kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

জুয়ার আসরে ধাওয়া খেয়ে নিখোঁজ, একদিন পর মিলল লাশ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২৮ মে, ২০২০ ২০:৪৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জুয়ার আসরে ধাওয়া খেয়ে নিখোঁজ, একদিন পর মিলল লাশ

জুয়া খেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে লাপাত্তা হন বকুল মিয়া (৪৫)। অনেক খোঁজাখুজি ছাড়াও জুয়ার আসরের পাশে বিলের পানিতে ফায়ারর্ভিসের ডুবরিরা দফায় দফায় সন্ধান চালিয়েও নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান করতে পারেনি। অবশেষে একদিন পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর লাশ পাওয়া যায় স্থানীয় বেহাই বিলের পানিতে। এ ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের মাইজবাগ ইউনিয়নের চরশংকর মল্লিকপুর এলাকায়।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ওই বিল পাড়ের একটি নির্জনস্থানে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর চলছিল। এই আসরের কারণে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ ছিলেন। গ্রামবাসীদের একটি সূত্র জানায়, জুয়ার আসরটি বন্ধ করার জন্য এলাকাবাসী স্থানীয়ভাবে থানা পুলিশকে জানালেও কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন করেনি ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে বাধ্য হয়ে তাঁরা জেলা প্রশাসনের কাছে একটি অভিযোগ পাঠায়।

এই অবস্থায় ঈদের পরদিন গত মঙ্গলবার বিকালে জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জুয়ার আসর থেকে চারজনকে ধরতে পারলেও বকুল মিয়াসহ অনেকেই পালিয়ে যায়। গ্রেপ্তারকৃত চারজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে চারজনকে একমাস করে কারাদণ্ড প্রদান করেন। অনেকের ধারনা ছিল পাশেই বিলের পানিতে ঝাপ দিয়ে আত্মগোপন করেছে। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় সন্ধান করেও বকুল মিয়ার সন্ধান করা যায়নি।

সূত্রটি জানায়, জুয়ার আসরে অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে অনেক মানুষের সমাগম ঘটে। তবে পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনা তখনকার মতো জানাজানি হয়নি। তবে বকুল মিয়া নিখোঁজ থাকায় বিষয়টি জানাজানি হয়।

বকুল মিয়ার ভাই মো. রফিকুল ইসলাম রবি কালের কণ্ঠকে জানান, এখানে জুয়া খেলা হয় তা ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ জানে। তাদের অনেকবার জানানোও হয়। কিন্তু কোনো কাজে আসেনি। রবি আরও জানান, ভাই বকুল নিখোঁজের ঘটনার পরদিন বুধবার তিনি ঈশ্বরগঞ্জ থানায় যান সাধারণ ডাইরি (জিডি) করার জন্য। কিন্তু পুলিশ জিডি গ্রহণ করেনি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় থানার পুলিশ যদি জুয়ার আসরটি আগে বন্ধ করতো তাহলে মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত না।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান আকন্দ বলেন, জিডি লেখায় ভুল ছিল। পরে আসার জন্য বলা হয়েছিল। আরেক প্রশ্নের উত্তরে ওসি বলেন, বেহাই বিলের পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর চলার তথ্য পুলিশের জানা ছিল না। ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময়ও ঈশ্বরগঞ্জ থানার পুলিশ সেখানে উপস্থিত ছিল না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা