kalerkantho

বুধবার । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৭  মে ২০২০। ৩ শাওয়াল ১৪৪১

ব্যক্তি উদ্যোগে বিনামূল্যের 'ঈদ আনন্দ বাজার'

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৩ মে, ২০২০ ১৬:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্যক্তি উদ্যোগে বিনামূল্যের 'ঈদ আনন্দ বাজার'

অকালে স্বামী হারিয়েছেন সুফিয়া বেগম (৩৮)। বাসাবাড়িতে কাজ করে কোনো রকমে তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে সংসার চলছিল তাঁর। কিন্তু করোনা দুর্যোগে বেকার হয়ে পড়েন এই বিধবা নারী। খেয়ে না খেয়ে খুব কষ্টে দিনগুলো কাটছিল তাঁর। অসহায় এই নারীকে আজ আমন্ত্রণ জানানো হয় ঈদ আনন্দ বাজারে। সেখান থেকে তিনি বিনামূল্যে দুই ধরণের চাল, তেল, দুধ, সেমাই, লবন, চিনি ও পরণের নতুন শাড়ীসহ ১২ ধরণের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পেয়েছেন। অন্তত এক সপ্তাহের খাবার পেয়ে তার মুখে অনেকদিন পর হাসি ফুটেছে।

সুফিয়া বেগমদের মতো যারা অনেক কষ্টে করোনার দিনগুলো পার করছিলেন, তাদের জন্য কিশোরগঞ্জ সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী এনায়েত করিম অমি আজ শনিবার দুপুরে একেবারে ব্যক্তি উদ্যোগে আয়োজন করেন এক পরিবেশবান্ধব ও মানবিক ঈদ আনন্দ বাজার। শহরের নগুয়ার বিন্নগাঁও মহল্লায় তাঁর বাসার সামনে খোলা জায়গায় এ ব্যতিক্রমধর্মী বাজারের আয়োজন করেন তিনি। 

কোনো ধরণের আনুষ্ঠানিকতা না করে অভাবী লোকজনের জন্য খুলে দেওয়া হয় এ বাজার। সবাই নিজের হাতে সুশৃঙ্খলভাবে পণ্যগুলো নিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরেন। বাজারে যাওয়া লোকজন জানান, এমন ব্যতিক্রমধর্মী ত্রাণ তৎপরতা তাঁরা আর দেখেননি। সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে এখানে যেভাবে লোকজনকে ঈদের উপহার দেওয়া হলো তা এক কথায় অসাধরণ উদ্যোগ।

প্রথমে প্রতিটি লোককে জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটিয়ে ঢুকানো হয় বাজারে। পরে তাঁদের সবাইকে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করিয়ে পরতে দেওয়া হয় হ্যান্ড গ্লাবস। এরপর স্বেচ্ছাসেবকরা তাঁদের নিয়ে যান পণ্যগুলোর সামনে। বিভিন্ন টেবিলে থরে থরে সাজানো জিনিসগুলো তাঁরা নিজের হাতে ব্যাগে ভরে আবার বাজার ত্যাগ করেন।

ঈদ আনন্দ বাজারের আয়োজক এনায়েত করিম অমি বলেন, মূল উদ্দেশ্য লোকজনকে শৃঙ্খলা শেখানো। সামনের দিনগুলো আমাদের আরও সতর্ক থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। তাই প্রতিটি আয়োজনে করোনা ঝুঁকির বিষয়টি অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমার আয়োজনে এ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। 

তিনি জানান, বাজারে উপস্থিত প্রতিটি লোককে তার পরিবারের জন্য এক কেজি পোলাও চাল, পাঁচ কেজি সাধারণ চাল, এক প্যাকেট সেমাই, এক কেজি চিনি, আধা লিটার তেল, এক প্যাকেট লবন, একটি সাবান, একটি হ্যান্ড সিনিটাইজার, একটি মাস্ক, শ্যাম্পু ও নারীদের জন্য একটি নতুন শাড়ি আর পুরুষদের জন্য একটি করে লুঙ্গি উপহার দেওয়া হয়। প্রথম পালায় ২০০ পরিবারের জন্য আয়োজনটি করা হয়। ঈদের পরে তা আরও বিস্তৃত করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা