kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

ফটিকছড়িতে ইউপি সদস্যকে গুলি করে হত্যা

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম ) প্রতিনিধি   

২৫ মে, ২০২০ ১৬:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ফটিকছড়িতে ইউপি সদস্যকে গুলি করে হত্যা

ফটিকছড়িতে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত ইউপি সদস্য জব্বার আলী।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার খিরাম ইউপি সদস্য মো. জব্বার আলী (৪২) ঈদের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করেছে। আজ সোমবার (২৫ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার খিরাম ইউপির চৌমহনী এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার খিরাম ইউপির ৫নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার জব্বার ঈদের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নাজিরহাটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। স্থানীয়দের ধারণা আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের বিবাদমান অর্ন্তকোন্দলের জেরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।
 
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) আবদুল্লাহ আল মাসুম ঘটনাস্থলে ছুটে যান। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, জব্বার মেম্বার ঈদের নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে চৌমহনী এলাকায় এলে দুর্বৃত্তরা তাকে আক্রমণ করে এবং তাকে লক্ষ্য করে গুলি করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে নাজিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত হয়।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে তদন্তে জানতে পেরেছি ইউপি সদস্য জব্বার ও খিরাম ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন সৌরভের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধ থেকেই এ খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারা দুজন আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

স্থানীয়রা আরো জানায়, উক্ত খিরাম ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন সৌরভ ও ইউপি সদস্য জব্বার আলী মেম্বারের অনুসারীদের মধ্যে গত রাতে খিরাম চৌমহনী বাজারে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনার জের ধরে আজ জব্বার মেম্বারকে একা পেয়ে দুর্বৃত্তরা হামলা করে।

এ বিষয়ে খিরাম ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন সৌরভ মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, গতকাল এক প্রবাসীকে আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল আলমের লোকজন তুলে নিয়ে গিয়ে বেধম প্রহার করে। তাকে উদ্ধার করতে তার পরিবারের লোকজন এগিয়ে গেলে তাদের ও একইভাবে প্রহার করা হয়। আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল আলমের বাড়ির মসজিদে আজ ঈদের নামাজের পর সে ঘটনার জের ধরে উভয়পক্ষ আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

মেম্বার জব্বার সেখানে উভয়পক্ষকে থামাতে গেলে গুলিবিদ্ধ হয়। অন্য একজন মেম্বারসহ জব্বারকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, গত রাতে প্রায় দুই শ জনের এক দুর্বৃত্তের দল আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার বাড়ি ঘিরে ফেলে, আমি কোনো রকমে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পাই। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা