kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

বসতঘর নির্মাণে সহযোগিতা পাচ্ছেন মণিরামপুরের ক্ষতিগ্রস্থরা

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি   

২৩ মে, ২০২০ ১৫:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বসতঘর নির্মাণে সহযোগিতা পাচ্ছেন মণিরামপুরের ক্ষতিগ্রস্থরা

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে যশোরের মনিরামপুর। এখানে গাছ চাপা পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন। নিহত পরিবারকে ২০ হাজার টাকা সহায়তা করছে উপজেলা প্রশাসন। এ ছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের ঘর নির্মাণসহ নগদ বিভিন্ন সহযোগিতা করবে প্রশাসন।

জানা গেছে, আম্ফানে বিধ্বস্ত হয়েছে অসংখ্য কাঁচা ও আধা পাকা ঘরবাড়ি। ভেঙ্গে গেছে অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিদ্যুতের প্রায় ৩০০ পোল (খুঁটি) ভেঙ্গে এবং তার ছিঁড়ে গত তিনদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। অচল হয়ে পড়েছে টেলিফোন লাইন। কয়েক হাজার হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ভেঙ্গে পড়েছে হাজার হাজার গাছপালা। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। সরকারিভাবে এসব মানুষকে এখনও পর্যন্ত কোন সাহায্য করা হয়নি।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্পানে পৌরশহরের গাংড়া, মহাদেবপুর, হাকোবা, দুর্গাপুর, কামালপুর, বিজয়রামপুর এবং উপজেলার মশ্বিমনগর, ঝাঁপা, চালুয়াহাটি, শ্যামকুড়, খানপুর, হরিহরনগর, মনোহরপুর, নেহালপুর, কুলটিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামে পাঁচ শতাধিক কাঁচা ও আধা পাকা বাড়িঘর বিধ্বস্থ হয়। হোগলাডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রইচ উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসা, চাঁদপুর মাঝিয়ালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সবুজ পল্লী মহাবিদ্যালয়, মনিরামপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় অর্ধশত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র সরকার জানান, শুক্রবার পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ ২৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তালিকা হাতে পেয়েছি। যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হবার কারণে ক্ষতির সঠিক পরিসংখ্যান করতে আরো দুই একদিন সময় লাগতে পারে ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার জানান, শতকরা ৮০ ভাগ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আম, কাঁঠাল, পেঁপে, জামরুল, লেবুসহ বিভিন্ন ফল ও সবজি ক্ষেত।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তাণ্ডবে মণিরামপুরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য এমপি, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড. আনোয়ার হাওলাদার। যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ, মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ শরিফীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগন।

ইউএনও আহসান উল্লাহ শরিফী বলেন, নিহতেদর দাফন-কাফন ও সৎকারের জন্য নিহত পরিবারকে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ২০ হাজার করে টাকা দেওয়া হবে। দ্রুত এই অর্থ নিহতদের স্বজনদের হাতে পৌঁছাবে। এ ছাড়া ওই পরিবারগুলোসহ উপজেলাজুড়ে যাদের বসতঘর ভেঙেছে তাদেরকে সরকারি টিন ও নগদ অর্থ দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় তালিকা এখনো হাতে আসেনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা