kalerkantho

বুধবার । ২৪ আষাঢ় ১৪২৭। ৮ জুলাই ২০২০। ১৬ জিলকদ  ১৪৪১

মসজিদ ভিত্তিক প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের তালিকায় অনিয়ম

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

২৯ মে, ২০২০ ১৪:৪৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মসজিদ ভিত্তিক প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের তালিকায় অনিয়ম

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সারা দেশের ন্যায় বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের অস্বচ্ছলতা দেখা দিয়েছে। এই অস্বচ্ছলতা দূরীকরণের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই প্রেক্ষিতে মানবিক কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে দেশের প্রতিটি মসজিদের ন্যায় কুলাউড়ায়ও ৭৭১ টি মসজিদ পাচ্ছে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকার অর্থ সহায়তা। সেই সহায়তার জন্য তালিকা তৈরির দায়িত্ব পড়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ওপর। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যেই তাদের মতো করে ইচ্ছামাফিক তালিকা চূড়ান্ত করেছে বলে জানা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মসজিদের নামের তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর সমগ্র উপজেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠে। বিষয়টিকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কারসাজি বলে মনে করছেন অনেকেই। তবে বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরীর। তিনি তাৎক্ষণিক ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক তৈরি করা তালিকা সংশোধনের জন্য যাচাই-বাছাই করে নতুন করে নির্ভুল তালিকা প্রস্তুতের জন্য পৌরসভার মেয়রসহ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা প্রদান করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উপজেলার ৬/৭ টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগন নতুন তালিকা ইউএনও কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মসজিদ ভিত্তিক তালিকায় কুলাউড়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ জয়পাশা জামে মসজিদে নাজিম উদ্দিন নামে এক প্রবাসীর নাম ইমাম হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে অথচ নাজিম উদ্দিন এক সময় ওই মসজিদের ইমাম ছিলেন বর্তমানে তিনি দীর্ঘদিন থেকে কাতারে বসবাস করছেন। অন্যদিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নে বড়কাপন জামে মসজিদের নাম তিন বার, পূর্ব প্রতাবী মসজিদের নাম দুই বার ও লক্ষীপুর জামে মসজিদের নাম দুইবার এসেছে। আবার করেরগ্রাম জামে মসজিদ ও গুতগুতি জামে মসজিদে ফরিদ উদ্দিন নামে এক ইমামের নাম দুইবার এসেছে। তবে ইমাম ফরিদ উদ্দিন জানান, তিনি ২০১৬ সালের করেরগ্রাম জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন বর্তমানে তিনি কাদিপুর ইউনিয়নের ছকাপন উত্তর ফরিদপুর মসজিদে ইমামের দায়িত্বে রয়েছেন। 

এদিকে সদর ইউনিয়নের মসজিদের তালিকায় দাসেরমহল ফুলতলি বাড়ী মসজিদ নামে একটি ভূয়া মসজিদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অথচও ওই এলাকায় এই নামের মসজিদের কোন অস্তিত্ব নেই। এই মসজিদে উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিস সহকারী এস এম শিহাব উদ্দিনের নাম ও মোবাইল নাম্বার জুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এস এম শিহাব উদ্দিন জানান, তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে মসজিদের নামে ভুলবশত তার নাম ও মোবাইল নাম্বার চলে এসেছে। এটা নতুন তালিকায় সংশোধন করা হবে। এদিকে কাদিপুর ইউনিয়নে উত্তর কাদিপুর ও দক্ষিণ কাদিপুর, কাদিপুর মসজিদ নামে তিনটি মসজিদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অথচ এই নামে ওই এলাকায় কোন মসজিদের অস্তিত্ব নেই। আবার একই ইউনিয়নে ছকাপন জামে মসজিদে বুরহান উদ্দিন, ছকাপন নূরানী মসজিদে আব্দুল লতিফ, পূর্ব ছকাপন মসজিদে আবেদ আহমদ, ছকাপন স্টেশন মসজিদে সাইদুর রহমান ও দক্ষিণ ছকাপন জামে মসজিদে হাঃ বদরুলের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অথচও এরা কেউই কোনদিন কোথায় ইমামতি করেননি। তাদের অনেকেই মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদের আস্থাভাজন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এভাবে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে মসজিদের নামে তালিকা প্রস্তুতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। 

এতসব অনিয়মে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এই খামখেয়ালিপনা, দায়িত্বে অবহেলা ও স্বেচ্ছাচারিতায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন সচেতন মহল।

এ বিষয়ে কুলাউড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড সুপারভাইজার আব্দুর রকিব কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা পাওয়ার পর মাত্র একদিন সময় পেয়ে এই তালিকা করার কারণে অনেক ভুল ও তথ্য বিভ্রাট হয়েছে। একসাথে এত ভুল কেন হল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৫/৬ বছর আগের পুরাতন তালিকার সাথে নতুন করে আমাদের ইউনিয়ন পর্যায়ে ইফার কিছু শিক্ষকদের মাধ্যমে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে বিষয়টি বিভিন্ন মহলে ভাইরাল হওয়ায় ইউএনও স্যারের হস্তক্ষেপে যাচাই-বাছাই করে সংশোধন করা হচ্ছে। 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপজেলার ৭৭১ টি মসজিদ এই অর্থ সহায়তা প্রদান করা হবে। প্রকাশিত তালিকাটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। তাদের করা তালিকায় অনেক তথ্য বিভ্রাট রয়েছে। অনিয়মের বিষয়টি তাদের উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা