kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ আষাঢ় ১৪২৭। ৩ জুলাই ২০২০। ১১ জিলকদ  ১৪৪১

করোনায় পিতৃহারা সন্তানদের সঙ্গে ঈদ করলেন এসিল্যান্ড

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৫ মে, ২০২০ ১৬:৩০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনায় পিতৃহারা সন্তানদের সঙ্গে ঈদ করলেন এসিল্যান্ড

করোনায় বাবা মারা যাওয়ার কয়েকদিন পর মায়েরও করোনা পজিটিভ হওয়ায় অসহায় হয়ে পড়ে পরিবারের দুটি শিশু। একজনের বয়স ১২ আনেকজন ২ বছর ৩ মাস। গিতার চাকুরিসূত্রে গাইবান্ধা থেকে সোনারগাঁয়ে আসা এ পরিবারটি কোনো আত্মীয় না থাকায় দায়িত্ব নেন সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল মামুন। আজ ঈদুল ফিতরের দিনের অধিকাংশ সময় তাদের সাথেই কাটিয়েছেন তিনি।

জানা যায়, ১৯ এপ্রিল রাত ২টায় করোনাভাইরাসে বাবা আ. আব্দুর রহিমের মৃত্যুর পর ২ মে মা রোজিনা করোনায় আক্রান্ত হয়। ১২ বছর বয়সে ছোট ভাইকে নিয়ে যখন দুর্বিষহ জীবনের হাতছানি ঠিক তখনই ৩ মে সকালে ত্রাতা হয়ে তাদের পাশে দাঁড়ান সোনারগাঁ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল মামুন ও স্ত্রী। মা রোজিনা লকডাউনে থাকায় ২ বছর ৩ মাসের ইয়ানুর ও ১২ বছরের রবিউলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারা। যতদিন মা সুস্থ না হবেন ততদিন তাদের সকল দায়িত্বভার গ্রহণ করেন আল মামুন।

মৃত রহিমের স্ত্রী জানান, তিনি এখন করোনামুক্ত। হোম কোয়ারেন্টিনে থাকাকালীন আমার সন্তানদের দায়িত্ব নেন এসিল্যান্ড স্যার। এ সময় আমাদের খাবার সরবরাহ এবং নিয়মিত খোঁজখবর রেখে রোগমুক্তির জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। গতকাল সকালে তিনি আমার এতিম সন্তানদের জন্য ঈদের জামা কাপড় ও ঈদ উপহার সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। আমি ইউএনও এবং এসিল্যান্ডে স্যারের এ ঋণ কোনোদিন পরিশোধ করতে পারব না।

আল মামুন বলেন, আল্লাহর রহমতে মৃত রহিমের স্ত্রী এখন করোনা নেগেটিভ। বাবা মারা যাওয়ার পর  পরম মমতায় যখন সন্তানদের বুকে টেনে নেবেন ঠিক তখনই মায়ের করোনা পজিটিভ। বাড়ি লকডাউন করতে এসে যখন দেখলাম শিশু বাচ্চাদুটিকে দেখভাল করার মতো কেউ নেই তাই মানবিক দায়িত্ব হিসেবে আমি ও আমার স্ত্রী তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। তাই এ পরিবারটি ছেড়ে ঈদের কথা আমরা ভাবতেই পারিনি। তবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তাদের সাথে ঈদের প্রকৃত আনন্দ উপভোগ করেছি। আত্মতৃপ্তি পেয়েছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা