kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

ধনু নদীর ভাঙনে ১০৭ বাড়ি বিলীন

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি, নেত্রকোনা   

২৮ মে, ২০২০ ২২:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধনু নদীর ভাঙনে ১০৭ বাড়ি বিলীন

গত এক সপ্তাহে নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলাধীন খরস্রোতা ধনু নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে নতুন করে নদী তীরবর্তী চরপাড়া গ্রামের আরো ৫৭টি পরিবারের ভিটে বাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের ওই ৫৭টি পরিবারের লোকজন ভিটেবাড়ি হারিয়ে তারা এখন মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এর কয়েক মাস আগেও ধনু নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে ওই গ্রামের আরো প্রায় অর্ধ্ব শতাধিক পরিবারের ভিটেবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এদিকে ক্ষতিগ্রস্থ ওই পরিবারগুলোকে গ্রামের পাশের খাস জমিতে সাময়িকভাবে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমানসহ নদী গর্ভে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আলী উসমান, আব্দুল হেকিম, আব্দুল মালেকসহ অনেকেই বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকেই আমরা ওই গ্রামটিতে বসবাস করে আসছিলাম। বর্তমানে ওই গ্রামটিতে প্রায় ৬০০ পরিবার বসবাস করে আসলেও নদী ভাঙনের কবলে পড়ে এ পর্যন্ত আমাদের ১০৭টি পরিবারের ভিটেমাটি ওই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় আমরা এখন পরিবার নিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে মানবেতর জীবন-যাপন করছি। তাই আমাদেরকে স্থায়ীভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান বলেন, গত প্রায় ১ সপ্তাহ ধরে প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ধনু নদীতে প্রবল স্রোতে ও ঢেউয়ের তীব্রতা বেড়ে গেছে। এতে করে নদীর তীরবর্তী ওই গ্রামটি ভাঙনের কবলে পড়ে এভাবেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তাই দ্রুতই ওই ভাঙন ঠেকানো না হলে প্রায় ৬শ পরিবারের পুরো গ্রামটিই ক্রমান্নয়ে নদী গর্ভে হারিয়ে যাবে।

স্থানীয়রা বলছেন, খুব বেশী গভীর ও খরস্রোতা ওই নদীতে প্রতিরক্ষা বাঁধ দিয়ে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে না। তাই গ্রামটিকে রক্ষার জন্য নদীর স্রোতধারা খননের মাধ্যমে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে হবে। গ্রামটির কয়েক কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম দিকে হাওরে (অধিকাংশই বিল এলাকা) তিন-চার কিলোমিটারের মতো খনন করলেই একদিকে গ্রামটি যেমন রক্ষা হবে, অন্যদিকে এ নদীকে ঘিরে প্রতিনিয়ত লঞ্চ, কার্গো চলাচল করা নৌ-পথের একটি বড় বাঁকও সোজা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম জানান, গ্রামবাসীর সঙ্গেঁ একমত হয়ে গ্রাম থেকে দূরে প্রবাহের লক্ষে ওই নদীটি খনন করার জন্য ইতোমধ্যেই নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ড উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এ প্রস্তাবে খালিয়াজুরীর কৃতি সন্তান ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার মহোদয়ের সুপারিশও রয়েছে। 

ইউএনও আরো জানান, ভাঙনে নিঃস্ব পরিবারসমূহের স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করতে একটি গুচ্ছ গ্রাম নির্মাণের জন্য উপর মহলে লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ওইসব পরিবারের লোকজনদেরকে সাময়িকভাবে স্থানান্তরেরও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও আগামী রবিবার নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মঈনউল ইসলাম মহোদয় গ্রামটিতে এসে সরকারি ব্যাবস্থাপনায় ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তত সপ্তাহ খানেকের খাদ্য সহায়তা দেবেন বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা