• ই-পেপার

যানবাহনের জন্য ফেরির অপেক্ষা শিমুলিয়া ঘাটে

ধুনট

ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যমুনার ভাঙন

কাজে আসছে না টিউব-জিও ব্যাগ টেকসই সমাধান দাবি স্থানীয়দের

রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া)
ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যমুনার ভাঙন
বগুড়ার ধুনট উপজেলার শহড়াবাড়ি এলাকার যমুনা নদীর ঘাটে। মঙ্গলবার সকালে তোলা। -কালের কণ্ঠ

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করলেও আজে আসছে না তা। 

এদিকে, ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। এতে নদীপারের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।  

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভোরে উপজেলার শহড়াবাড়ি যমুনা নদীর ঘাট এলাকায় জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলার স্থানে ফের ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ৫৫ মিটার অংশ জিও ব্যাগ ও টিউবসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ নিয়ে গত তিন দিনে প্রায় ১৫০ মিটার অংশ ভাঙনের শিকার হয়েছে। ভাঙন ঠোকাতে গত তিন দিন ধরে ওই স্থানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলা অব্যাহত রয়েছে। নদীপারের মানুষের দাবি এখন ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান।

সূত্র জানায়, উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শহরাবাড়ি গ্রামে গত বছরের অক্টোবরে যমুনা নদীর আকস্মিক ভাঙনে সমতল ভূমিসহ ৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ওই সময় স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে যমুনা নদীর তলদেশ ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় পানির প্রবল স্রোতে ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হয়। এ কারণে এমন ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। পরে ভাঙনকবলিত তীর ধরে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙন রোধ করা হয়।

সম্প্রতি যমুনা নদীতে আবারো পানি বেড়ে যাওয়ায় শুক্রবার (১৯ জুন)  থেকে শহরাবাড়ি ও বানিয়াজান স্পারের মধ্যবর্তী কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। প্রবল স্রোতে ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হয়ে ঢেউ নদীপারে আছড়ে পড়ছে। এতে জিও ব্যাগ ফেলে তীর সংরক্ষণ করা এলাকায়ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

নদী ভাঙনের খবর পাওয়ার পর পরই স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন রোধে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও বিশেষ টিউব ফেলার কাজ পরিচালনা করছে। 

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বলেন, ‘ভাঙন শুরু হওয়ার পরই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বালুভর্তি বিশেষ টিউব ভাঙন রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ কারণে নদী ভাঙনে বিশেষ ক্ষয়ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই।’ 

আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে গোপালগঞ্জে প্রশাসনের কড়া নজরদারি

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে গোপালগঞ্জে প্রশাসনের কড়া নজরদারি
সংগৃহীত ছবি

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গোপালগঞ্জে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার কোথাও আওয়ামী লীগের ব্যানারে কোনো সভা, সমাবেশ, মিছিল কিংবা কেক কাটার অনুষ্ঠানের খবর পাওয়া যায়নি। জেলার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে পালন করছেন।

তবে মাঠপর্যায়ে কোনো কর্মসূচি না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বেশ সক্রিয় দেখা গেছে। অনেকেই আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন স্লোগান, ছবি, ব্যানার ও ফটোকার্ড পোস্ট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করে দাবি করেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বা চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মতপ্রকাশের অধিকার দমিয়ে রাখা যাবে না।

জেলা শহরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা গোপালগঞ্জে অবস্থান করলেও আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তাদের সড়কে টহল দিতে দেখা যায়নি। 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গোপালগঞ্জসহ দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্তের পর সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোরের ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের সেনানীবাস থেকে সেনাবাহিনীর একটি দল গোপালগঞ্জে এসে পৌঁছায়। তবে কতজন সেনাসদস্য বা কতটি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তবে অসমর্থিত একটি সূত্রে জানা গেছে প্রায় ২০০ সেনা সদস্য গোপালগঞ্জে অবস্থান করছেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থান, প্রবেশপথ এবং জনবহুল এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সাদাপোষাকে মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, জেলার সার্বিক পরিবেশ শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। কোথাও আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কোনো কর্মসূচি পালনের তথ্য আমাদের কাছে আসেনি। তবে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত সেনাবাহিনী গোপালগঞ্জে অবস্থান করবে। এ সময়ে জেলা জুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ বলেন, ‘জেলায় কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। শহরের প্রবেশপথ, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং বিভিন্ন মহল্লায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। আমরা চাই, জেলার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক এবং কোনো ধরনের মিটিং-মিছিল বা সহিংস ঘটনার সুযোগ সৃষ্টি না হোক।’

ভাঙন আতঙ্কে পদ্মাপাড়ের মানুষ

অনলাইন ডেস্ক
ভাঙন আতঙ্কে পদ্মাপাড়ের মানুষ

বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই ফরিদপুরের পদ্মা নদীতে দেখা দিয়েছে তীব্র নদীভাঙন। গত কয়েকদিনে ভাঙনের কবলে পড়ে কয়েক শ একর ফসলি জমি, কয়েকটি বসতভিটা চলে গেছে নদীগর্ভে।  ফসলসহ জমি হারিয়ে দিশেহারা চরাঞ্চলের মানুষ। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন পদ্মা-তীরবর্তী এলাকার হাজারো মানুষ। বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছেন নদীতীরের বসতিরা।

স্থানীয়রা জানান, ফরিদপুর সদর উপজেলার পদ্মার তীরবর্তী ইউনিয়ন নর্থচ্যানেল মানুষ প্রতি বছরই নদী ভাঙনের কবলে পড়ে। ভাঙনের শিকার হয়ে ভিটেহারা হয় হাজারো মানুষ। ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয় নদীতে। প্রায় ২০ বছর ধরে এ চিত্র নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের। এ বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই ইউনিয়নটির দুটি গ্রামে নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গী ও শুকুর আলী মৃধা ডাঙ্গীতে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। কয়েকদিনে ভাঙনের কবলে পড়ে কয়েক শ একর ফসলি জমি চলে গেছে নদীগর্ভে। ভাঙনের কবলে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে। নদীভাঙন রোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।

শুকুর আলী মৃধার ডাঙ্গীর বাসিন্দা মোহাম্মদ জসিম, মাসুম খাঁ বলেন, ‘এবার নদীভাঙন ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই ভাঙনের শিকার হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।’ গ্রামের বাসিন্দা জমিলা বেগম, শেখ মোহাম্মদ ও খায়রুল ইসলামের অভিযোগ, পদ্মা নদী থেকে অবাধে বালু তোলার কারণেই ভাঙন শুরু হয়েছে। বালুখেকোদের কিছুই বলা যায় না। তারা বেশ প্রভাবশালী, সবাইকে ম্যানেজ করে তারা বালু তোলে। পদ্মায় পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। নদীর পানি কমলেও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করবে।’

ইউসুফ মাতুব্বর ডাঙ্গীর বাসিন্দা মো. হাসেম, শিল্পী আক্তার বলেন, ‘পদ্মায় কয়েকবার বাড়ি ভেঙেছে। এবারও ভাঙনের মুখে পড়েছি। বাড়িঘর নদীতে চলে গেলে কোথায় গিয়ে দাঁড়াব জানি না।’ বর্তমানে নদীভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে কয়েক শ বসতবাড়ি, হাজারো একর ফসলি জমি, স্কুল, মসজিদ, ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এ ইউনিয়নের আরো ১০টি গ্রাম রয়েছে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে। বিগত দিনে ভাঙনের শুরুতে কিছু বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই নগণ্য।

নর্থচ্যানেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘নদীভাঙনের বিষয়টি জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি ভাঙনরোধে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, ‘বর্ষা মৌসুম এলেই এ ইউনিয়নে নদীভাঙন শুরু হয়। গত বছর ভাঙনকবলিত স্থানে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা হয়েছিল। এবার যেসব স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে সেখানে দ্রুতই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, ‘নদীভাঙন এলাকায় সরেজমিন দেখা হয়েছে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। তা ছাড়া জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আশা করছি, ভাঙনরোধে দ্রুতই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

নড়াইলে মাদক ব্যবসার অভিযোগ এনে বাড়িঘর ভাঙচুর

নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলে মাদক ব্যবসার অভিযোগ এনে বাড়িঘর ভাঙচুর
ছবি: কালের কণ্ঠ

নড়াইল লোহাগড়া উপজেলায় নলদি ইউনিয়নে ব্রাহ্মণীনগর গ্রামে মাদক ব্যবসার অভিযোগ এনে ‘মব সৃষ্টি করে’ বাড়িঘরে হামলা করে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার ( ২১ জুন) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণী ডাঙ্গা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার সোমবার (২২ জুন) দুপুরে সামাদ শেখসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে লোহাগড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ব্রাহ্মণীনগর গ্রামের বাসিন্দা সবুজ সিকদারের কাছে কিছুদিন আগে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন অভিযুক্ত কয়েকজন। চাঁদার টাকা না দিলে গ্রামে বসবাস করতে দেওয়া হবে না বলে তাকে হুমকি দেওয়া হয়। সবুজ সিকদারের অভিযোগ, গত রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালান। সে সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। 

বাড়িতে থাকা তার বাবা, বোন ভাই ও ভগ্নিপতির কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তার বাবাকে মারধর করা হয় এবং বাড়িঘর ও দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়। এজাহারে আরো বলা হয়েছে, হামলাকারীরা ঘরে থাকা নগদ ৮৫ হাজার টাকা, দোকানে থাকা ১৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। এ ছাড়াও মুদি দোকানের মালামাল নষ্ট করা হয় এবং একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।

স্থানীয়ারা জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে হঠাৎ করে একদল মানুষ এসে তাদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। তাদের জিজ্ঞাসা করলে তারা বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে বাড়িঘর হামলা ভাঙচুর করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মন্নু মোল্যা বলেন, ২০ থেকে ২৫ জনের এক দল লোক হঠাৎ করে এসে বাড়িঘর দোকান ভাঙচুর করে। তাদের কাছে হামলার কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে ভাঙা হচ্ছে। এসময় তিনি নিজেকে ৬৫ বছর বয়স দাবি করে আরো বলেন, এখানে কোনো মাদক ব্যবসা হয় না। পাশে মসজিদ। এখানে সব সময় গ্রামের মানুষ থাকে কেউ বলতে পারবে না তারা মাদক ব্যবসায় জড়িত। স্থানীয় কোন্দলে তাদের নামে মিথ্যা অভিযোগ এনে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। 

অভিযুক্তদের একজন সামাদ শেখ তিনি বলেন, তারা গাজার ব্যবসা করে। ওর জামাই মোটরসাইকেলে এনে দেয় আর ওরা দুজন বিক্রি করে।ওই বাড়ি থেকে একজন গাঁজা কিনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাকে ধরে স্থানীয়রা জিজ্ঞেস করতেই সবুজদের নাম বলেন। তখন স্থানীয়রাসহ কয়েক গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়। আমি সেখানে বিষয়টি মিমাংসার জন্য গিয়েছিলাম। হামলার সঙ্গে আমি জড়িত না। চাঁদা দাবির যে অভিযোগ করা হচ্ছে এটি সঠিক না।

এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমরা দেখছি।

যানবাহনের জন্য ফেরির অপেক্ষা শিমুলিয়া ঘাটে | কালের কণ্ঠ