kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩০ আষাঢ় ১৪২৭। ১৪ জুলাই ২০২০। ২২ জিলকদ ১৪৪১

কমতি নেই ঈদ উৎসবের, মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৬ মে, ২০২০ ২০:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কমতি নেই ঈদ উৎসবের, মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

পৃথিবীজুড়ে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক। রয়েছে বাংলাদেশেও। দিন দিন দেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। দেশজুড়ে গতকাল সোমবার এক অভিন্ন বাস্তবতায় অনেকটা নিরবেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হলেও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ঈদ উৎসবের কোনো কমনি নেই। ঈদের দিন সকালের দিকে বৃষ্টির কারণে মানুষ ঘরবন্দি থাকলেও ঈদের দিন বিকেলের দিকে লোকজনকে বাইরে ঘুরাফেরা করতে দেখা গেছে।

আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই ঈদের বেড়ানো শুরু হয়েছে। এ উপজেলায় আঞ্চলিক নিয়মানুয়ায়ী ঈদের পরদিন লোকজন একে অপরের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে বেড়াতে যান। জামাই (বর) শ্বশুর-শাশুড়িকে ঈদের সালাম করতে ঈদের পর শ্বশুর বাড়ি যান। অনুরূপভাবে শ্বশুরবাড়ির লোকও বরের বাড়িতে বেরাতে যান। এছাড়া আত্মীয় স্বজন, বন্ধু, বান্ধব, শুভানধ্যায়ীসহ কাছের দুরের পরিচিত লোকজন ঈদের বেড়ানোতে ব্যস্ত। তবে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অবাধে চলছে ঘোরাঘুরি। সামাজিক যোগাযোগ মানছেন না অনেকেই।

আজ দুপুরে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। সরেজমিন পরিদর্শনকালে অধিকাংশ লোকজনকে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। শহরের জগন্নাথপুর বাজারের নিকটবর্তী জগন্নাথপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের ইড়কছুঁই এলাকায় অটোরিকশা-টেম্পু স্ট্যান্ড এলাাকায় ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। 

লোকজন অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ব্যাটারিচালিত যানবাহনে করে গন্তব্যে যাচ্ছে। এসব যানে সমাজিক দূরত্ব কিংবা স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। গা ঘেঁষে যানবাহনে চলাচল করছেন মানুষজন। 

এছাড়া ইকড়ছুঁই মাদরাসা পয়েন্ট, মুক্তিযোদ্ধা মোড়, পৌর পয়েন্ট ও রানীগঞ্জসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। ফলে করোনার ঝুঁকির শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করেন সচেতন মহল।

তবে ঈদে বাড়ানোর জন্য বাহিরে থাকা অধিকাংশ লোকজন জানান, প্রতি ঈদেই আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সালাম বিনিময়ের মাধ্যমে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা হয়ে আসছে। এজন্য এবারও সামাজিক নিয়ম অনুয়ায়ী ঈদে বেড়ানোর পাশাপাশি হাসি-খুশি সবাই মিলে উপভোগ করা হচ্ছে। তবে করোনা তাদের হবে না বলে বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন।

জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মধু সুদন ধর বলেন, জগন্নাথপুরে ৬ জন করোনায় শনাক্ত হলেও বর্তমানে তারা সুস্থ হয়ে বাড়িতেই আছেন। তিনি জানান, এবার ঈদ বাজারে নারী পুরুষের ঢল ছিল। সামাজিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অবাধে ঈদে‌ও ঘোরাঘুরি চলছে। ফলে করোনায় সংক্রমণের ঝুঁকির শঙ্কা আছে। সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে থাকার জন্য তিনি আহবান জানান।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহফুজুল আলম মাসুম জানান, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে আমরা কাজ করছি। সরকারি নির্দেশনা অনুয়ায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপনের জন্য তিনি সবাইকে আহবান জানিয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা