kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

মানবিক পুলিশ ইউনিট সিএমপি

পুলিশের করোনাজয়ী অরুণ চাকমা এখন প্লাজমা দাতা

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

২৯ মে, ২০২০ ০৭:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুলিশের করোনাজয়ী অরুণ চাকমা এখন প্লাজমা দাতা

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের প্রথম করোনাজয়ী কনস্টেবল অরুণ চাকমা এবার অন্যন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন করোনাআক্রান্ত একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের জন্য প্লাজমা দিয়ে। বৃহস্পতিবার বিকালে তাঁর শরীর থেকে ৬৫০ এমএল প্লাজমা নেওয়া হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সমীরুল ইসলাম বাবুর শরীরে শুক্রবার সকালে এই প্লাজমা দেওয়ার কথা রয়েছে। অন্য একজন রোগীও একজন বিশেষজ্ঞ রোগীর বাবা। তাঁকেও অরুণ চাকমার প্লাজমা দেওয়া হবে।

পুলিশ কনস্টেবল অরুণ চাকমা স্বেচ্ছায় এবং খুশি মনে ডা. সমীরুল ইসলাম বাবুর জন্য নিজের শরীরের প্লাজমা দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ম ম মিনহাজুর রহমান। রাতে কালের কণ্ঠের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আগের দিন ডা. সমীরুল ইসলাম বাবুর শরীরে এক দফা প্লাজমা দেওয়া হয়েছিল। এতে তাঁর শরীর কিছুটা উন্নতি হয়েছে। কিন্তু আরো প্লাজমার প্রয়োজন হলে আমরা হন্য হয়ে প্লাজমা খোঁজা শুরু করি। কয়েকজনের সন্ধান পাই। কিন্তু তাঁদের রক্তের গ্রুপ এবি পজেটিভ নয়। এই কারণে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এক পর্যায়ে যোগাযোগ করি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) আমেনা বেগমের সঙ্গে। তিনি বিষয়টি শুনেই খুশি মনে বলেন, করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে যাঁরা সুস্থ হয়েছেন, তাঁদের রক্তের গ্রুপ দেখে তিনি প্লাজমা দেওয়ার বিষয়ে তাঁদের উৎসাহ দেবেন।

সেই ধারাবাহিকতায় নগর পুলিশের প্রথম করোনাজয়ী অরুণ চাকমাকে পাওয়া যায়, যাঁর শরীরে এবি পজেটিভ রক্ত রয়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনিই প্লাজমা দিলেন। শুক্রবার সকালে এই প্লাজমা ডা. সমীরুল ইসলাম বাবুর শরীরে সরবরাহ করার কথা রয়েছ।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে প্রথম করোনাজয়ী অরুণ চাকমা রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, আমার শরীরের রক্ত এবি পজেটিভ। আমি বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ডিউটি করছিলাম প্রবর্তক মোড়ে। এরই মধ্যে এডিসি (হেডকোয়ার্টার) মঈনুল ইসলাম স্যার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে প্লাজমা দেওয়ার প্রস্তাব করেন। সঙ্গেই সঙ্গেই আমি রাজি হই। বলি, মানুষ মানুষের জন্য। আমি অবশ্যই প্লাজমা দেব, স্যার।

এই কথা শুনে স্যার আমাকে ধন্যবাদ জানিয়ে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে জানান। আমি ডিউটি শেষে দুইটার সময় পোশাক পরিবর্তন করি এবং খাবার শেষ করে দ্রুত ডা. মিনহাজুর রহমানের চেম্বারে যাই। তিনিই আমাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ট্রান্সমিশন বিভাগের প্রধান ডা. তানজিলা তাবিব আমার শরীর থেকে প্লাজমা সংগ্রহ করেন। সন্ধ্যার আগেই আমি ফিরে আসি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সিএমপির প্রথম করোনাজয়ী আমি। আবার সিএমপির পুলিশ সদস্য হিসেবে আমিই প্রথম প্লাজমা দেওয়ার সুযোগ পেলাম। এই জন্য আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সেই সঙ্গে সিএমপির উর্ধ্বতন স্যারদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এই কারণে, আমি আক্রান্ত হওয়ার পর স্যারেরা আমার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন। আবার সুস্থ হওয়ার পর মানবিক কাজে অংশ নিতে আমাকে সুযোগ দিয়েছেন। এতে মানবিক পুলিশ ইউনিট হিসেবে সিএমপির সুনাম বৃদ্ধি পাবে-এতেই আমি সন্তুষ্ট।

প্রসঙ্গত, অরুণ চামকা ট্রাফিক উত্তর বিভাগে কর্মরত। তিনি গত ১৯ এপ্রিল করোনাআক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ৩ মে তিনি প্রথম করোনাজয়ী হিসেবে ফিরে আসেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা