kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৯  মে ২০২০। ৫ শাওয়াল ১৪৪১

ঘরে থাহনেরই কায়দা নাই, ঈদ করমু ক্যামনে!

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

২২ মে, ২০২০ ২০:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘরে থাহনেরই কায়দা নাই, ঈদ করমু ক্যামনে!

ঘরে থাহনেরই কায়দা নাই, ঈদ করমু ক্যামনে! ঝড়ে মোগো ঘরের পোতার মাডিও (মেঝের মাটি) ধুইয়া লইয়া গ্যাছে। পোলামাইয়া লইয়া তিন দিন ধইর‌্যা আশ্রয় কেন্দ্রে আছি। আরো কতদিন থাহা লাগে আল্লায় জানে। এমন হতাশার কথা শোনালেন বাগেরহাটের শরণখোলার সাউথখালাী ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত বগী সাতঘর গ্রামের মো. কামাল হাওলাদার (৩৫)। তার মতো এবার ঈদ হবে না ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে নদী ভাঙনে নিঃস্ব বলেশ্বর পারের বগী, সাতঘর, দশঘর, দক্ষিণ সাউথখালী, গাবতলা ও দক্ষিণ খুড়িয়াখালীসহ সাতটি গ্রামের ২০০ পরিবারে।

বলেশ্বরের নোনা জলে বন্দি হয়ে পড়েছে তারা। অনেক পরিবারে রোজা খুলে কি খাবে সেই নিশ্চয়তাও নেই। এবার ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ওইসব পরিবারের সহস্রাধিক মানুষ। শুক্রবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় ওই দুর্গত এলাকার মানুষের দুর্দশার চিত্র। এসময় সাতঘর গ্রামের মমিন উদ্দিন হাওলাদার (৮০) জানান, ঝড়ের দিন (বুধবার) বিকেলে তার তিন ছেলে ও তাদের বউ ছেলেমেয়ে নিয়ে পার্শ্ববর্তী সুন্দরবন দাখিল মাদরাসা কাম সাইক্লোন শেল্টানে যান। রাতে বাঁধ ভেঙে তার ও তিন ছেলের ঘরের সমস্ত মালামাল ভাসিয়ে নিয়ে যায়। ঘরের নিচের মাটিও ধুয়ে নিয়ে গেছে পানিতে। এখনো ঘরবাড়িতে হাঁটু পানি। দিনের বেলা বাইরে ঘোরাফেরা করে রাত হলে আশ্রয় কেন্দ্রে গিয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। ভাঙা বাঁধ দিয়ে এখনো বলেশ্বরের জোয়ার পানি ঘরে ঢুকছে। বাঁধ না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরতে পারবেন না তারা।

বগী দশঘর এলাকার বিধবা রিজিয়া বেগম (৬০) তার প্রতিবন্ধী বিধবা মেয়ে খালেদাকে (৩০) নিয়ে চরম কষ্টে রয়েছেন। আয়রোজগারের কোনো লোক নেই তার। এক বেলা খেলে আরেকবেলা খাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। মানুষের সাহায্যে চলে বিধবা মা-মেয়ের জীবন। রিজিয়া বেগম হতাশা প্রকাশ করে জানান, ঈদ কি তা তারা ভুলে গেছে বহু আগেই। 
 
বগী গ্রামের সমাজসেব মো. রুস্তম আলী খলিফা জানান, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে রিংবাঁধ ভেঙে বলেশ্বরের লবন পানি আটেক কয়েকটি গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। শত শত মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। রান্নাবান্না বন্ধ রয়েছে। এসব মানুষ রাতের বেলা আশ্রয় কেন্দ্রে আবার অনেকে তাদের আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে রাত কাটাচ্ছে। তারা একপ্রকার মানবেতর জীবনযাপন করছে। এসব পরিবারে এবছর ঈদ হবে না। 

চার নম্বর বগী ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রিয়াদুল পঞ্চায়েত এবং ছয় নম্বর দক্ষিণ সাউথখালী ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জাকির হাওলাদার জানান, ভাঙা বাঁধ দিয়ে দিনে দুইবার বলেশ্বরের জোয়ারে লবণ পানি গ্রামে ঢুকছে। 

বগী দশঘর এলাকার ২১ পরিবার, সাতঘর এলাকার ১১ পরিবার, দক্ষিণ সাউথখালীর ও গাবতলার ৮০ পরিবার, দক্ষিণ চালিতাবুনিয়ার ৫০ পরিবার এবং দক্ষিণ খুড়িয়াখালী এলকার ৪০ পরিবার মারাত্মক দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। ঘরের মধ্যে কাদা-পানিতে থাকার কোনো উপায় নেই তাদের। টেকসই বাঁধ না হওয়া পর্যন্ত এদের দুঃখ যাবে না। এসব পরিবারে এবারের ঈদ ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মাটি করে দিয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা