kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

অসহায় শতায়ু আবিলাসী খাতুনের জীবন পাল্টে গেল যেভাবে

ফারুক আহম্মদ, চাঁদপুর   

২৯ মে, ২০২০ ১৭:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অসহায় শতায়ু আবিলাসী খাতুনের জীবন পাল্টে গেল যেভাবে

মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে। একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না। ও বন্ধু! সত্যি শতায়ু আবিলাসী খাতুন তার এই পরিণত বয়সের বাকী জীবন বেঁচে থাকার জন্য বন্ধু খুঁজে পেয়েছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর প্রায় ৮০টি বছর পর্যন্ত নিঃসন্তান এই বৃদ্ধার দুর্বিসহ জীবন কেটেছে। তবে তার জীবনের আঁধার কেটে গেছে। গোয়ালঘরের পাশে আশ্রয় পাওয়া এই বৃদ্ধার পাশে এখন দাঁড়িয়েছেন দায়িত্বশীল কিছু মানুষ। তাই দীর্ঘদিন পর হলেও আবারও কালজয়ী এই গানের স্বার্থকতা ফিরে পেয়েছে। 

চাঁদপুরের মতলব পৌরসভার নবকলস এলাকা। তাতে ধনী গরিব এমন নানা শ্রেণির মানুষের বাস। তার মাঝে নাকি অনেকের চোখে পড়েনি একজনের প্রতি। তিনি হচ্ছেন, একশত বছরের বৃদ্ধা আবিলাসী খাতুন। ওই গ্রামের একটি বাড়িতে গোয়ালঘরের পাশে মাচায় থাকেন তিনি। কেউ দিলে খান। না হয়, অভুক্ত থাকেন। এভাবে কাটছিল তার দিনকাল।

গত দুদিন আগে ওই বাড়িতে অন্যদের খাদ্য সহায়তা দিতে যান, মতলব উপজেলা প্রশাসনের গঠিত ত্রাণ কমিটির স্বেচ্ছাসেবক সুমন। এসময় তার চোখে পড়ে জীর্ণশীর্ণ দেহের এক বৃদ্ধা গোয়ালঘরের পাশের মাচায় বসে আছেন। তার চাহনি দেখে সুমনের মনে দাগ কাটে। তিনি ছুটে যান বৃদ্ধার পাশে। বৃদ্ধা বিড়বিড় করে কিছু যেন বলার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ওই সময় সুমন তার কোনো জবাব দিতে পারেননি।

তবে গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা হকের কাছে গিয়ে আবিলাসী খাতুনের যাপিতজীবনের দৃশ্য তুলে ধরেন সুমন। তা শুনে দেরি না করেই বৃদ্ধার বাড়িতে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। সঙ্গে নিয়ে যান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুহুল আমিন এবং ত্রাণ শাখার সহকারী প্রকৌশলী কামরুল হাসানকে। তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বৃদ্ধা আবিলাসী খাতুনের বসবাসের জন্য দোচালা টিনের ঘর নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, কাপড়-চোপড় এবং থালাবাটির ব্যবস্থা করে দেন। একই সঙ্গে পাশের কয়েকটি পরিবারে প্রতি নির্দেশ নিয়ে যান তারা যেন নিজের মায়ের মতো বৃদ্ধাকে দেখাশোনা করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মতলব পৌরসভার নবকলস এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলর মামুন মৃধা এমনকি আশপাশের সমাজ সচেতন কোনো ব্যক্তিও শতায়ু বৃদ্ধা আবিলাসী খাতুনের খোঁজ-খবর নেননি কখনো। সেখানে কামাল প্রধানিয়া বাড়িতেই তিনি বসবাস করছেন। মতলব পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির খান বলেন, বৃদ্ধার আপন বলতে কেউ নেই। তবে প্রায় ৮০ বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর নিঃসন্তান এই বৃদ্ধা বাবার বাড়িতেই বসবাস করছেন এই বৃদ্ধা।

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা হক বলেন, একজন বৃদ্ধা মা এভাবে অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছেন। তা শুনেই আমার মনটা কেঁদে উঠে। তাই দেরি না করে তাকে দেখতে ছুটে গেলাম। তিনি বলেন, শুধু আশ্রয়ের জন্য ঘর নির্মাণ করে দায়িত্ব শেষ করিনি। বৃদ্ধা যতদিন বেঁচে থাকবেন ততদিনের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার এবং সরকারিভাবে বয়স্ক ভাতা পাওয়ার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরো বলেন, এমন মুহূর্তে শুধু সরকারি সহায়তা নয়, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে আমরা সহায়তা দিয়েছি।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা