kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

জামালপুরে মাস্ক পরাতে যুবকদের পাহারা

দিচ্ছে মাস্ক উপহার

জামালপুর প্রতিনিধি   

২৭ মে, ২০২০ ০৯:৫৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জামালপুরে মাস্ক পরাতে যুবকদের পাহারা

জামালপুর জেলায় প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে জনসাধারণের মাস্ক ব্যবহার না করাসহ সরকারি স্বাস্থ্যবিধি না মানার প্রবণতা বাড়ছে। এ অবস্থায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে জামালপুর শহরের প্রধান সড়কের ব্যস্ততম দয়াময়ী মোড়ে পাহারা বসিয়েছে স্থানীয় একদল যুবক। তারা হ্যান্ডমাইকে জনসাধারণের উদ্দেশে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোসহ সবাইকে মাস্ক পরতে বাধ্য করছেন। বিনামূল্যে ২০০ মাস্কও বিতরণ করেছেন তারা।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে জামালপুর শহরের দয়াময়ী মোড়ে দেখা যায়, একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা আসছে। চালক ও এক যাত্রীর মুখে মাস্ক নেই। দুই যাত্রীর মুখে মাস্ক আছে। স্বেচ্ছাসেবী ঝুন্টি ও তুহীন নামের স্থানীয় দুই যুবক রিকশাটি থামালেন। তারা প্রথমে কেন মাস্ক পরেন নাই তারা। তারা কি জানেন না যে করোনাভাইরাসে অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক মানুষ মারাও যাচ্ছে। রিকশার চালক ও যাত্রী একদম নিরব। কোনো জবাব নেই। তারা বেশ লজ্জাও পাচ্ছিলেন। ঝুন্টি ও তুহীন দুটি সার্জিক্যাল মাস্ক কিনে এনে তাদেরকে দিলেন। মাস্ক পেয়ে তারা খুব খুশি। যাবার সময় বলে গেলেন এখন থেকে তারা নিয়মিত মাস্ক পরবেন। তারা আর ভুল করবেন না। রিকশায় অতিরিক্ত যাত্রীও তুলবেন না।

এরপর দেখা যায়, একটি মোটরসাইকেলে খুব দ্রুতগতিতে তিন যুবক ঈদের ফুরফুরে মেজাজে আসছেন দয়াময়ী মোড়ের দিকে। তিন জনেরই মাস্ক আছে। তবে মাস্কগুলো তারা নাক-মুখ ঢেকে রাখার পরিবর্তে নামিয়ে থুতনির নিচে গুটিয়ে রেখেছে। এই পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবী যুবকদের সামনে পড়ায় তারা বেশ কাচুমাচু করছিলেন। তাদেরকে বুঝিয়ে বলার পর তিনজনই থুতনি থেকে মাস্ক উঠিয়ে সঠিকভাবে মাস্ক পরে নিলেন। বলেও গেলেন আর এমন হবে না।

এছাড়াও আরো অনেককেই দেখা যায় পকেটে মাস্ক আছে, কিন্তু পরেন নাই। তাকে তার মাস্কটি পরানো হচ্ছে এবং করোনাভাইরাস সম্পর্কে সতর্ক করা হচ্ছে। যাদের মাস্ক কেনার সামর্থ্য আছে তারা পাশের দোকান থেকে একটি মাস্ক কিনে মুখে লাগিয়ে চলে যাওয়ার সময় এই প্রচারণাকে স্বাগত জানাচ্ছেন। যুবকদের এই উদ্যোগে সাড়া দিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী রঞ্জন কুমার সিংহ তাৎক্ষণিক ২০০ সার্জিক্যাল মাস্ক কিনে দিলেন। স্বেচ্ছাসেবী যুবকরা সেই মাস্কগুলো যারা মাস্ক না পরে দয়াময়ী মোড় দিয়ে যাচ্ছেন তাদেরকে বিনামূল্যে একটি করে মাস্ক উপহার দিচ্ছেন। নিয়মিত মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য প্রত্যেককে অনুরোধ করছেন।  
     
স্থানীয় যুবক প্রসাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৫ জনের একদল যুবক সবাই নিজেরা মাস্ক পরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এভাবেই সবাইকে সচেতন করতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে পাহারা বসিয়েছেন শহরের ব্যস্ততম দয়াময়ী মোড়ে। করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে শৃংখলার সাথে তারা সবাইকে মাস্ক পরতে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হ্যান্ডমাইকে অনুরোধ করছেন। আজ বুধবার থেকে পালাক্রমে স্থানীয় যুবকদের এই ধরনের জনসচেতনামূলক কার্যক্রম চলমান থাকবে। তারা বিনামূল্যে মাস্কও বিতরণ করবেন।  

উদ্যোক্তাদের মধ্যে স্থানীয় যুবক প্রসাদ চৌধুরী এ প্রসঙ্গে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রকোপের প্রথম দিকে সরকারি-বেসরকারি দপ্তর এমনকি পৌরসভা থেকে নানামুখী সচেতনামূলক প্রচারণা চালানো হতো। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে তা আমাদের চোখ পড়ে না। আমরা দেখছি যে অনেকেই মাস্ক পরেন না, অনেকের মাস্ক আছে কিন্তু সঠিকভাবে পরেন না। অনেকেই মাস্ক পকেটে রেখে শহরে ঘুরতেছেন। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক পরা নিয়ে শৃংখলা ফিরিয়ে আনার জন্যই আমরা এই জনসচেতনামূলক কার্যক্রম শুরু করেছি। একজন ব্যবসায়ীর সহায়তায় আমরা ২০০ মাস্কও বিনামূল্যে বিতরণ করেছি।

তিনি আরো বলেন, ‘জামালপুর জেলায় গত সোমবার পর্যন্ত সারা জেলায় ১৯৩ ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই জেলায় মারাও গেছেন চারজন। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তাই পথচারী, যাত্রী ও অন্যান্য সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সবাইকে মাস্ক পরার গুরুত্ব বোঝানো, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণসহ স্বাস্থ্য সচেতনামূলক আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা