kalerkantho

বুধবার । ৩১ আষাঢ় ১৪২৭। ১৫ জুলাই ২০২০। ২৩ জিলকদ ১৪৪১

পার্বতীপুর বিদ্যুৎ বিহীন ৬৯ ঘণ্টা, নেসকো উত্তর দিতে রাজি নয়

পার্বতীপর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

২৯ মে, ২০২০ ১৩:১৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পার্বতীপুর বিদ্যুৎ বিহীন ৬৯ ঘণ্টা, নেসকো উত্তর দিতে রাজি নয়

ঈদের আগের দিন রবিবার রাত সাড়ে ৮টায় পার্বতীপুরে ঘুর্ণঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার হাবড়া ইউনিয়ন, হামিদপুর ও হরিরামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে অসংখ্য বাড়িঘর ঝড়ে ভেঙ্গে পড়েছে, গাছপালা উপড়ে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে গেছে, হেলে পড়েছে এবং বন বিভাগের গাছপালারও ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এছাড়াও মাঠের পর মাঠের পাকা ধানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের আগে উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়। দীর্ঘ ৬৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার পর পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়েছে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে। ঝড়ে কমপক্ষে ছয় ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

বিদ্যুৎ বিহীন ৬৯ ঘণ্টা

এ ব্যপারে নর্দান ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কম্পানির (নেসকো) পার্বতীপুর অফিসের আবাসিক প্রকৌশলী মোঃ তরিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে বলেন, ঈদের আগের রাতে চৌহাটি গ্রামে ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ে ১৪টি বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে। আর বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির পেছনে ৮টি খুঁটি হেলে পড়ে। এসব খুঁটি পূনর্বাসন করতে উল্লেখিত ৬৯ ঘণ্টা সময় লাগে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে একই স্থানে বারবার খুঁটি পড়ে যায়।  একই জায়গায় ঝড়ে একাধিকবার খুঁটি উপড়ে যাওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে এ আবাসিক প্রকৌশলী মোবাইল ফোনে কোন তথ্য জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন লাইন কেটে দেন।

অনিক নামের একজন বলেন,  সৈয়দপুর হতে আগত লাইনের তো খুঁটি পড়েনি ওই লাইন দিয়ে সাপ্লাই দিতে পারত আর কাল বড়পকুরিয়া লাইন এর খুঁটি ঠিক না করে আজ (ঈদের পরেরদিন) ঠিক কেন করছে? আশেপাশের সবখানেই বিদ্যুৎ রয়েছে শুধু পার্বতীপুরে নেসকো আওতাধীন এলাকায় নেই। যেখানে সরকার বিরতিহীনভাবে বিদ্যুৎ দেওয়ার জন্য উদ্যোগী সেখানে এমনটা কাম্য নয়,এর দায় ভার নিয়ে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কামনা করছি।
 
এদিকে, এতোটা দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় পার্বতীপুর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পানি সরবরাহ না থাকায় অসংখ্য মানুষ অযু গোসল সেরে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেন নি। ঈদের দিন কোন ও কোনও বাড়িতে রান্নার অভাবে স্ত্রী পুত্র পরিজন নিয়ে অভুক্ত থাকতে হয়েছে। অনেক বাড়িতে ফ্রিজে রাখা মাছ, মাংসসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্য নষ্ট হয়ে গেছে। 

ট্যাংকিতে পানির সরবরাহে ৫০০-৩০০টাকা লেগেছে প্রতি বাড়িতে

ঈদের আগেরদিন রাতের প্রথম প্রহরে ঘূর্ণিঝড়ের আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হয়। ৬৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলেও নেসকোর পক্ষ থেকে তার গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে মাইকিং পর্যন্ত করা হয়নি। এদিকে, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ অনিশ্চিত থাকার কারণে জেনারেটর ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো শুরু হয়ে যায়। ঈদের দিন বিকেলের দিকে বাড়ি বাড়ি জেনারেটর সংযোগ দিয়ে ৫০০ টাকার বিনিময়ে পানির ট্যাংকি ভর্তি করে দেয়া হয়। ঈদের দ্বিতীয় দিন ৩০০ টাকায় পানির ট্যাংকি ভর্তি করে দেয় ভ্রাম্যমাণ জেনারেটর ব্যবসায়ীরা।

বিদ্যুৎ না থাকায় ঈদের দিন, ঈদের পরে গত বুধবার পর্যন্ত পার্বতীপুরে চার্জার রিকশা, চার্জার ভ্যান, ইজি বাইক (অটো) চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে আত্মীয় স্বজনের বাড়ি যেতে পারেননি কেউ। ঈদের পর এসব পরিবহন শ্রমিক (চালক) বাড়তি আয় রোজগার থেকে বঞ্চিত হয়। শতকরা ৯০শতাংশ মোবাইল চার্জের অভাবে বন্ধ থাকে। আবার অপারেটরগুলোর টাওয়ারে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় গ্রাহকদের ভোগান্তি চড়মে ওঠে। 

পার্বতীপুর শহরের নিউ কলোনীর বাসিন্দা একটি হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুর রহমান বলেন, 'বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এই শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিদ্যুৎ নিয়ে তার ভাষায় কবিতা লিখে সর্বত্র ছড়িয়ে দেন।'

শহরের বাবুপাড়ার বাসিন্দা মোঃ জাভেদ একজন বিকাশ এজেন্ট। বিদ্যুৎ না থাকায় ঈদের পরে দুদিন গ্রাহকদের সেবা দিতে পারেননি। তিনি কোথাও টাকা পাঠাতে পারেননি। আবার পেমেন্টও দিতে পারেননি বলে জানান। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা