kalerkantho

বুধবার । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৭  মে ২০২০। ৩ শাওয়াল ১৪৪১

ভারত-সিঙ্গাপুর থেকে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি আমদানি করবে বাংলাদেশ

শিমুল নজরুল, চট্টগ্রাম   

২৩ মে, ২০২০ ০৪:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারত-সিঙ্গাপুর থেকে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি আমদানি করবে বাংলাদেশ

প্রতিবেশী দেশ ভারত ও সিঙ্গাপুর থেকে পরিবেশবান্ধব ‘লো সালফার’ যুক্ত জ্বালানি তেল আমদানি করছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আহ্বান করা দরপত্রে ইন্ডিয়ান অয়েল কম্পানি লিমিটেড ও ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুর সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হয়। বিপিসির কর্মকর্তারা ১০ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেল সরবরাহের দরপত্র মূল্যায়ন শেষে গত ২০ মে এই দুই প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচিত করেন। আগামী জুলাই-ডিসেম্বরর মধ্যে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) পরিবেশবান্ধব ‘লো সালফার’ যুক্ত জ্বালানি তেল আমদানির জন্য গত ৭ মে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে। দুটি ক্যাটাগরিতে মোট ১০টি বিদেশি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। এর মধ্যে ‘এ’ গ্রুপে সিংগাপুরের রাষ্ট্রায়াত্ব প্রতিষ্ঠান ইউনিপ্যাক লিমিটেড জ্বালানি সরবরাহে সর্বনিম্ন দাম দেয় এবং বি গ্রুপে ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল কম্পানি লিমিটেড (আইওসিএল) ‘লো সালফার’ যুক্ত জ্বালানি তেল সরবরাহে সর্বনিম্ন দর প্রদান করে। গত ২০ মে বিপিসির বোর্ড সভায় এই দুই প্রতিষ্ঠানকে জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়।

তবে ফার্নেশ অয়েলের ক্ষেত্রে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেওয়ার কারণে সেটি বাতিল করা হয়েছে। যেহেতু দেশে এই মুহূর্তে ফার্নেস অয়েলের চাহিদা কম সেজন্য দরপত্রে ফার্নেশ অয়েল সরবরাহের একাধিক প্রতিষ্ঠান অংশ নেইনি বলে জানান বিপিসির কর্মকর্তরা।

সিংগাপুরের রাষ্ট্রায়াত্ব প্রতিষ্ঠান ইউনিপ্যাক লিমিটেড বাংলাদেশে ৪ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এবং ৭০ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল সরবরাহ করবে। যার মধ্যে জুলাই মাসে এক লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল ও ১০ হাজার টন জেট ফুয়েল, আগস্টে ৮০ হাজার টন ডিজেল ও ১০ হাজার টন জেট ফুয়েল, সেপ্টেম্বরে ৭০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল, অক্টোবরে ৫০ হাজার টন ডিজেল ও ১০ হাজার টন জেট ফুয়েল, নভেম্বরে ৫০ হাজার টন ডিজেল এবং ১০ হাজার টন জেট ফুয়েল এবং ডিসেম্বরে ৮০ হাজার টন ডিজেল ও ১০ হাজার টন জেট ফুয়েল সরবরাহ করবে।

এদিকে, ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল কম্পানি লিমিটেড জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৪ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ৫০ হাজার মেট্রিকটন জেট ফুয়েল এবং ৩০ হাজার মেট্রিক টন অকটেন (মোগ্যাস) সরবরাহ করবে। যার মধ্যে জুলাইয়ে ৫০ হাজার টন ডিজেল ও ১০ হাজার টন জেট ফুয়েল, আগস্টে এক লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল ও ১০ হাজার টন জেট ফুয়েল, সেপ্টেম্বরে ৬০ হাজার টন ডিজেল, অক্টোবরে ৮০ হাজার টন ডিজেল ও ১০ হাজার টন জেট ফুয়েল, নভেম্বরে ৫০ হাজার টন ডিজেল ও ১০ হাজার টন জেট ফুয়েল এবং ডিসেম্বরে ৮০ হাজার টন ডিজেল ও ১০ হাজার টন জেট ফুয়েল সরবরাহ করবে।

বিপিসির পরিচালক (অপারেশন ও পরিবহন) সৈয়দ মেহদী হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, দরপত্রে বিদেশি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছিল। তার মধ্যে সিঙ্গাপুরের ইউনিপ্যাক ও ভারতের ইন্ডিয়াল অয়েল কম্পনি লিমিটেড (আইওসিএল) সর্বনিম্ন দর দিয়েছে। বিপিসির বোর্ড সভায় এই দুই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এই কম্পানিগুলোর মধ্যে ভারতের আইওসিএল থেকে ২০১২-১৩ অর্থবছরের পরে আর কোনো তেল আমরা আমদানি করিনি। দীর্ঘ সাত বছর পরে ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে থেকে আমরা জ্বালানি তেল আমদানি করতে যাচ্ছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা