kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু, দাফনে স্থানীয়দের বাধা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি   

২৯ মে, ২০২০ ১৬:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু, দাফনে স্থানীয়দের বাধা

ঠাকুরগাঁওয়ে করোনার উপসর্গ নিয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যাবধানে আব্দুল জলিল (২৩) নামে এক যুবক ও রাণী বেগম (২৪) নামে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. রাকিবুল আলম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আব্দুল জলিল ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের নেংটিহারা গ্রামের মইজ উদ্দিনের ছেলে ও রাণী বেগম সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মো. আকবরের দ্বিতীয় স্ত্রী। 

আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. রাকিবুল আলম জানান, জ্বর ও গলা ব্যাথা নিয়ে আব্দুল  জলিল নামে ওই যুবক বুধবার রাতে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। তার মধ্যে করোনা উপসর্গ থাকায় তাকে আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে মারা যান তিনি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফনের ব্যাবস্থা করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার সকালে রাণী বেগম করোনার উপসর্গ অর্থাৎ জ্বর-সর্দি ও গলাব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। করোনার উপসর্গ থাকায় তাকেও আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছিলো। চিকিৎসা চলাকালিন অবস্থায় শুক্রবার ভোরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. মাহফুজার রহমান সরকার জানান, নিহত যুবক দীর্ঘদিন যাবত কিডনি সমস্যা, ডায়বেটিসে ভূগছিলেন। তার শরীরে জ্বর ও গলা ব্যাথা ছিলো। এ ছাড়া নিহত রাণী বেগম করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। নিহত দুইজনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য দিনাজপুরে এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজে প্রেরণ করা হয়েছে। তারা করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কি না তা রিপোর্ট হাতে পেলেই তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে আব্দুল জলিলের মৃতদেহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন করা হলেও করোনার উপসর্গ নিয়ে রাণী বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি তার শশুর বাড়ি আউলিয়াপুর ইউনিয়ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে লাশ দাফনে বাঁধা সৃষ্টি করে এলাকাবাসী। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুনের হস্তক্ষেপে মৃতের বাপের বাড়ি একই উপজেলার আকচা ইউনিয়নে দাফন করা হয়।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করার বিষয়টি রাণী বেগমের শ্বশুড়বাড়ি এলাকায় জানাজানি হলে ওই ইউনিয়নবাসী তাকে দাফন করতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। তার বাবার বাড়ি আকচা ইউনিয়নে হওয়ায় স্থানিয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় সুতবঠিনা কবরস্থানে দাফন প্রক্রিয়া শুরু করলে সেখানেও বাঁধা দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশের সহযোগিতায় আকচা ইউনিয়নের কশালবাড়ী বৈকন্ঠপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে মৃতের দাফন সম্পন্ন করা হয়। দাফন কাজে সহায়তা করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের করোনা রোগী দাফনে ট্রেনিংপ্রাপ্ত টিম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা