kalerkantho

বুধবার । ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩ জুন ২০২০। ১০ শাওয়াল ১৪৪১

সেই শিবির ক্যাডারকে স্বেচ্ছাসেবক কমিটি থেকে অব্যাহতি

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

২২ মে, ২০২০ ২৩:১৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সেই শিবির ক্যাডারকে স্বেচ্ছাসেবক কমিটি থেকে অব্যাহতি

জাহিদুল ইসলাম

অবশেষে কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার সেই শিবির ক্যাডার জাহিদুল ইসলামকে উপজেলা প্রশাসনের গঠিত স্বেচ্ছাসেবক কমিটির তালিকা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। জাহিদ নামের ওই শিবির ক্যাডার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশের রাজনীতি ও সামাজিক ব্যবস্থা নিয়ে নিজ ফেসবুক আইডিতে আপত্তিকর লেখালেখির অভিযোগে কুতুবদিয়া থানা পুলিশ তাকে গত ১৭ মে দিবাগত ভোর রাতে আটক করে।

আটকের পর কক্সবাজারের জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একজন উপ-পরিদর্শক বাদী হয়ে উক্ত শিবির ক্যাডারের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ মে কালের কণ্ঠ অনলাইনে-‘কুতুবদিয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে শিবির ক্যাডারের প্রতিরোধ চেষ্টা’ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিদারুল ফেরদৌস কালের কণ্ঠকে জানান-‘দ্বীপটির ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি ইউনিয়নেই জামায়াত-শিবিরের তৎপরতা বেশি। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হবার কারনে দ্বীপের জামায়াত-শিবিরের ক্যাডারগণ বরাবরই আমার ওপর নানা কারণে ক্ষিপ্ত।’

তিনি জানান, শিবির ক্যাডার জাহেদুল ইসলাম কুতুবদিয়া দ্বীপের উত্তর লেমশীখালী গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক মওলানা মঈনুল হক কুতুবীর পুত্র। জাহেদুল দ্বীপের আল ফারুক মাদরাসা ছাত্র শিবিরের সভাপতি ছিলেন। তার পুরো পরিবারই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

থানার ওসি জানান, শিবির ক্যাডার জাহিদ তার ফেসবুক আইডিতে প্রায়শ সরকার বিরোধী আপত্তিকর লেখালেখি করার কারণে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে আটকের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত ১৭ মে দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় পুলিশ তার ঘর ঘেরাও করলে সারা রাত ধরে পুলিশকে নাকানি-চুকানি খেতে হয়েছে। পুলিশ যখন তাকে ধরার জন্য ঘর ঘিরে ফেলে তখনই দরজা-জানালা সব বন্ধ করে দিয়ে জঙ্গি ষ্টাইলে ওই শিবির ক্যাডার পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ারও চেষ্টা করে।

এমনকি ঘরের ভেতর থেকে মোবাইলে ফেসবুক লাইভ দিয়ে জাহেদুল নামের ওই শিবির ক্যাডার দ্বীপবাসীকে পুলিশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার আহবান জানাতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত ভোরের দিকে পুলিশ তাকে আটক করতে সমর্থ হয়।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন এ বিষয়ে কালের কণ্ঠকে জানান-‘আটকের আগে তাকে যতটুকু চেনা যায়নি কিন্তু পরে তার ভয়ংকর চিত্র ফুটে উঠেছে। আটক হওয়া শিবির ক্যাডার তার ফেসবুক আইডিতে জাতির জনককে নিয়ে এমনই এক মন্তব্য লিখেছেন যা উচ্চারণযোগ্য নয়।’ পুলিশ সুপার বলেন, শিবির ক্যাডার জাহিদকে আটকের পর অনেক ব্যারিস্টার, রাজনীতিক এমনকি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েও তাকে ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, আটক হওয়া শিবির ক্যাডার কুতুবদিয়া উপজেলা প্রশাসনের গঠিত ত্রাণ বিতরণের স্বেচ্ছাসেবক কমিটির একটি ইউনিয়ন শাখার প্রধান। উপজেলা প্রশাসন দ্বীপে এরকম ১৩০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেছে। কিন্তু উক্ত কমিটিতে সরকার সমর্থিত সংগঠনের নেতা-কর্মীদের স্থান হয়নি। এ সব বিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মেজবাহুর রহমান তুহিন, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আবু জাফর সিদ্দিকী ও যুগ্ম আহবায়ক সেলিম উদ্দিন লিটন জানিয়েছেন, স্বেচ্ছাসেবক কমিটিতে তাদের সংগঠনের কোনো নেতা-কর্মীকে রাখা হয়নি। বরং বেশির ভাগই স্থান পেয়েছে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা। 

এদিকে উপজেলা প্রশাসনের গঠিত স্বেচ্ছাসেবক কমিটির একজন সদস্য হয়েও অর্থাৎ সরকারের ভেতর থেকেই কৌশলে শিবির ক্যাডার জাহিদুল সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আটকের ৪ দিনের মাথায় তাকে এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউল হক মীর বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরিত উক্ত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলেন-‘সম্প্রতি জাহিদুল ইসলাম পিতা-মঈনুল হক নামে এক স্বেচ্ছাসেবককে পুলিশ আটক করে এবং পরবর্তীতে শুনা যায় যে, সে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

প্রকৃতপক্ষে তার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে উপজেলা প্রশাসন অবগত ছিল না। স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে নিয়োজিত করার পর থেকে উপজেলা প্রশাসন তাকে শুধুমাত্র একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসাবেই বিবেচনা করত। এক্ষণে তার উল্লিখিত বিতর্কিত বিষয়ের খবর শুনার পর উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক তাকে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।’

এদিকে উপজেলা প্রশাসনের গঠিত স্বেচ্ছাসেবক কমিটিতে আরো অনেক শিবির ক্যাডার রয়েছেন। তারা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে কৌশলে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে ইউএনও জিয়াউল হক মীর এ বিষয়ে বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীদের দায়-দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসন বহন করবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা