kalerkantho

বুধবার । ২৮ বৈশাখ ১৪২৮। ১১ মে ২০২১। ২৮ রমজান ১৪৪২

মামলা প্রত্যাহারের হুমকি

কৃষক হুমায়ুনকে কুপিয়ে হত্যা, ১৫ দিনেও আটক হয়নি কেউ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

২০ মে, ২০২০ ১০:২০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কৃষক হুমায়ুনকে কুপিয়ে হত্যা, ১৫ দিনেও আটক হয়নি কেউ

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সদকি চরপাড়ায় কৃষক হুমায়ুন মন্ডলকে (৪৪) কুপিয়ে হত্যার ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের সাথে অভিযুক্ত একজন আসামিকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। বরং আসামি পক্ষের লোকজন তাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করে নেবার জন্যে নিহত হুমায়ুনের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে। একই সাথে এই হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে। হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিহতের স্ত্রী ও ছেলে মেয়েসহ পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছেন। পরিন্থিতির ভয়াবহতার কারণে নিহতের পরিবারের নিরাপত্তার জন্যে সেখানে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জমিসংক্রান্ত পূর্বশক্রতার জের ধরে সদকি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আনসার মহুরি ও তার লোকজন গত ৬ মে রাতে তারাবির নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হবার সময় একই এলাকার কৃষক হুমায়ন মন্ডলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। ওই রাতেই তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরদিন নিহতের ভাই সাইদুল ইসলাম আনসার মহুরিকে প্রধানসহ ৩৬ জনকে আসামি করে কুমারখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু ঘটনার ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ একজন আসামিকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পক্ষান্তরে মামলা করায় আসামিরাই উল্টো নিহতের পরিবারকে মামলা প্রত্যাহারে হুমকি নিচ্ছে, অন্যথায় নিহত হুমায়ুনের পরিবারকে আরো মূল্য দিতে হবে বলা হয়েছে।

সরেজমিনে সদকি চরপাড়ায় গেলে এলাকাবাসীরা জানান, নিহত কৃষক হুমাযুন ও তার পরিবারের লোকজন এলাকায় শান্তিপ্রিয় মানুষ। পক্ষান্তরে হুমায়ুন হত্যার দায়ে অভিযুক্ত আনসার মহুরিসহ অন্যরা আগে থেকেই নানাধরনের অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত এবং এবং আনসার মহুরি নিজে একজন ভূমিদস্য হিসেবে পরিচিত। এই করোনাকালেও আনসার মহুরি সরকারি চাল ভুয়া নামে বরাদ্দ এনে বাড়িতে রেখে বেশি দামে বিক্রি করার দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন। ৫-৬ মাস আগে আনসার মহুরি নিহত হুমায়ুনের চাচা মনসের মন্ডলের ১৩ শতক জমি জালিয়াতি করে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেয়। হুমায়ুন এ ঘটনার প্রতিবাদ করে আনসার মহুরিকে জমি ফিরিয়ে দেবার দাবি জানায়। এতে কাজ না হওয়ায় হুমায়ুন কুমারখালী থানা পুলিশ, পৌর মেয়র ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে অভিযোগ করেন। এরপর সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জ আনসার মহুরিকে ডেকে ঈদের আগেই হুমায়ুনের চাচার জমি নিয়মতান্ত্রিকভাবে ফেরত দেবার জন্যে নির্দেশ দিয়েছিলেন। 

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, সাংসদের নির্দেশনার কয়েকদিন পরেই জমি ফেরত না দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হুমায়ুনকেই দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয় আনসার মহুরি ও তার লোকজন। মামলার বাদী নিহত হুমায়ুনের ভাই সাইদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, আমার ভাই প্রতিবাদী মানুষ ছিলেন। আনসার মহুরি আমার চাচার জমি জালিয়াতি করে নেয়। আমার ভাই প্রতিবাদ করার কারণেই আমাদের বাড়ির সাথেই মসজিদ থেকে তারাবির নামাজ শেষে বের হবার সাথে সাথে তিন দিক থেকে ঘেরাও করে তারা ৩০-৩৫ জন মিলে আমার ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনার পনের দিন পরেও পুলিশ একজনকেও গ্রেপ্তার করতে পারল না। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। নিহতের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন জানান, আমার স্বামী একজন ভালো মানুষ। আমি তার হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি চাই। 

এদিকে এই হত্যা মামলার আসামীদের স্ত্রী-সন্তানদের পক্ষ থেকে রিতা আক্তার ও জাহানার খাতুন লিখিত অভিযোগ করে বলেছেন, ওই হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন লোকজন আমাদের প্রত্যেকের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। বর্তমানে আমরা ভয়ে নিজেদের বাড়ি ঘরে ফিরতে পারছি না। পুলিশও আমাদের কোনো সহায়তা করছে না।

কুমারখালী থানার ওসি মজিবর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, কৃষক হুমায়ুন হত্যার ব্যাপারে মামলা হয়েছে। আমরা এর মধ্যে এই হত্যার ক্লু উদ্ধার করেছি। আসামিদেরও গ্রেপ্তারের জন্যে অনেক সোর্স লাগানো হয়েছে। তিনি বলেন, আসামি পক্ষের অভিযোগ সঠিক নয়। তারা প্রকৃতই নানাধরনের অপরাধের সাথে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে আগেও দুটি খুনের অভিযোগ রয়েছে। নিহতের পরিবারের নিরাপত্তার জন্যে আমরা সেখানে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন করেছি।



সাতদিনের সেরা