kalerkantho

সোমবার । ২২ আষাঢ় ১৪২৭। ৬ জুলাই ২০২০। ১৪ জিলকদ  ১৪৪১

২ মাস পর ফেরত গেল ভারতীয় ট্রাক-চালক

হিলি প্রতিনিধি   

২৪ মে, ২০২০ ১২:৪২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



২ মাস পর ফেরত গেল ভারতীয় ট্রাক-চালক

করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে সাধারণ ছুটি ও লকডাউন চলার কারণে দুই মাসের মতো সময় ধরে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে আটকে ছিল পণ্য নিয়ে আসা ভারতীয় তিন ট্রাকসহ চালক ও সহকারীরা। পরে শনিবার (২৩ মে) তারা ভারতে ফেরত যায়। দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে আটকা থাকায় টাকা-পয়সা শেষ হয়ে যাওয়ায় খাবারের কষ্টসহ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন তারা।

গতকাল বিকাল ৫টার দিকে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে আটকে পড়া তিনটি ট্রাক, এর চালক ও সহকারী মিলিয়ে ছয়জন ভারতে ফেরত যান। এ সময় সেখানে বিজিবি, কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। গত ২৫ মার্চ আমদানি করা টাইলসের মাটি নিয়ে আসে ওই তিন ট্রাক। পরে ২৬ মার্চ থেকে সরকারি সাধারণ ছুটি ও লকডাউনের কারণে ভারত না ট্রাকগুলোর চালক ও সহকারীদের ফেরত নেয়নি। দীর্ঘদিন তারা বন্দরে আটকা ছিলেন।

দেশে ফেরত যাওয়া ভারতীয় ট্রাকচালক রাজেশ ও বিপ্লব বলেন, দুই মাসের মতো সময় হয়ে গেল আমরা ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছিলাম। আমাদের সঙ্গের টাকা শেষ হয়ে যায়, এতে খাবার সংকটে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলাম। বন্দরের লোকজন আমাদের যে খাবার দেয়, তা দিয়েই আমাদের জীবন বাঁচে। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। এ নিয়ে তারাও খুব টেনশনে ছিল। পরে আমাদের আবেদনের পরিপেক্ষিতে অনুমতি মেলায় আমরা দুই মাস পর ভারতে ফিরে যাচ্ছি।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এর পর থেকে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়াও ভারতেও লকডাউন চলার কারণে কোনো পণ্য রপ্তানি করছে না। এ অবস্থায় তিনটি ট্রাকে চালক ও সহকারীরা বন্দরের ভেতরে আটকে পড়ে। পরে ট্রাকগুলো থেকে পণ্য খালাস হয়। তবে ভারতে লকডাউন চলার কারণে দেশটির কর্তৃপক্ষ তাদের নিচ্ছিল না। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ খাবার থেকে শুরু করে নিত্যপণ্য সরবরাহ করে তাদের সহায়তা করে। এ বিষয়ে বেশ কয়েকবার ভারতকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। পরে অনুমতি মেলায় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আটকে থাকা তিনটি ট্রাক, এর চালক ও সহকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা