kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

আমার মোবাইল নাম্বার তো ১৩ জনের নামের সাথে...

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২৩ মে, ২০২০ ১৫:৫১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমার মোবাইল নাম্বার তো ১৩ জনের নামের সাথে...

গত ১০ বছর ওমানে থেকে আধাপাকা বাড়ি ছাড়াও সহায় সম্পদ করে দেশে ফিরেই মামুন মিয়ার ভাগ্যে জুটেছে করোনা দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আর্থিক সহায়তা ২৫০০ টাকার তালিকায় নাম। আর এ তালিকা করেছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য। জানতে চাইলে ওই ইউপি সদস্য এ প্রতিনিধিকে বলেন, নাম দিছি আমি, চেক করবো সরকার, এতে আপনাদের কি?

এ ধরনের দম্ভোক্তি করেছেন ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. এখলাস উদ্দিন খোদা নেওয়াজ। গতকাল শুক্রবার দুপুরের পর তিনি মোবাইল ফোনে এ ধরনের কথা বলেন। 

ওই বিদেশফেরত মামুন মিয়া হচ্ছেন বাড়া গ্রামের মো. মফিজ উদ্দিনের পুত্র। তাঁর রয়েছে আধা পাকা বাড়ি, গবাদি পশু ছাড়া বাড়ির সামনে ৫০ শতক জায়গায় ফিসারি। এ বিষয়ে মামুন মিয়া বলেন, বিদেশ থাকলেই কি আমি গরিব হইতে পারি না। আমার চেয়েও তো বড়লোকরার নাম উঠছে। আর আমার মোবাইল নাম্বার তো ১৩ জনের নামের সাথে দেওয়া হইছে। এইডা কোনো দোষ না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই ইউনিয়নে মোট ৫৩০জন অসহায় ও হত দরিদ্ররা প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া আর্থিক সহায়তা পাবেন। অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও বেশ কয়েকজন ইউপি সদস্য তাঁদের পছন্দ মতো লোকদের এই তালিকায় নাম উঠিয়ে বিশেষ ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

এই তালিকায় বিত্তশালী পাকা বাড়ি আছে এমন ব্যক্তিদের নামও অর্ন্তভুক্ত রয়েছে। তালিকাতে রয়েছে একই পরিবারের একাধিক সদস্য। ভিজিডি ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে নাম থাকার পরও এ তালিকায় নাম দেয়া হয়েছে তাদের। এ ছাড়া ওয়ার্ড ভিত্তিক নাম তালিকায় বণ্টনের অভিযোগও রয়েছে। 

এ ব্যাপারে গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ই্উএনও) বরাবরে এ অভিযোগ করেন ভুটিয়ারকোনা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোহাম্মদ জিএম। অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেঁজুতি ধর জানান, তালিকায় কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

মাওহা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কবীর উদ্দিন অনিয়ন ও দুর্নীতির সত্যতা স্বীকার করে জানান, তালিকা প্রণয়নের বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। প্রধানমন্ত্রী দিয়েছিলেন রিকশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর, নির্মাণ শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক, দোকান-কর্মচারীসহ নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য। এ তালিকায় লাখপতি আর শত শত মন ধান পায় এমন কৃষকের নামও রয়েছে। তালিকা প্রণয়নে চরম দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন ও দুস্থদের জন্য আড়াই হাজার টাকা করে প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ উপহার মাওহা ইউনিয়নে পাচ্ছেন ৫৩০ জন। ৯টি ওয়ার্ডের প্রত্যেক ওয়ার্ডে প্রায় ৫৯ জন তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা ছিল। অথচ এ ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডে ২৩০ জনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। 

এ ব্যাপারে ওয়ার্ড  ইউপি সদস্য এখলাস উদ্দিন খোদা নেওয়াজ জানান, আমি তালিকার বিষয়ে কিছুই জানি না। কতজন এ ওয়ার্ডে হয়েছে তাও বলতে পারব না। চেয়ারম্যান বলতে পারবেন। 

এদিকে শুধুমাত্র ১নম্বর ওয়ার্ডের ধারাকান্দি গ্রামের মৃত গফুর আলীর ছেলে মো. মজিবুর রহমান (তালিকায় ক্রমিক নং ২৪০), মজিবুর রহমানের স্ত্রী মোছা. মনোয়ারা (২৪১), তার দুইভাই সাইফুল মিয়া (২৪২), বাবুল মিয়া (২৪৫), তার মা ফুলবানু (৩৫৭) নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমন অনেক পরিবারের একাধিক সদস্যকে প্রধানমন্ত্রীর নগদ উপহারের তালিকাভুক্ত করার প্রমাণ মিলেছে। একই  গ্রামের মৃত আনফর আলীর ছেলে মো. আবদুল জলিল (২৪৪), তার ভাই মো. আরশাদ আলী (২৫০) আর আরশাদ আলীর স্ত্রী মোছা. রিপার নামে  রয়েছে প্রতিমাসে ৩০ কেজি চালের ভিজিডি কার্ড। 

এ ওয়ার্ডের  ইউপি সদস্য এন্ট্রাস মিয়া বলেন, গ্রামের দরিদ্র মানুষের আইডি কার্ডের ফটোকপি আমি এনেছিলাম, পরে তালিকায় কাদের নাম উঠানো হয়েছে তা আমার জানা নেই।

অভিযোগকারী গোলাম মোহাম্মদ জিএম মাষ্টার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নগদ টাকার উপহার তালিকা প্রণয়নে একটি কমিটি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি। এক্ষেত্রে তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি হওয়ার আমি প্রশাসনের কাছে প্রতিকার চেয়েছি।

এ বিষয়ে মাওহা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রমিজ উদ্দিন স্বপনের মোবাইলে কথা বলার চেষ্টা করলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা