kalerkantho

বুধবার । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৭  মে ২০২০। ৩ শাওয়াল ১৪৪১

যমুনা সার কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে মরে ভেঁসে উঠল পুকুরের মাছ

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি   

২৩ মে, ২০২০ ০৬:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যমুনা সার কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে মরে ভেঁসে উঠল পুকুরের মাছ

যমুনা সার কারখানার সার পঁচে ও বিষাক্ত বর্জ্য এক মাছ চাষীর পুকুরের পানিতে মিশে মরে ভেঁসে উঠল ১০ লাখ টাকার মাছ। জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলিঘা ইউনিয়নের কান্দারপাড়া গ্রামের মাছ চাষী ও পোগলদিঘা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের পুকুরে এ ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, কান্দারপাড়া গ্রামে ২ বিঘা জমির পুকুরে কয়েক ভাই মিলে ২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ শুরু করি। মাছগুলো বড় হয়ে যাওয়ায় বর্তমান এর বাজার মূল্য ছিল ১০ লাখ টাকা। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে যমুনা সার কারখানার সার পঁচে ও বিষাক্ত বর্জ্য পানিতে মিশে পুকুরে ঢুকে যায়। ফলে সমস্ত মাছ মরে যায়। পুকুরে রুই কাতলা, তেলাপিয়া, সিলভার ও কার্প জাতীয় মাছসহ প্রায় ১৫ প্রজাতির মাছ ছিল। সব মাছ মরে ভেসে উঠায় বিনিয়োগসহ সব চলে গেছে।

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, যমুনা সার কারখানার সার যত্রতত্রভাবে ফেলে রাখায় সেগুলো পঁচে ও কারখানার অন্যান্য বিষাক্ত বর্জ্য পুকুরের পানিতে মিশে সব মাছ মরে গেছে। গত বছরও এভাবে মাছ মরে ৮ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। কারখানার কর্তৃপক্ষের কাছে সহায়তা চেয়ে আবেদন করে কোনো লাভ হয়নি। এবারে যমুনা সার কারখানার কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণের আবেদন করবেন তিনি।

জানা যায়, দৈনিক এক হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনে সক্ষম যমুনা সার কারখানা ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য ও অ্যামোনিয়া গ্যাস সরাসরি বাতাস, মাটি ও পানিতে ছাড়া হয়। এতে কারখানার পার্শ্ববর্তী বিল ও পুকুরগুলোতে মাছ প্রায়ই গণহারে মারা য়ায়। এছাড়া জমির ফসল ও গাছপালা ক্ষয়ক্ষতিসহ অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষ নিয়মিত স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ভুগছে।

এদিকে কারখানার বাফার গুদামের হাজার হাজার মেট্রিক টন সার নির্ধারিত গুদামে সংরক্ষণ না করে খোলা আকাশের নিচে জমা করে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে ফেলে রাখা হয়েছে। সেগুলো বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে এবং তা বিভিন্ন বিলে ও পুকুরের পানিতে মিশে সব মাছ মরে ভেসে উঠছে। এতে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো প্রতিকার করছে না।

এ ব্যাপারে যমুনা সার কারখানার মহাব্যবস্থাপক ( প্রশাসন) মঈনুল হক কালের কন্ঠকে বলেন, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তারা আবেদন করলে বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা