kalerkantho

সোমবার । ২২ আষাঢ় ১৪২৭। ৬ জুলাই ২০২০। ১৪ জিলকদ  ১৪৪১

সপরিবারে করোনা জয় করলেন নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি   

২৮ মে, ২০২০ ০৭:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সপরিবারে করোনা জয় করলেন নোবিপ্রবি শিক্ষার্থী

সপরিবারে করোনায় আক্রান্ত হওয়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(নোবিপ্রবি) মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী মোবারক হোসেন এবং তার পরিবারের অন্য সদস্যরা সবাই করোনা জয় করেছেন। গতকাল বুধবার(২৭মে) বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন মোবারক 
হোসেন।

এ ছাড়া করোনায় আক্রান্ত হলে কি করা উচিত, কিভাবে করোনা জয় করা যায় এসব নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসও দিয়েছেন। স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো:

সকলের দোয়া আর আমাদের চেষ্টার মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা পরিবারের সাতজনকেই মুক্তি দিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ। শুরুটা ২ মে থেকে ভাইয়ার লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার মাধ্যমে। ৪ মে ভাইয়ার টেস্ট করতে দেওয়া হলে গত ১০ মে ভাইয়ার পজিটিভ জানতে পারি। ফলে বাসা লকডাউন হয়ে যায়। ১১মে পরিবারের সবার টেষ্ট স্যাম্পল নেয়ার পরেই সবার মধ্য লক্ষণ প্রকাশ পায়। বুঝতে বাকি নেই আমরাও করোনায় আক্রান্ত। ১২মে জানতে পারি সবাই আক্রান্ত। প্রথমে খুব ঘাবড়ে যাই, ভেঙে পড়ি। কারণ আমার আব্বু ৫৮ বছরের অধিক বয়স, ডায়াবেটিকস রোগী এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যা নিয়ে বেঁচে আছে।

আমার আম্মু মেজর ব্রেইন স্ট্রোকের রুগী, এখনো নিজের নাম মনে করতে পারেন না। ডায়াবেটিকস, হাইপার টেনশানের রোগী। উনাদের কথা চিন্তা করে ভেবেছিলাম হয়তো এই করোনায় কি হতে যাচ্ছে পুরা পরিবারের। কিন্তু পরে ভাবলাম ভেঙে পড়াই তো হেরে যাওয়া। আর মাইক্রোবায়োলজিতে পড়ে এক্ষেত্রে ভয় পাওয়া মোটেও উচিত না।

নিজেকে শক্ত করে সবাইকে বোঝালাম ১০দিন আগেও যেভাবে চলতাম বাসায় আমরা সবাই  ঠিক ওইভাবে চলব। দূরুত্ব বজায় রাখব না। মাস্ক পড়বনা বাসার ভিতরে, কারণ সবাইতো আক্রান্ত আর এতে এটা কোনো সমস্যা না, প্রতিরোধ করা যায়। প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। আরো অনেক কথা বলে সবাইকে মোটিভেট করলাম।

তারপর আমি নিজেই সবাইকে ট্রিটমেন্টের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ফর্মুলা মোতাবেক ট্রিটমেন্ট করাই। ভাইয়া ছাড়া আসলে আমাদের কাউকে খুব ক্রিটিক্যাল সিচুয়েশনে যেতে হয়নি। আমার সর্দি, গলা খুসখুস কাশি ছিল, যেটা একদিনের জন্য, শরীর ব্যথা ছিলো, দুই দিন শ্বাসকষ্ট হয়নি। ছোট ভাইয়েরও একদিন সর্দি, গলা খুসখুস ভালো হয়ে যায়। ভাবির জ্বর আর হালকা কাশি একদিনেই কমে যায়। আব্বুর জ্বর ২ দিন, কাশি ২-৩ দিন, শরীর ব্যথা ৩-৪ দিন ছিল। আম্মুর জ্বর মাঝে মাঝে আসতো ১০১ ডিগ্রীর বেশি হয়নি। গলায় খুসখুস কাশি ২ দিন ছিল, শরীর ব্যথা ১ দিনেই শেষ হয়ে যায়, জ্বর ২/১ দিন পরে পরে আসতো, তাও ১০১ ডিগ্রীর বেশি না। 

ছোট বোন এর হালকা সর্দি হয়েছিল যদিও ১২ তারিখের রেজাল্টে তার নেগেটিভ আসে। আসলেই আল্লাহর রহমতে খুব খারাপ পরিস্থিতিতে যেতে হয়নি আমাদের কাউকে। শ্বাসকষ্ট শুধু ভাইয়ার ছিল। ৮ মে ওর খুব শ্বাসকষ্ট হয়েছিল। ৯ মে থেকে কমতে শুরু করে, তারপর ১১তারিখের টেস্টে ওর নেগেটিভ আসে প্রথমবার। আসলেই খুব বেশী কষ্ট পেতে হয়নি, সাধারণ জ্বর,সর্দি,কাশি থেকেও নরমাল মনে হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা