kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

চাঁদার হিসেব নিয়ে দুপক্ষের হাতাহাতি, হার্টঅ্যাটাকে একজনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

১৫ মে, ২০২০ ১৮:১১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাঁদার হিসেব নিয়ে দুপক্ষের হাতাহাতি, হার্টঅ্যাটাকে একজনের মৃত্যু

রাজশাহীতে ট্রাক থেকে তোলা চাঁদার হিসেব চাওয়া শ্রমিকদের সঙ্গে সভাপতি গ্রুপের সঙ্গে শ্রমিকদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হার্টঅ্যাটাকে এক শ্রমিক মারা গেছেন। তার নাম সৌরভ (৩৫)। তিনি নগরীর মতিহার থানার খোজাপুর এলাকার আজিজুর রহমানের ছেলে।

আজ শুক্রবার দুপুর একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

শ্রমিকরা দাবি করেন, তারা রাজশাহী জেলা ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের ৩ বছর ধরে চাঁদা দিয়ে আসছেন। যার পরিমাণ ৩-৪ কোটি টাকা। কিন্তু এই টাকার কোনো হিসাব দেওয়া হচ্ছিল না। নেতারা টাকাগুলো লুটেপুটে খেয়ে নিচ্ছেন। এই টাকার হিসাব নিতে ও ঈদ বোনাসের দাবি জানাতে শুক্রবার ইউনিয়নের রাজশাহী কার্যালয়ে যান শ্রমিকরা। এ সময় ইউনিয়নের সভাপতি ফরিদ আহমেদ শ্রমিকদের কোনো হিসাব এবং ঈদ বোনাস দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেটি হাতাহাতিতে রুপ নেয়। এ সময় সৌরভ নামের এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান।

খবর পেয়ে পাশেই অবস্থিত বোয়ালিয়া থানা থেকে একদল পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। শুরুতে পুলিশ শ্রমিকদের ওপরই চড়াও হয়। পরে সৌরভের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ সেখান থেকে পিছু হটে।

শ্রমিকরা অভিযোগ করে জানান, রাজশাহী জেলা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের সভাপতি ফরিদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আক্কাছ আলী, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ পলক ও সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে সংগঠনের নামে রাস্তায় উঠানো চাঁদার কোটি কোটি টাকা লোপাট করা হচ্ছে। তারা আঙ্গুলফুলে কলাগাছে পরিণত হলেও এই করোনা দুর্যোগের মধ্যে শ্রমিকরা রয়েছেন চরম বিপাকে। আগামী ঈদকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের ঘরে ঘরে যেন কষ্টের মাতম চলছে। কিন্তু এই সময়েও সংগঠনের টাকা থেকে শ্রমিকদের সহযোগিতা করা হচ্ছে না। এতেই তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

তবে সভাপতি ফরিদ আহমেদ দাবি করেন, তারা কোনো টাকা লুটপাট করেননি। সব টাকার হিসেবে দেওয়া হবে। তবে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে উঠায় সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। একজন মারা গেছেন অসুস্থ হয়ে।’

নগরীর বোয়ালিয়া থানার ওসি তদন্ত মাহবুব আলম বলেন, একজন শ্রমিক মারা গেছেন হার্টঅ্যাটাকে। এ কারণে শ্রমিকরা তার লাশ নিয়ে গিয়ে দাফনের ব্যবস্থা করেন। আর সভাপতি-সম্পাদক আগামী রবিবার সমস্ত টাকার হিসেব দিবেন বলে মুচলেকা দিয়েছেন। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, রাজশাহীতে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নামে নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় লাঠিহাতে দাঁড়িয়ে প্রতিটি ট্রাক থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন হয় জোর করে। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন এই টাকার পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। কিন্তু এই টাকার কোনো হিসাব নাই শ্রমিকদের কাছে। এ নিয়ে কালের কণ্ঠে একাধিক অনুসন্ধানী খবর প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রতিদিন শ্রমিকদের নামে পকেট কাটা হচ্ছে ট্রাক মালিকদের কাছ থেকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা