাওয়া চারজনেরই বয়সও ৬৫

থেকে ৭০ এর মধ্যে। করোনা আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি সবাই আগে থেকেই অন্যান্য রোগেও আক্রান্ত ছিলেন। তবে জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে উপজেলাভিত্তিক করোনা পরিস্থিতির চিত্রে শুক্রবার পর্যন্ত চকরিয়ায় মৃতের সংখ্যা উল্লেখ রয়েছে একজন। আক্রান্ত ১৫৬ জন ও সুস্থ ৭০ জন। 

মারা যাওয়া চারজন হলেন চকরিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দিগরপানখালী গ্রামের বদিউল আলমের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৭০), পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের কাজীরপাড়ার মৃত আবদুস সবুরের পুত্র নুরুল হোসেন সওদাগর (৬৫), দুই নম্বর ওয়ার্ডের মৃত মৌলানা আবদুর রহমানের পুত্র ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন চকরিয়া অফিসের কেয়ারটেকার হাফেজ সিরাজ-উদ্দৌলা (৬৫) ও উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা শহীদ হোছাইন চৌধুরী (৭০)।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চারজনের মধ্যে প্রথমজন মারা যান কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। পরের দুইজন চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫০ শয্যার আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন। চতুর্থজন শহীদ হোছাইন চৌধুরী
মারা যান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে। হাসপাতালের ডেথ সার্টিফিকেটে শহীদ হোছাইন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান বলে লেখা রয়েছে। 

শহীদ হোছাইনের বিষয়ে মেট্রোপলিটন হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মো. আমান উল্লাহ জানান, তিনি মারা যাওয়ার আগে স্ত্রী খাইরুন্নেছাসহ দুইজনের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গত ২৫ মে দুইজনের ফলাফলে স্ত্রীর
নেগেটিভ এবং স্বামী শহীদ হোছাইনের পজেটিভ আসে। 

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহবাজ জানান, সর্বশেষ মারা যাওয়া নুরুল হোসেনের পরিবারের তিন সদস্যই করোনা আক্রান্ত। তিনজনেরই নমুনা সংগ্রহ করে পিসিআর ল্যাবে প্রেরণ করা হলে প্রথমবার পজেটিভ আসে। এরপর দ্বিতীয়বার নমুন প্রেরণ করা হলে নেগেটিভ আসে। এই অবস্থায় গত ২৬ মে নুরুল হোসেনকে ছাড়পত্র দিয়ে ১৪দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। 

ডা. শাহবাজ বলেন, যেহেতু ১৪দিন বাড়িতে আলাদা কক্ষে থাকাবস্থায় তার (নুরুল হোসেন) শ্বাসকষ্ট বেড়েছে, সেহেতু তিনি করোনা উপসর্গ নিয়েই মারা গেছেন। অপরজন হাফেজ সিরাজ-উদ্দৌলাও করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মারা
যাওয়ার একদিন আগেই তার করোনা পজেটিভ রিপোর্ট আসে। আজ জেলা সদর হাসপাতালে মারা যাওয়া আনোয়ার বেগমও করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান। তার নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে প্রেরণ করা হয়েছে। 

মালুমঘাট হাসপাতালে মারা যাওয়া নুরুল হোসেনের পরিবার সূত্র জানায়, তিনি ১৪দিন বাড়ির আলাদা কক্ষে থাকাকালীন গত বৃহস্পতিবার সকালে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভবের সাথে তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এ সময় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও কোনো আইসিইউ’র ব্যবস্থা করতে না পারায় বাড়িতে নিয়ে আসেন রাতেই। এরপর তাকে নেওয়া হয় মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিস্টান হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে মারা যান।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল আলম তাবরীজ কালের কণ্ঠকে বলেন, উপজেলায় এই পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে এক নারীসহ চারজন মারা গেছেন। তার মধ্যে একজন চট্টগ্রামে, দুইজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন এবং অপরজন নারী জেলা সদর হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা