kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

ভাঙন প্রতিরোধের বালু তুলতে ভাঙন তৈরি!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম   

২৩ মে, ২০২০ ১৪:৪৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাঙন প্রতিরোধের বালু তুলতে ভাঙন তৈরি!

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রকল্পভূক্ত স্থানে নদের কিনার থেকে বালু তুলে ভাঙনের মুখে ঠেলে দিয়ে সেই স্থানে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ করা হচ্ছে। কিনার থেকে ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন করে সেই বালু বস্তায় ভরা হচ্ছে। ভাঙন শুরু হলে সেখানে বালুর বস্তা ফেলা হবে। একই সঙ্গে সিসি ব্লক ফেলা ও জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হবে। গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে রাজীবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের চরনেওয়াজী এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের পাউবো'র প্রকল্প স্থানে ওই চিত্র দেখা গেছে। ভাঙন প্রতিরোধে যেখানে সরকারি লাখ লাখ টাকা খরচ করা হচ্ছে সেখানে একই স্থানে কিভাবে বালু উত্তোলন করে ভাঙ্গনের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

কুড়িগ্রাম পাউবো'র অধীনে ভাঙন প্রতিরোধে প্রকল্প বাস্তবায়নের স্থানেই ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তুলছে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। কিনার থেকে উঠানো বালু বিক্রি করা হচ্ছে ঠিকাদারের কাছে। পাউবো'র নিয়ম অনুসারে যেস্থানে প্রকল্প রয়েছে সেখান থেকে কমপক্ষে দুই হাজার মিটারের মধ্যে কোনো ভাবেই বালু উঠানো যাবে না। কিন্তু রাজীবপুরে নদের কিনার থেকে ৫০ মিটারের মধ্য থেকে গত এক মাস ধরে বালু উঠানো হচ্ছে। এমন তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সানোয়ার হোসেন হোসেন নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নদের যে স্থানে ভাঙন প্রতিরোধে বালুর বস্তা ফেলা হবে সেই স্থান থেকেই ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। এতে পাউবা'র গৃহীত প্রকল্প ভেস্তে যাবে এটা নিশ্চিত বলা যায়।

ইউপি সদস্য আলম মিয়া বলেন, পাউবো'র দায়িত্ব প্রাপ্ত ঠিকাদার প্রকাশ্যেই ওই অনিয়ম করছে কিন্তু প্রকৌশলীরা চুপ করে রয়েছেন। এর কারণ কি। আমরা বারবার পাউবো'র প্রকৌশলীকে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী চঞ্চল চৌধুরী বলেন, আমি বারবার চেয়ারম্যানকে দূর থেকে বালু তুলতে বলছি কিন্তু তিনি তা শুনছেন না। আমি যখন ঘটনাস্থল থেকে চলে আসি আবার আগের স্থানে নেওয়া হয় ড্রেজার মেশিন।

একই চিত্র পাওয়া গেছে রৌমারী উপজেলার বলদমারা ঘাট ও ফুলুয়ারচর এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের যে স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন কাজের শুরুতেই যে ভাবে অনিয়ম আর পুকুর চুরির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে তাতে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ জলে ভেসে যাবে।

কুড়িগ্রাম পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনরোধে রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলাকে রক্ষা করতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দীর্ঘ মেয়াদি একটি প্রকল্পে গ্রহণ করা হয়। এতে রৌমারীর ঘুঘুমারী থেকে ফুলুয়ারচর ঘাট পর্যন্ত সাড়ে ৩ কিলোমিটার এবং রাজীবপুর সদরের মেম্বারপাড়া থেকে মোহনগঞ্জ বাজার পর্যন্ত ৩ হাজার ৮০০ মিটার জুরে নদের তীরে সিসি ব্লক ও জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হবে। চলতি বছরে ১০ কোটি টাকা কাজ চলছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কুড়িগ্রাম পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল হক বলেন, এ বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। আমি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা