kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ আষাঢ় ১৪২৭। ৯ জুলাই ২০২০। ১৭ জিলকদ ১৪৪১

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মসজিদের অনুদান আত্মসাৎ, খতিবের জেল

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি   

২৬ মে, ২০২০ ১৮:০৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মসজিদের অনুদান আত্মসাৎ, খতিবের জেল

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মসজিদের অনুদানের টাকা কম প্রদান ও ভুয়া মসজিদ দেখিয়ে অনুদানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শুখানপুকুরী ইউনিয়নের মো. জয়নাল আবেদিন ওরফে মন্ডল (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে ৬ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে এ সাজা প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. জয়নাল আবেদিন ওরফে মন্ডল ওই ইউনিয়নের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ইউনিয়ন লিডার এবং ব্যাংরোল বুঝারিপাড়া মসজিদের খতিব। তার পিতার নাম তোয়াজ শেখ।

জানা যায়, করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রত্যকটি মসজিদে ৫০০০ টাকা করে অনুদান প্রদানের সিদ্ধান্ত নেন। সে মোতাবেক ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় পৌরসভাসহ ১১৪০টি মসজিদে ঈদের আগেই ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের টাকা প্রদান করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ইসলামিক ফাউন্ডেশন সমুদয় টাকা উত্তোলন করে তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ইউনিয়নের মসজিদগুলোতে সেই টাকা বিতরণ করেন।

এরই মধ্যে অভিযোগ পাওয়া যায়, সদর উপজেলার শুখানপুকুরী ইউনিয়নের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি জয়নাল আবেদিন ওরফে মন্ডল তার নিয়ন্ত্রণাধীন মসজিদগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দ পাঁচ হাজার টাকা করে না দিয়ে কোনো মসজিদে ২০০০, কোনো মসজিদে ৩০০০ আবার কোথাও ২৫০০ টাকা করে বিতরণ করেন। শুধু তাই নয় ওই ইউনিয়নে ৬টি ভুয়া মসজিদ দেখিয়ে রাসেদ, পিতা শুকুর আলী মাস্টার, সাহার আলী, পিতা ভুতু শেখ ওরফে কোরবান, শুকুর আলী, পিতা ভুতু শেখ ওরফে কোরবান, ইলিয়াস, পিতা রহমান, আলম, পিতা ইয়ামুদ্দিন ও বদিউল, পিতা কানচিয়া মুন্সিকে মসজিদের মুয়াজ্জিন বানিয়ে ৩০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।

বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সোমবার রাতেই ওই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আমজাদসহ স্থানীয়রা জয়নাল আবেদিন ওরফে মন্ডলকে ইউনিয়ন পরিষদে আটক করে রাখেন। মঙ্গলবার তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে তিনি তার নিজের দোষ স্বীকার করেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মসজিদের অনুদানের টাকা কম প্রদান ও ভুয়া মসজিদ দেখিয়ে অনুদানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে মসজিদে মসজিদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অনুদানের টাকা আত্মসাতকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। একজন আত্মসাতকারীকে সাজা প্রদান করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রত্যেকটি মসজিদে খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে। অনিয়ম পেলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা