kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

হরিরামপুরে পদ্মার তীর সংরক্ষণ বাঁধে ধস, ভাঙন আতঙ্ক

সিঙ্গাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৭ মে, ২০২০ ১৮:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হরিরামপুরে পদ্মার তীর সংরক্ষণ বাঁধে ধস, ভাঙন আতঙ্ক

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বকচর, জগন্নাথপুর, রামকৃষ্ণপুর, ভাওয়ারডাঙ্গী ও বয়ড়া ইউনিয়নের আন্ধারমানিক, খালপাড়, বয়ড়া, দাশকান্দি, দড়িকান্দী এলাকায় বাঁধের আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে পদ্মার ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বাঁধটি ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানিয়েছেন পদ্মাপাড়ের মানুষ।

হরিরামপুর উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়ন। এরই মধ্যে পদ্মায় সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে গেছে উপজেলার লেছড়াগঞ্জ, সুতালড়ি, আজিমনগর, হারুকান্দি আর কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন। ভেঙে গেছে বয়ড়া, রামকৃষ্ণপুর, গোফিনাথপুর ও  ধুলশুড়া ইউনিয়নের অধিকাংশ ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। বর্ষার শুরু ও ভাটার সময় প্রতিবছরই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে পদ্মা। 

গত বছর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে উপজেলার ৪৫ নম্বর সৈয়দনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমলাপুর জামে মসজিদ, বাহাদুরপুর বাজার ও কয়েকটি গ্রামীণ সড়কসহ রামকৃষ্ণপুর, কাঞ্চনপুর, ধুলশুরা ও গোফিনাথপুর ইউনিয়নের সহাস্রাধিক বাড়িঘর ও বিস্তীর্ণ কৃষি জমি।

পদ্মার ভাঙন থামাও হরিরামপুর বাঁচাও অন্দোলনকর্মী সোহাগ মুন্সী, মাসুদুর রহমান ও স্থানীয় সমাজকর্মী আবিদ হাসান বলেন, উপজেলাবাসীর দাবির মুখে ২০১৬ সালে ১১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে মির্জানগর থেকে পয়মালী পর্যন্ত ৮ দশমিক ৮ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হয়। 

বাঁধটিতে প্রতিবছরই ভাঙন দেখা দেয়। কয়েকদিন হলো রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বকচর, জগন্নাথপুর, রামকৃষ্ণপুর, ভাওয়ারডাঙ্গী ও বয়ড়া ইউনিয়নের আন্ধারমানিক, খালপাড় বয়ড়া, দাশকান্দি, দড়িকান্দীসহ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে নতুন ভাঙন শুরু হয়েছে। তারা আরো জানান, নদীর প্রবল স্রোত ও ইঞ্জিনচালিত বড় বড় নৌযান চলাচলে প্রচণ্ড ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়ে বাঁধের সিসি ব্লকগুলো ধসে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। বাঁধটি সুরক্ষায় এখনই কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। পদ্মার করাল গ্রাসে হারিয়ে যাবে উপজেলা পরিষদ, থানা কমপ্লেক্স, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সরকারি-বেসরকারি বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ অনেক এলাকা। বাঁধটি ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

হরিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিল্লাল হোসেন বলেন, মঙ্গলবার (২৬ মে) পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের ভাঙন কবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। বাঁধের রামকৃষ্ণপুর ও বয়ড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধটি সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে বুধবার (২৭ মে) সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাইনুদ্দিনসহ কয়েকজন কর্মকর্তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু অনেক চেষ্টার পরও দায়িত্বশীল এসব কর্মকর্তাদের কারো সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা